• অারও

পিত্তপাথর ও ল্যাপারোস্কপি

  অধ্যাপক ডা. মো. সহিদুর রহমান

১২ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পিত্তপাথর পরিচিত অসুখ। এ অসুখটি প্রায় প্রতিটি দেশের মানুষের মধ্যে দেখা যায়। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সুইডেনে। শতকরা হার ৩৮ ভাগ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়ায় শতকরা ১৫ থেকে ২৫ ভাগ পাওয়া যায়। সর্বনিম্ন হার দেখা যায় আয়ারল্যান্ডে; মাত্র ৫ শতাংশ। পুরুষের তুলনায় নারীর এ রোগের হার দ্বিগুণ।

পিত্তপাথরের প্রকারভেদ : পিত্তপাথরের কারণ দুভাগে বিভক্ত। এর একটি পুরনো কারণ। যেমনÑ প্রদাহজনিত, মেটাবলিজমজনিত, স্থবিরতাজনিত। আরেকটি হলোÑ বর্তমান কারণ অর্থাৎ কোলেস্টরল পাথর, কালো রঙের পাথর, বাদামি রঙের পাথর। এর মধ্যে কোলেস্টেরল পাথর ৭৫ শতাংশ পাথরে শ্রেণিভুক্ত। সাধারণত সংখ্যায় অধিক। মাত্র একটি পাথর হলেও তা বিরাট আকার ধারণ করে। কালো রঙের পাথর সংখ্যায় অনেক বেশি হয় এবং ছোট আকারের হয়ে থাকে। সাধারণত রক্তকণিকা ভেঙে গেলে এ রঙের পাথর দেখা দেয়। এটির সঙ্গে ইনফেকশন থাকে ২০ শতাংশ। বাদামি রঙের পাথর সাধারণত তৈরি হয় পিত্তনালিতে।

যখন পাথর হয় : বয়স বাড়ার সঙ্গে এ রোগের প্রবণতা বাড়ে। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবনে কম বয়সী নারীর ক্ষেত্রে পাথরের হার বেড়ে যায়।

রোগের লক্ষণ : ওপর পেটের মাঝখানে ও ডান পাশে ব্যথা থাকে। এ ব্যথা হালকাভাবে এবং কখনো তীব্রভাবে হয়ে থাকে। ব্যথার স্থায়িত্ব ৩ ঘণ্টা থেকে ৩ দিন পর্যন্ত থাকে। এরপর ২ সপ্তাহ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। অনেক সময় এ ব্যথা ডান পাশের ঘাড়ে চলে যায়। তীব্র ব্যথা হলে রোগী কোনো অবস্থায় স্বস্তি পায় না এবং এর সঙ্গে বমি থাকে ও জ্বর হয়। পেট ফাঁপা থাকে। ক্ষুধামন্দার কারণে একবার খাওয়ার পর আর সারাদিন খেতে ইচ্ছা হয় না। মনে হয়, পেট ভরে আছে। কোনো কিছুতেই রুচি আসে না। কখনো কখনো জন্ডিস দেখা দেয়। কখনো মারাত্মক জ্বর হয়। শরীরে ঝাঁকুনি দিয়ে জ্বর আসে।

জটিলতা : পিত্তথলির পুঁজ, যা এমপায়েমা নামে পরিচিত। পিত্তথলি ফুটো হয়ে যাওয়া। পিত্তথলির গ্যাংগ্রিন। ক্যানসার হতে পারে।

চিকিৎসা : চিকিৎসা দুভাবে করা হয়ে থাকে। যেমনÑ মেডিসিন ও সার্জারি।

মেডিসিন চিকিৎসা : সত্যিকার অর্থে, এ রোগের চিকিৎসায় মেডিসিনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেই। তাই পাথর যেভাবে ধরা পড়–ক না কেন, অপারেশনই একমাত্র চিকিৎসা এবং সার্জারিই একমাত্র ভরসা। বাজারে একটা ওষুধ চালু আছে, যা দিয়ে পাথর গলিয়ে ফেলা যায় বলে সেই কোম্পানিটি দাবি করে থাকে। দাবি অযৌক্তিক নয়, তবে সেখানে যে শর্ত রয়েছে ওষুধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে, তা পূরণ করা কঠিন। তাই মেডিসিন চিকিৎসার প্রতি আস্থা রেখে অযথা সময়ক্ষেপণ করা ঠিক নয়।

সার্জারি চিকিৎসা : অনেক ধরনের পদ্ধতি এখন প্রচলিত। যেমনÑ ল্যাপারোস্কপিক পদ্ধতি, পেট কাটা পদ্ধতি। যদি পিত্তথলির জটিলতা না থাকে, তবে ল্যাপারোস্কপিক পদ্ধতি সেরা। তবে তা হতে হবে বিশেষজ্ঞের হাতে। সঠিকভাবে শুধু ল্যাপারোস্কপিক সার্জারির মাধ্যমে একমাত্র সার্জারি করা যাবে, যদি রুটিনভাবে ইআরসিপি করে নেওয়া যায়। ইআরসিপির আরও একটি ভালো দিক রয়েছে। যেমনÑ পেরিএমপুলারি ক্যানসার শুরুতেই নির্ণয় করা যায়।

লেখক : অধ্যাপক

হেপাটোবিলিয়ারি প্যানক্রিয়েটিক

অ্যান্ড লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি বিভাগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

চেম্বার : লিভার গ্যাস্ট্র্রিক স্পেশালাইজড হাসপাতাল, বাড়ি-৭৫, রোড-৫/এ, ধানম-ি, ঢাকা। ০১৮৭৯১৪৩০৫৭, ০১৭১৫৫১৭৬২১

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে