স্মরণীয় বরণীয়

শিশুসাহিত্যিক মোহাম্মদ নাসির আলী

  নজরুল ইসলাম নঈম

১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘ভিনদেশি এক গল্পবুড়ো

এলেন এবার বাংলাদেশে

গল্প যদি শুনবে তবে

বরণ করো মিষ্টি হেসে।

আদর করে ভুলিয়ে তাকে

নিয়ে এলাম পথ দেখিয়ে

তোমাদের এই আসরে আজ

সবার আগে এলাম নিয়ে।’

 

বন্ধুরা, এ ছড়াটি কে লিখেছেন জানো? ছড়াটি লিখেছেন শিশুসাহিত্যিক মোহাম্মদ নাসির আলী। একটু অবাক লাগছে, তাই না? আমরা মোহাম্মদ নাসির আলীকে গল্পকার হিসেবেই চিনি। তিনি শিশুদের জন্য লিখেছেন মজার মজার অসংখ্য গল্প। তিনি এ ছড়াটি লিখেছেনÑ ‘ভিনদেশি এক বীরবল’ গ্রন্থের উৎসর্গপত্রে।

মোহাম্মদ নাসির আলী ১৯১০ সালের ১০ জানুয়ারি বিক্রমপুরের ধাইদা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম মোহাম্মদ হায়দার আলী শিকদার, মায়ের নাম কসিমুন নেসা। তিনি ছাত্র হিসেবে ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ১৯২৬ সালে গণিত বিষয়ে স্বর্ণপদকসহ প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। সাহিত্যচর্চা তিনি শুরু করেন ছেলেবেলাতেই। ১৯২৭ সালে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালে তার প্রথম গল্প প্রকাশিত হয় সুবিখ্যাত বার্ষিক ‘শিশুসাথী’তে। তখন তার বয়স মাত্র ১৭ বছর। তার মৌলিক গল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংকলন হলোÑ ‘লেবুমামার সপ্তকা-’। এটি তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বই। বইটি ১৯৬৮ সালে ইউনাইটেড ব্যাংক পুরস্কার লাভ করে। ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত ‘যোগাযোগ’ বইটি তার জন্য জয় করে আনে আন্তর্জাতিক সম্মান ইউনেস্কো পুরস্কার। পরবর্তী সময়ে বইটি চেক ভাষায় (পশ্চিম সøাভীয় ভাষা) অনূদিত হয়।

মোহাম্মদ নাসির আলীর লেখা প্রথম বই প্রকাশিত হয় ‘আমিনা মেহের’ ছদ্মনামে। ‘লেখাপড়া’ শিরোনামে বইটি ছিল একটি পাঠ্যবই। বইটি অবিভক্ত বাংলায় প্রথম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক হিসেবে নির্বাচিত হয়। নিজের নামে তার প্রথম বই প্রকাশিত হয় ১৩৫৬ বঙ্গাব্দে। তার প্রকাশিত মোট বইয়ের সংখ্যা ৪০টিরও বেশি। বই রচনার পাশাপাশি তিনি বই প্রকাশনার জন্য ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নওরোজ কিতাবিস্তান’। আমাদের শিশুসাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশিষ্ট স্থান লাভের অধিকারী মোহাম্মদ নাসির আলী ১৯৭৫ সালের ৩০ জানুয়ারি আমাদের ছেড়ে চলে যান না ফেরার দেশে।

 

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে