চুল পড়ে যাওয়ার রয়েছে নানা কারণ

  ডা. এসএম বখতিয়ার কামাল

১৭ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ১০:০১ | প্রিন্ট সংস্করণ

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় চুল পড়ে যাওয়ার নাম অ্যানড্রোজেনেটিক অ্যালোপিসিয়া। মাথার উপরিভাগের চুল ও দুপাশের চুল পাতলা হয়ে যায়। এক-তৃতীয়াংশ নারীর এ সমস্যা হয়। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২৫টি চুল পড়ে স্বাভাবিকভাবে। কিন্তু দিনে ১২৫টির বেশি চুল পড়া এবং সেই চুল না গজানোই হলো সমস্যা। পরিবারের কারো চুল পড়ার সমস্যা থাকলে পরিবারের অন্য কারো চুল পড়ার আশঙ্কা বেশি।

চুল পড়ে যাওয়া সমস্যা দুভাগে ভাগ করা যায়। যেমন, অ্যানাজেন ইফফ্লুভিয়াম ও টেলোজেন ইফফ্লুভিয়াম। নানা ধরনের ওষুধ ও কেমোথেরাপির জন্য চুল পড়া সমস্যার নাম অ্যানাজেন ইফফ্লুভিয়াম। আর চুলের ফলিকল রেস্টিং স্টেজে থাকলে তার নাম টেলোজেন ইফফ্লুভিয়াম। চুলের ফলিকল রেস্টিং স্টেজে যাওয়া মানে চুল আর বড় না হওয়া এবং এক সময় চুল ঝরে যাওয়া। এর কারণ শারীরিক অসুস্থতা।

যে কোনো অপারেশনের পর, রক্তস্বল্পতা, ওজন কমে যাওয়া, হজমের সমস্যা, মানসিক চাপ, অতিকর্মব্যস্ততা, পরিবারের কারো মৃত্যু, থাইরয়েড হরমোনজনিত সমস্যা; ডায়াবেটিস পলিসিসটিক ওভারি, মূত্রনালির প্রদাহ, গর্ভাবস্থা, পরিবার পরিকল্পনার জন্য পিল খাওয়া, মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া, অতিমাত্রায় ভিটামিন-এ গ্রহণ, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ গ্রহণ ইত্যাদি কারণে চুল পড়া শুরু হতে পারে।

ওজন কমানোর জন্য অতিরিক্ত ডায়েটিং অনেক সময় চুল পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অবশ্যই ডায়েটিশিয়ান, নিউট্রোশনিস্ট কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারতালিকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক চাপ ও চুল পড়া : শারীরিক অসুস্থতা, অপারেশন হওয়া ও মানসিক চাপ চুল পড়ার অন্যতম কারণ। এ সময় নতুন চুল গজায় না এবং চুল বাড়ে না। শরীর সারাতে ব্যস্ত থাকে সব শক্তি এবং অনাদরে পড়ে যায় চুল। এসব ক্ষেত্রে চুল পড়তে থাকে তিন মাস এবং আবার চুল গজাতে সময় লাগে তিন মাস।

হরমোনের পরিবর্তন ও চুল পড়া : হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে নারীর চুল পড়ার সম্পর্ক রয়েছে। গর্ভাবস্থায় কিংবা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়া বন্ধ করলে চুল পড়তে পারে। হরমোনের পরিবর্তনের তিন মাসের মধ্যে এই পরিবর্তন লক্ষ করা সম্ভব। আবার সঠিক হতে তিন মাসে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। মাসিক বন্ধ হওয়ার পরও নারীর চুল পড়ে। আপনার চুল আদৌ পড়ছে কিনা, তা অবশ্যই চিকিৎসকের মাধ্যমে নির্ণয় করা প্রয়োজন। চুল পড়ার কারণ নির্ণয় করাও জরুরি।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক

(চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ)

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

চেম্বার : কামাল স্কিন সেন্টার, গ্রিন রোড, ঢাকা। ০১৭১১৪৪০৫৫৮

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে