ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি এবং জটিলতায় জন্ডিস

  অধ্যাপক ডা. মো. সহিদুর রহমান

১৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আয়েশা বেগম। বয়স ২৩ বছর। ৩ বছর ধরে তার পেটব্যথা। কখনো তীব্র হয়, আবার কখনো হালকা। আবার কখনো ব্যথা থাকে না। যখন থাকে না, তখন পুরাপুরি সুস্থ। প্রথম দিকে ব্যথা ছিল অল্প। ব্যথা হলে দোকান থেকে ওষুধ কিনে খেত। এভাবে ২ বছর চলেছে। ব্যথার সঙ্গে উপসর্গ থাকত। যেমনÑ বমি বমি ভাব, খাওয়ায় অরুচি, বুক জ্বালা, অল্প খেলে পেট ভরা ভাব, বুকের মধ্যে খাবার আটকে থাকা। বছরখানেক ধরে উপসর্গের তীব্রতা বেড়েছে। সঙ্গে ব্যথার তীব্রতাও। কোনো ওষুধে কাজ হচ্ছিল না তার। পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে আলট্রাসনোগ্রাম করায় রোগ নির্ণয় হয়েছে। রোগটি হলো পিত্তথলিতে পাথর। সার্জারি করার পর এখন সে সুস্থ। ল্যাপারোস্কপিক পদ্ধতির মাধ্যমে সার্জারি করা হয়। বিপত্তি ঘটে ১৫ দিন পর। রোগী লক্ষ করে, তার প্রস্রাবের রঙ হলুদ, চোখও। পুরো শরীর চুলকায়। ক্ষুধামন্দা। গায়ে হালকা জ্বর। মলের রঙ সাদা। ঘুম কমে গেছে। সারা শরীর ক্রমে হলুদাভ হয়েছে। সবাই আতঙ্কিত, যেন বিনা মেঘে বজ্রাঘাত! আবার ছুটে এলো অপারেশন করা চিকিৎসকের চেম্বারে। তিনি বিস্তারিত শুনলেন। সন্দেহ করলেন, হয়তোবা অপারেশনকালীন কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে। রোগীকে বিচলিত না হতে আশ্বস্ত করলেন। বললেন, যা ঘটেছে, তা সমাধানযোগ্য। চিকিৎসকের এ মনোভাবে রোগী নতুন করে সাহস পেল। চিকিৎসক তাকে সহযোগিতা করতে লাগলেন। প্রাথমিক আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় ধরা পড়ল, পিত্তনালি বাধা পড়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি তাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে প্রেরণ করলেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরীক্ষার পর নিশ্চিত হলেন, ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি করার সময় পিত্তনালি বাধা পড়েছে। বিলিরুবিন বেড়ে ২৩ মিলিগ্রাম হয়েছে। আরও বেড়ে গেলে লিভার ফেইলিউর হতে পারে। তাই বিলম্ব না করে দ্রুত সার্জারি করার পরামর্শ দিলেন। রোগীও প্রস্তুত হলো। অপারেশন করার সময় দেখা গেল, দুটি কিপ পিত্তনালি সম্পূর্ণভাবে বেঁধে ফেলেছে। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কিপ দুটি সরানো হলো। পিত্তনালির কিছু অংশ কেটে বাদ দেওয়া হলো। ক্ষুদ্রান্ত্রের জেজুনাম নিয়ে এসে পিত্তনালির সঙ্গে সংযোগ করা হলো। সফল সার্জারি হয়েছে। দ্রুত রোগী সুস্থ হওয়া শুরু হলো। সিরাম বিলিরুবিন কমতে কমতে স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে এসেছে। নির্দিষ্ট ১০ দিনের মাথায় রোগী হাসপাতাল ত্যাগ করল। পিত্তনালির এ ইনজুরি সমস্যার মধ্যে মূল কারণ হলো ১৩ শতাংশের ক্ষেত্রে পিত্তনালি, পিত্তথলি ও রক্তনালির অস্বাভাবিকতা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপ্রতুল যন্ত্রপাতি, অনভিজ্ঞতা ও কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে দ্রুত এসব ক্ষেত্রে উন্নতি হচ্ছে এবং এর সুফলও আমরা পাচ্ছি হাতে হাতে।

লেখক : অধ্যাপক, হেপাটোবিলিয়ারি প্যানক্রিয়েটিক অ্যান্ড লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট

সার্জারি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব

মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।

চেম্বার : লিভার গ্যাস্ট্রিক স্পেশালাইজড হাসপাতাল। বাড়ি-৭৫, রোড-৫/এ, ধানম-ি, ঢাকা ০১৮৭৯১৪৩০৫৭, ০১৭১৫৫১৭৬২১

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে