নভেম্বর অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতার মাস

  ডা. মো. ফারুক হোসেন

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিবছর নভেম্বরের ১৩ থেকে ১৯ তারিখ পালিত হয়ে থাকে বিশ্ব অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহ (ডঅঅড)। কিন্তু আমাদের দেশে অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতা সারা বছর থাকা উচিত। কারণ আমাদের দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয়। এ বছর বিশ্ব অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহের প্রতিপাদ্য বিষয় হলোÑ ‘ঝববশ ধফারপব ভৎড়স ধ য়ঁধষরভরবফ যবধষঃযপধৎব ঢ়ৎড়ভবংংরড়হধষ নবভড়ৎব ঃধশরহম ধহঃরনরড়ঃরপং.’ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক কোনোভাবেই সেবন করা উচিত নয়। এটির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার খুবই ক্ষতিকর। অ্যান্টিবায়োটিক ঠা-া বা ভাইরাসজনিত রোগে কোনো কাজ করে না। যদি ভাইরাসজনিত রোগে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয়, তবে বিপজ্জনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এ ধরনের চিকিৎসা চলতে থাকলে অর্থাৎ অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার যথার্থ না হলে এমন একটা সময় আসবে, যখন ব্যাকটেরিয়া মারা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এ অবস্থার নাম ব্যাকটেরিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসট্যান্স। অ্যান্টিবায়োটিক সঠিকভাবে ব্যবহার করলে রেজিস্ট্যান্সের আশঙ্কা কমে যাবে। কারণ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বা অকার্যকারিতার জন্য অনেক রোগের চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন সম্ভব হয় না। চিকিৎসার ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বা অকার্যকারিতা বড় হুমকি। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে। ভাইরাসের বিরুদ্ধে এটি কোনো কাজ করে না। কিন্তু আমাদের দেশে রোগীরা ওষুধের দোকান থেকে মুখস্থ অ্যান্টিবায়োটিক ক্রয় করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সেবন করে থাকেন এবং খুব দ্রুত রোগ থেকে মুক্তি চান। ফলে অ্যান্টিবায়োটিকের যথার্থ প্রয়োগ না হওয়ায় জীবাণুগুলো ক্রমে রেজিস্ট্যান্স হয়ে পড়ছে। পৃথিবীর অন্য দেশে অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোনো ওষুধ কিনতে হলে ডাক্তারের পরামর্শপত্র দেখাতে হয়। ডাক্তারের পরামর্শপত্র ছাড়া অন্য কারো ওষুধ দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। অথচ আমাদের দেশে চকোলেটের মতো অ্যান্টিবায়োটিক মুহূর্তের মধ্যে ক্রয় করে নিয়ম না মেনেই সাধারণত মানুষ তা সেবনও করছে। অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অন্য ওষুধের সঙ্গে এটির কোনো ইন্টারঅ্যাকশন আছে কিনা, তা সাধারণ জনগণের অজানা। ফলে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে গিয়ে অনেকে অন্যান্য সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই সব মানুষের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতা খুবই জরুরি।

লেখক : মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ

০১৮১৭৫২১৮৯৭

ইমেইল : dr.faruqu@gmail.com

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে