• অারও

মাসিককালীন ব্যথা

  অধ্যাপক ডা. সালমা চৌধুরী

১১ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাসিকের সময় তলপেটে ব্যথায় নীল হয়নি, এমন নারীর সংখ্যা খুব কম। সাধারণত মাসিক শুরু হওয়ার পর থেকে কোনো কারণ ছাড়াই মাসিককালীন ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া কিছু রোগের কারণে মাসিক হতে পারে ব্যথাযুক্ত। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ সমস্যার নাম ডিসমেনোরিয়া। আমাদের দেশের নারীদের মধ্যে ডিসমেনোরিয়ার হার অনেক বেশি। ডিম্বাণু নিষিক্ত না হলে অনিষিক্ত ডিম্বাণু ও জরায়ুর ভেতরের স্তর মাসিকের সময় জরায়ুর সংকোচনের মাধ্যমে দেহের বাইরে চলে আসে। এ সংকোচনের ফলে জরায়ুর রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়। জরায়ুর কোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়। এ সময় জরায়ু থেকে কিছু কেমিক্যাল নিঃসৃত হয়। এগুলো ব্যথার জন্য দায়ী। আবার সংকোচন বাড়ানোর জন্য দেহ প্রোস্টাগ্লান্ডিন নিঃসরণ করে। এটিও ব্যথা বাড়ায়। এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তাই মাসিকের সময় ব্যথা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে ব্যথা চরম আকার ধারণ করে। ডিসমেনোরিয়া বা মাসিককালীন ব্যথা দুই ধরনেরÑ প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি। প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়াতে জরায়ুতে কোনো রোগ থাকে না। মাসিক শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা শুরু হয়। ২-৩ দিন ব্যথা থাকে। বেশিরভাগ নারীই এ ধরনের ব্যথায় ভোগেন। জীবনের প্রথম মাসিকের সময় থেকেই এ ব্যথা শুরু হয়। সেকেন্ডারি ডিসমেনোরিয়া সাধারণত সন্তান জন্মদানের পর নারীদের প্রজননতন্ত্রে ইনফেকশনের কারণ দেখা যায়। এ ছাড়া ফাইব্রয়েড, অ্যান্ডোমেট্রিওসিস, অ্যাডেনোমায়োসিসও হতে পারে সেকেন্ডারি মাসিককালীন ব্যথা। এক্ষেত্রে মাসিকের আগে ও পুরো মাসিকের সময়জুড়ে ব্যথা থাকে। মাসিকের পর ক্রমে ব্যথা কমতে থাকে।

চিকিৎসা : প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়া নিয়ে দুচিন্তার কিছু নেই। এতে সন্তান ধারণের কোনো সমস্যা হয় না। সন্তান ধারণ করলে এ ব্যথা আপনাআপনি ভালো হয়ে যায়। যারা এখনো ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত, তারা প্রতি সাইকেলে ব্যথা হলে ব্যথানাশক এনএসআইডি, যেমনÑ আইবুপ্রোফেন সেবন করলে ভালো ফল পাবেন। এ ছাড়াও ৩-৪ সাইকেল ওরাল জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল সেবন করে এ সমস্যামুক্ত হওয়া সম্ভব। ওজন বেশি থাকলে তা কমাতে হবে। প্রতিদিন ব্যয়াম করতে হবে। ধূমপান বা মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে পরিত্যাগ করতে হবে। সেকেন্ডারি ক্ষেত্রে কোনো কারণে মাসিকের সময় ব্যথা হচ্ছে, তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে হবে। কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা করাতে হবে।

লেখক : গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ

অধ্যাপক, গাইনি বিভাগ

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল

চেম্বার : আল-রাজি কনসালটেশন অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার

কনকর্ড সেন্টার পয়েন্ট, ফার্মগেট, ঢাকা

০১৭১২৯৭৮১৫৯, ০১৯১২৩৬৭২৩৫

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে