রমজানে যা খাবেন যা খাবেন না

  ডা. দিদারুল আহসান

২১ মে ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২১ মে ২০১৮, ১১:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোজা শুধু আত্মশুদ্ধি ও সংযমই শিক্ষা দেয় না, আত্মনিয়ন্ত্রণেরও শিক্ষা দেয়। রোজার সময় সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকার বিষয়টি শরীরের ওপর যে প্রভাব ফেলে, তা কাটিয়ে উঠতে ঐতিহ্যগতভাবে সেহরি ও ইফতারে আমরা যে ধরনের খাবার খাই, সেগুলোর সব যে স্বাস্থ্যসম্মত, তা নয়; কিছু খাবার আছে, যেগুলো স্বাস্থ্যসম্মত কিংবা পুষ্টিকর খাবার হলেও সময়োচিত নয়। বিশেষ করে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর সঙ্গে অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণেও শরীরে সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু রোজা রেখে শারীরিক বিপত্তি এড়ানো খুব সহজ।

করণীয় : এ জন্য সেহরি ও ইফতারে অতিভোজন পরিহার করতে হবে। সুস্থ থাকতে সব ধরনের খাবার মিলিয়ে খাদ্যতালিকা তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে আটা বা চাল, দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাবার, মাছ, মাংস, ডিম, শস্যদানা, শাকসবজি এবং সর্বোপরি ফলজাতীয় খাবার তালিকায় রাখতে হবে। রোজার খাবার যত সাধারণ হবে, ততই ভালো। রোজা হচ্ছে বাড়তি ওজনসম্পন্ন লোকের ওজন কমানোর উপায়। কিন্তু অতিভোজনের ফলে উদ্দেশ্যটাই বিফলে যায়।

রোজায় দীর্ঘ সময় উপবাস থাকতে হয় বলে সেহরিতে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট বা জটিল শর্করা গ্রহণ করা উচিত। এ জটিল শর্করা ধীরগতিতে হজম হয় এবং হজম হতে প্রায় ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। ফলে দিনের বেলায় ক্ষুধা কম অনুভূত হয়। জটিল শর্করা জাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে শস্যদানা বা বীজজাতীয় খাবার, অপরিশোধিত বা নন-রিফাইনড আটা, ময়দা এবং ঢেঁকিছাঁটা চাল। অন্যদিকে পরিশোধিত শর্করা দ্রুত হজম হয়ে যায় এবং রক্তে দ্রুত গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে শরীর চাঙা করে তোলে। এ ধরনের খাবার হজমে সময় নেয় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। তাই এ ধরনের খাবার ইফতারে গ্রহণ করা উচিত। দ্রুত হজম হয়, এ ধরনের শর্করাজাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে রিফাইনড ময়দা ও চিনিজাতীয় খাবার। খেজুর হতে পারে ইফতারের ভালো খাবার। খেজুর চিনি, তন্তু বা ফাইবার, শর্করা, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়ামের উৎস। ইফতারে দুই থেকে তিনটি খেজুর শরীর দ্রুত চাঙা করে দিতে পারে। তবে সঙ্গে পানি পান জরুরি। ইফতারে ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ায় অনেক রোজাদার শারীরিক অস্বস্তিতে ভুগে থাকেন। তাই ভাজাপোড়া কম খাওয়া উচিত। ভাজাপোড়া, অতি মশলাযুক্ত এবং অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার খেয়ে অনেকেই রোজা রেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে রোজা ভাঙার পর তাদের বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে ওঠেন। হঠাৎ করে এক সঙ্গে এসব খাবার খাওয়ায় বদহজম, বুকজ্বালা এবং ওজন বৃদ্ধির সমস্যা দেখা দেয়। রোজা রাখার সময় যাতে অ্যাসিডিটি দেখা না দেয়, সে জন্য আঁশযুক্ত খাবার, শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে। এ জাতীয় খাবার পাকস্থলীর মাংসপেশির সঙ্কোচন-প্রসারণ প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দিয়ে পেটফাঁপা কমানোর পাশাপাশি খাবারগুলো ভেঙে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশে পরিণত করে। এতে খাবার সহজেই হজম হয়ে যায়। ইফতারের পর থেকে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত শরীরে সারা দিনের পানিস্বল্পতা এবং শরীর দূষণমুক্ত রাখতে প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হবে। সেহরির পর কলা খাওয়া যেতে পারে। কলায় আছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং কার্বোহাইড্রেট। তবে কলা কারো কারো ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা করে থাকে। অন্যদিকে যারা মুখে ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখছেন, তারাও চিকিৎসকের পরামর্শে রোজা রাখতে পারবেন। তবে ব্যায়াম করার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে, যাতে ব্যায়ামের ধকল বেশি না হয়। ইনসুলিন গ্রহণকারী রোগীও রোজা রাখতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

লেখক : চর্ম, অ্যালার্জি ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ

সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আল-রাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা

০১৭১৫৬১৬২০০, ০১৮১৯২১৮৩৭৮

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে