ডিমের সাতসতেরো

  আমির খসরু সেলিম

১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ধরো, বাড়িতে মেহমান এলো। কিন্তু খাবারের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। খেয়াল করে দেখবে, আম্মু তখন চট করে মুরগি বা হাঁসের একটা ডিম ভেজে খেতে দেন। ডিম কিন্তু খুবই পুষ্টিকর খাবার। যারা একা নিজের খাবার রান্না করে খেতে পছন্দ করে, তাদের কাছেও ডিম খুব জনপ্রিয় খাবার। ডিম আসলে অসংখ্য প্রাণীর বংশবৃদ্ধির উপযুক্ত এবং প্রচলিত মাধ্যম। পৃথিবীতে প্রাণের বিস্তারের েেত্র সরাসরি সন্তান জন্মদানের মতো ডিমের মাধ্যমে বংশবিস্তারও একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। প্রাচীন সংস্কৃতির আচার-অনুষ্ঠানেও ডিমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ভালো ফসল পাওয়ার আশায় যেসব অনুষ্ঠান উদযাপন করা হতো, তাতে প্রথমেই ব্যবহার করা হতো ডিম। আধুনিক বিশ্বের ‘ইস্টার সানডে’ অনুষ্ঠানে ডিম রঙ করার আয়োজন সারা বিশ্বে জনপ্রিয়। এখনো অনেক জাতি ডিম উর্বরতা, আশা ও নতুন জীবনের প্রতীক বলে মনে করে থাকে। পাখি, নানা ধরনের স্তন্যপায়ী প্রাণী, সরীসৃপ ও পোকামাকড় ডিমের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। তাদের ডিম পাড়ার পরিমাণ ও আকার-আকৃতিও একেক রকম। স্টারজন ও কড-জাতীয় কিছু মাছ প্রতিবছর লাখ লাখ ডিম পাড়ে। কিছু শামুক আছে, যেগুলো ডিম পাড়ার এক মৌসুমেই ৫০ কোটিরও বেশি ডিম দিয়ে থাকে। অনেকেরই ধারণা, ডিম মানেই শক্ত খোসার আবরণ। আসলে কিন্তু তা নয়। কাছিমের ডিমের খোসা নরম, রবারের মতো। আবার ব্যাঙের মতো উভচর প্রাণীর ডিম জেলির মতো আবরণ দিয়ে সুরতি থাকে। বিশ্বের বেশিরভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণীই সরাসরি বাচ্চা জন্ম দেয়। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, অস্ট্রেলিয়ার পল্গাটিপাস নামের যে স্তন্যপায়ী প্রাণী আছে, তারা ডিমের মাধ্যমেই বংশবিস্তার করে। ডিমের মূলত তিনটি অংশ থাকেÑ খোসা, কুসুম ও সাদা অংশ। কুসুম ভ্রƒণের খাবারের উৎস হিসেবে ব্যবহার হয়। ডিমের সাদা অংশ ভ্রƒণ পানি ও কিছু পুষ্টিকর উপাদান সরবরাহ করে। খোসা ভ্রƒণটা বাইরের পরিবেশ থেকে রা করে এবং বাড়ন্ত হাড়ের জন্য ক্যালসিয়াম জোগায়। পাখিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকারের ডিম পাড়ে উটপাখি। ওদের ডিমগুলো প্রায় সাত ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয় এবং ওজন হয় দেড় কেজি পর্যন্ত। কিছু হামিংবার্ডের ডিমের ওজন হয় মাত্র ১ গ্রাম। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া অ্যাপি-অনরিস পাখির ডিম ছিল লম্বাটে আকারের। এ পাখির ডিম ১৩ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হতো। ডিম প্রকৃতির এক অপূর্ব বিস্ময়। একটি ডিম খেয়ে ফেলা মানে একটি প্রাণীকে খেয়ে ফেলা। সেখানে আমরা প্রতিবছর মা-মাছসহ কোটি কোটি ডিম খেয়ে ফেলি। জীববৈচিত্র্য ও মাছের বিস্তার রা করতে হলে এ বিষয়ে আমাদের এখন থেকেই সচেতন হতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে তোমাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। নইলে কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে অসংখ্য প্রজাতির প্রাণী।

 

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে