• অারও

খাবারে কৃত্রিম রঙ সচেতন হলেই রক্ষা

  প্রফেসর ডা. মো. নূরুল আলম

১২ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রেতার কাছে খাবার লোভনীয় করে তুলতে হোটেল-রেস্টুরেন্ট তো বটেই, রাস্তার আশপাশের খাবার দোকানিরাও ব্যবহার করে থাকেন বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ। বিশেষ করে কেক, বিস্কুট, ফাস্টফুড, কেচাপ, বেভারেজ, আইসক্রিমে বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ ব্যবহার করেন তারা। যদিও এ রঞ্জক পদার্থ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিকর নয় বলে ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু বিভিন্ন প্রাণীর ওপর পরীক্ষা করে একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে, এসব উপাদান শরীরের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। জুলাই ২০১০ সাল থেকে ব্রিটিশ সরকার ক্রমে এসব কৃত্রিম রঞ্জক পদার্থ খাদ্য উপাদান থেকে সরিয়ে ফেলতে খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি নির্দেশনা দিয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন খাদ্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাও সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খাবার পরিবেশনের নির্দেশ দিয়েছে। ব্রিটেনে ২০০৭ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু কৃত্রিম রঞ্জক পদার্থ আপাত নিরাপদ মনে হলেও তা শিশুদের উত্তেজনাকর প্রবৃত্তি বাড়িয়ে দেয়। খাবারে যোগকৃত কৃত্রিম রঞ্জকগুলোর মোট আটটি গবেষকরা ক্ষতিকর বলে চিহ্নিত করেছেন। তবে মানুষের শরীরে এ কৃত্রিম রঙ বা রঞ্জক পদার্থগুলো কী ধরনের ক্ষতি করে, তা এখনো জানা যায়নি। ক্ষতিকর কৃত্রিম রঙগুলো হলোÑ ব্লু-১ (ব্রিলিয়ান্ট ব্লু), ব্লু-২ (ইনডিগোকারমিন), সাইট্রাস রেড-২, গ্রিন-৩ (ফাস্ট গ্রিন), রেড-৩ (ইরাইত্রোসিন), রেড-৪০ (এলুরা রেড), ইয়েলো-৫ (টারটাজিন) এবং ইয়েলো-৬ (সানসেট ইয়েলো)। এগুলোর মধ্যে রেড-৪০, ইয়েলো-৫ ও ইয়েলো-৬ বেশি ক্ষতিকারক বলে চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। এসব রঞ্জক পদার্থ রুটি, কেক, চকোলেট, সিরাপ, সস এমনকি ওষুধেও মেশানো হয়।

রেড-৪০ বা এলুরা রেড হলো সবচেয়ে বেশি বিক্রীত কৃত্রিম রঞ্জক পদার্থ। গবেষণায় দেখা গেছে, এ রঙ ইঁদুরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এ রঙ সংবলিত খাবার গ্রহণে অ্যালার্জি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বাচ্চাদের রঙ সংবলিত খাবারে উত্তেজনা প্রবণতা বৃদ্ধির আলামত পাওয়া গেছে ইয়েলো-৫ বা টারটাজিনে। এগুলো খাবারে মেশানো হয় মনোযোগ আকর্ষণে। কিন্তু এ রঙ সংবলিত খাবার খেলে তীব্র মাত্রায় অ্যালার্জিসহ শিশুর মধ্যে উত্তেজনা প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার কিছু নজির পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ওষুধ এবং কসমেটিকসে এ ধরনের রঙ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাই খাবার খাওয়ার ব্যাপারে সচেতনতা এখন খুব জরুরি।

লেখক : স্বাস্থ্যবিষয়ক নিবন্ধকার

চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন

বিভাগীয় প্রধান, ইস্ট ওয়েস্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, উত্তরা, ঢাকা

০১৮৫৫৯৭৫৮৪৪, ০১৭১৭০৬৯৯৬২

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে