হঠাৎ হৃদরোগ ঝুঁকি এড়াতে আপনার করণীয়

  ডা. আবদুল্লাহ শাহরিয়ার

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বুকের ব্যথা কখনো কখনো বাঁ ঘাড়ের দিকে বা বাঁ চোয়ালে যেতে পারে। শুধু তাই নয়, বাঁ বাহুর ভেতরের দিকেও ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। হাসপাতাল দূরে হলে এস্পিরিন ৪টি ট্যাবলেট একসঙ্গে খাইয়ে দিতে হবে। হাতের কাছে পাওয়া গেলে জিহ্বার নিচে নাইট্রোকার্ড বা নাইট্রোসোল স্প্রে করে দিতে হবে। কিন্তু যদি এমন কিছু হয়, যখন হার্ট অ্যাটাকের কিছুই রোগী বুঝতে পারবে না, কিন্তু হার্ট অ্যাটাকে হঠাৎ খুব খারাপ অবস্থা হয়ে যেতে পারে। এমনকি জীবনাবসানও ঘটতে পারে। এমন অবস্থার নামই সাইলেন্ট এমআই বা সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক।

যে কারণে সাইলেন্ট : রোগী এ সময় কিছুই বুঝতে পারে না। আর পারলেও খুব অল্প বা সাধারণ ব্যথা হিসেবে মনে করে তেমন পাত্তা দেয় না। সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে প্রধানত এমনটা দেখা যায়। যাদের শরীরে ডায়াবেটিসের জন্য নানা ধরনের কমপ্লিকেশন তৈরি হয়, তাদের ক্ষেত্রেই এমন হয়ে থাকে। ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি হওয়ার কারণে শরীরের বোধশক্তি অনেকটাই কমে আসে। ফলে হার্ট অ্যাটাকের সময় তীব্র ব্যথা হলেও রোগী তা বুঝতে পারে না সহজে।

চিকিৎসা : এ ক্ষেত্রে সাধারণ হার্ট অ্যাটাক আর সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সাইলেন্ট এমআই থেকে দূরে থাকতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব জরুরি।

আপনার করণীয় : ডায়াবেটিসের কমপ্লিকেশন যার শরীরে তৈরি হবে, তাকে সব সময় সাবধানে থাকতে হবে। নিয়মিত কোনো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বা ডায়াবেটোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। বুকে অল্প ব্যথা দেখা দিলে কিংবা অস্থিরতা বোধ করতে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া নয়) দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে! অস্থিরতা হাইপোগ্লাইসেমিয়ার জন্য নাকি সাইলেন্ট এমআইর জন্য, তা বোঝার উপায় হলোÑ হাইপোগ্লাইসেমিয়ার জন্য যখন অস্থিরতা হয়, তখন গ্লুকোজ বা চিনি কিংবা অন্য কোনো খাবার খেলে তা দ্রুত ঠিক হয়ে আসবে; কিন্তু সাইলেন্ট এমআইর ক্ষেত্রে তা হবে না। আর ঘরে গ্লুকোমিটার থাকলে সহজেই তা বোঝা যাবে।

লেখক : শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ

সহযোগী অধ্যাপক, শিশু হৃদরোগ বিভাগ

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে