ওষুধ থেকে কিডনি রোগ

  ডা. মো. অহিদুজ্জামান

১৩ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কিডনি সমস্যার ক্ষেত্রে অনেক সময় ওষুধ ক্ষতিকারক ভূমিকা পালন করে থাকে। কোনো কোনো ওষুধ সেবনে কিডনি তাৎক্ষণিকভাবে বিকল হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থার নাম একিউট রেনাল ফেইলিওর বা কিডনির তাৎক্ষণিক কার্যহীনতা। এ জন্য ওষুধ সব সময় নিরাপদ মনে করা ঠিক নয়।

ওষুধজনিত কিডনি রোগ : বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গেছে, ওষুধ সেবনে ৭ থেকে ১০ শতাংশ কিডনি তাৎক্ষণিকভাবে বিকল (এআরএফ) হয়ে যেতে পারে এবং ৫ থেকে ৭ শতাংশ ধীরগতিতে বিকল (সিআরএফ) হয়ে যেতে পারে। কারণ হিসেবে বলা যায়, বেশির ভাগ ওষুধই কিডনি দিয়ে বের হয়ে যায়। এ কারণে কিছু ওষুধ কিডনির ক্ষতি করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

কিছু ওষুধের কারণে বিভিন্ন অ্যালার্জি ও কিডনির রক্তপ্রবাহ কমে যায়, এমনকি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। ব্যথা উপশমের ওষুধ বা এনএসএআইডি গ্রুপের ওষুধ সেবনেও সরাসরি কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক সময় মূত্রবর্ধক ওষুধ ফ্রুসেমাইড অথবা কোষ্ঠকাঠিন্য উপশমের ল্যাক্সেটিভ জাতীয় ওষুধ সেবনে আকস্মিক কিডনি ফেইলিওর হতে পারে। এসব ওষুধের সঙ্গে যখন ব্যথা উপশমের ওষুধ দেওয়া হয়, তখন কিডনির সমস্যা আরও বেড়ে যায়।

সাধারণত জীবাণুজনিত ইনফেকশন নিরাময়ে যেসব অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়Ñ এর মধ্যে সালফোনামাইড, কোট্রাইমোক্সাজল, পেনিসিলিন কিডনি কোষের ক্ষতি করতে পারে। এমনকি ব্যথার জন্য ব্যবহৃত এসপিরিন, ডাইক্লোফেনাক, আইব্রপ্রুফেন, নেপ্রোক্সেন প্রয়োগে নেফ্রাইটিস বা কিডনির সমস্যা দেখা দিয়ে এআরএফ করতে পারে। কিডনির ছাঁকনি নষ্ট করে নেফ্রাইটিস করতে পারেÑ পেনিসিলামাইন, লেড, গোল্ড, মারকারি ও আর্সেনিক মিশ্রিত ওষুধগুলো। জেন্টামাইসিন, কেনামাইসিন, সেফাললোসপরিন, রিফামপিসিন, এলুপিরিনল জাতীয় ওষুধও কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিডনি অকেজো করে ফেলতে পারে।

কিডনি রোগে ওষুধের ব্যবহার : কিডনি অকেজো বা বিকল থাকলে ওষুধের ব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক হওয়া জরুরি। কেননা কিডনির কাজের মধ্যে অন্যতম হলো পরিপাকের পর শরীর থেকে ওষুধসহ অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় জিনিস প্রস্রাবের সাহায্যে বের করে দেওয়া। কাজেই কিডনি যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন রক্তে ওষুধের অবস্থান স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় থাকতে পারে। এমনকি ওষুধ কিডনি থেকে বের হওয়ার পথে বিভিন্ন বাধায় পড়ে। এ কারণে ওষুধ সেবন, মাত্রা ও ব্যবহারে অনেক পরিবর্তন আনতে হয়। রক্তে ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন বেশি থাকলে বা কিডনি অকেজো হলে যেসব ওষুধের ব্যবহার নিষিদ্ধÑ তা হলো টেট্রাসাইক্লিন, কোট্রিমাজল, সালফোনেমাইড, নালিডেক্সিক এসিড, নাইট্রোফুরানটয়িন, স্পাইরোনোল্যাকটন, কেনামাইসিন, স্ট্রেপ্টোমাইসিন, ডাইক্লোফেনাক, এসপিরিনি জাতীয় ওষুধ। কিডনি অসুস্থ থাকলে অ্যান্টিবায়োটিকÑ অ্যাম্পিসিলিন, অ্যামোক্সাসিলিন, সেফালোসপোরিন, সেফ্রাডিন, সিপ্রফ্লোক্সাসিন, জেন্টামাইসিন, কেনামাইসিন, যক্ষ্মার ওষুধ ইথামবুটল, এম্ফোটেরিসিন, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ কেপ্টোপ্রিল, এটেনোলল, এনালাপ্রিল, লিসিনোপ্রিল, ক্যানসারের ওষুধ মেথোট্রিক্সেট, সাইক্লোসপোরিন, সিসপ্লাটিন, কার্বোপ্লাটিন ইত্যাদি স্বল্প মাত্রায় ব্যবহার করতে হয়। ওষুধ যেমন রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়, তেমনি এটি কিডনিসহ দেহের যে কোনো অঙ্গের ক্ষতিও করতে পারে। কাজেই চিকিৎসক ও রোগীÑ উভয়কেই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

লেখক : কিডনি ও প্রস্টেট রোগ বিশেষজ্ঞ

কনসালট্যান্ট, ইউরোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, ঢাকা

চেম্বার : সেন্ট্রাল হসপিটাল, বাড়িÑ২

রোডÑ৫, গ্রিনরোড, ধানম-ি, ঢাকা

০১৭১১০৬৩০৯৩, ০১৯১১৭৬৫১৫০

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে