লিভার ও ফুসফুস ক্যানসার চিকিৎসায় মাইক্রোওয়েভ ও টেইস পদ্ধতি

  ডা. মুস্তাক আহম্মেদ জালালী

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মানবদেহের বিশেষ গুরুত্বপূূর্ণ দুটি অঙ্গ হলো লিভার ও ফুসফুস। এ দুটি অঙ্গ যদি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়, তখন শারীরিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। তবে বর্তমানে এ দুটি রোগের চিকিৎসা দেশেই সম্ভব।

ফুসফুস ও লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হলে সাধারণত সার্জারির প্রয়োজন পড়ে। লিভার, ফুসফুস টিউমার এবং ক্যানসারের আধুনিক চিকিৎসা হলোÑ

মাইক্রোওয়েভ : লিভার ও ফুসফুস ক্যানসারের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি হলো মাইক্রোওয়েভ। এটি হলোÑ হাই ভোল্টেজ ইলেকট্রিসিটি লো ভোল্টেজে এনে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে ক্যানসার টিউমারের মধ্যে প্রবাহিত করে ক্যানসার সেল সম্পূর্ণভাবে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এটি অত্যন্ত সফল এবং উন্নত বিশ্বের সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি, যা লিভার ও ফুসফুস টিউমার এবং ক্যানসারে প্রয়োগ করা হয়। যাদের হেপাটাইটিস-বি, সি, লিভার সিরোসিস, এবং প্রাইমারি লিভার ক্যানসার হয়ে থাকে, তাদের জন্য মাইক্রোওয়েভ কার্যকরী ও সফল পদ্ধতি। এটির মাধ্যমে ১২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত টিউমার সম্পূর্ণ পুড়িয়ে ফেলে ক্যানসার সেল অকার্যকর করা যায়। মাইক্রোওয়েভ এমন এক পদ্ধতি, যা প্রয়োগের ক্ষেত্রে রোগীকে অজ্ঞান করতে হয় না। রোগীকে হাসপাতালে একদিন থাকতে হয়। ব্যয় অত্যন্ত কম।

টেইস : ট্রান্স আরট্যারিয়াল কেমো এম্বোলাইজেশান অর্থাৎ টেইস এমন এক চিকিৎসা পদ্ধতি, যা উন্নত বিশ্বে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ও সমাদৃত। এটির মাধ্যমে লিভার ও ফুসফুস টিউমার এবং লিভার ও ফুসফুস ক্যানসারের চারপাশে কেমোথেরাপি প্রয়োগের মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে যে কোনো ধরনের বড় লিভার ও ফুসফুস ক্যানসার টিউমার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও পার্শ¦প্রতিক্রিয়ামুক্ত। এ চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে রোগী অল্প সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন। উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশে এর চিকিৎসা ব্যয় কম।

মাইক্রোওয়েভ ও টেইস : উন্নত বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত উভয় চিকিৎসা পদ্ধতি যথেষ্ট সমাদৃত। কোনো ক্ষেত্রে লিভার ও ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীকে আগে মাইক্রোওয়েভ এবং তার ২ থেকে ৩ সপ্তাহ পর টেইস পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। এটির নাম সমন্বয় চিকিৎসা। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগে টেইস এবং পরে মাইক্রোওয়েভ প্রয়োগ করা হয়।

উল্লিখিত চিকিৎসা পদ্ধতি ছাড়াও লিভার ও ফুসফুস ক্যানসারে বর্তমান প্রচলিত চিকিৎসা কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। এতে রোগী ক্রমে সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং খুব দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন। বর্তমান প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি থেকেও অত্যন্ত কার্যকর বেশ কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা সম্ভব। যেমন- নরমাল লিভার এম্বোলাইজেশন, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন। উল্লিখিত পদ্ধতিগুলো প্রয়োগের ফলে রোগী নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও ওষুধ সেবনে দীর্ঘদিন পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক

রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগ

জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউট

ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা

চেম্বার : হেলাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার

মিরপুর-১০, ঢাকা। ০১৭৫৪৩৭০৮৩১

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে