ছেলেবেলা ও বুলবুলির গল্প

  রফিকুজ্জামান রণি

১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

লেজ নেড়ে নেড়ে ঘুরে বেড়ানো ওই বুলবুলিটা আমি চিনি। ও তো আমার ছেলেবেলার বন্ধু বুলবুলি। এখন বুড়ো হয়ে গেছে। ছেলেবেলায় আমাদের ঘরের পেছনে যে মান্দার গাছটি আছে, সেখানে প্রায় প্রতিদিনই বসত ও। আমার দাদুর সঙ্গে খোঁপা দুলিয়ে সব সময় মজার মজার কথা বলত। তখন ওর শরীরের গঠন ছিল বেশ বড় এবং শক্ত। দাদুর মৃত্যুর পর বহুদিন কোথাও দেখিনি তাকে।

বসে থাকলে তো কেউ আর খাবার দেবে না। তাই কাজ করতে হয়। কত্ত রকম কাজ করে যে জীবন বাঁচাতে হয়! আমিও কাজ করতে এই শহরে পা দিয়েছি। এখানে এসে হঠাৎ বুলবুলিটার দেখা পাব, তা কল্পনাও করিনি। আচ্ছা, ও নিজেও কি যুদ্ধ করে বাঁচে? এই শহরের অলিগলি চিনতে পেরে এত দিনে পাখিটা বেশ সাহসী ও অহঙ্কারী হয়ে উঠেছে। নইলে আমার দিকে তাকাচ্ছেই না! দাদুর সঙ্গে যখন পাখিটা কথা বলত, তখন তো প্রায়ই আমি সেখানে উপস্থিত থাকতাম। আমাকে সে অনেক বার দেখেছে। আমি তাকে চিনতে পারলে সে আমাকে চিনবে না কেন? আচ্ছা, দাদুকে হারানোর পর পাখিটা কি বোবা হয়ে গেছে? যাক বাবা, আমার অতশত ভেবে লাভ নেই। আমি আমার পথ ধরেই হাঁটি। পাখিটা যখন আমার দিকে তাকাচ্ছেই না, তখন আমি না তাকালে দোষ কি?

একি! পাখিটার চোখেমুখে ভয়ের চিহ্ন! ও আচ্ছা, ও বোধহয় শহরের কোনো মানুষকে বিশ্বাস করতে পারছে না। আমার দাদুর মতো সহজ-সরল, বিশ্বাসযোগ্য মানুষ বোধহয় এ শহরে আর কাউকে খুঁজে পায়নি সে। তাই কারো সঙ্গে কথা না বলে, কারো সঙ্গে খাতির না জমিয়ে আপন মনে জীবন কাটিয়ে যাচ্ছে।

সে যা-ই হোক, পাখিটাকে তার স্বাধীনতা ভোগ করতে দেওয়াই ভালো। তাকে স্বাধীন পথে হাঁটতে দেওয়াই আমার দায়িত্ব। পাখিটা আমাকে পাত্তা না দিলেও আমি তো তাকে নিশ্চিতভাবেই চিনি যে, সে আমার ছেলেবেলায় প্রথম দেখা বুলবুলি, আমার দাদুর বন্ধু। দাদুর বন্ধু বলে সে আমারও বন্ধু। সে না মানলেও আমি প্রাণ খুলে বলব, সে-ই হচ্ছে আমার শিশুকালের প্রথম বন্ধু!

 

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে