শিশুর জন্মের পর মায়ের চুলপড়া

  ডা. ওয়ানাইজা

১৩ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সন্তান জন্মদানের পর সাধারণত মায়েদের প্রচুর চুল পড়ে। গর্ভাবস্থায় শরীরে হরমোনের মাত্রা থাকে অনেক বেশি। ডিম্বাশয়, প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল ইত্যাদি থেকে অনেক হরমোন বের হয়। সন্তানের জন্মের পর এ হরমোনের মাত্রা হঠাৎ করে কমে যায়। ফলে চুল ওঠে।

বেশি চুল পড়ে : নরমাল ডেলিভারি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। হরমোনের মাত্রা তাই স্বাভাবিক থাকে। সিজারের পর হরমোনের মাত্রা হঠাৎ করে কমে যায়। তাই চুল পড়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

ঘুমের ব্যাঘাতে চুল পড়া : শিশুকে খাওয়ানোর জন্য রাতে বারবার মাকে উঠতে হয়। সারাদিন মা ব্যস্ত থাকে শিশু সামলাতে। আমাদের দেশের বেশিরভাগ পরিবারে সদ্যপ্রসব করা মায়ের তেমন যতœ ও খাওয়া-দাওয়া হয় না। ফলে ঘুম হয় না। তখন চুল পড়ে।

চুল গজানোর ওষুধ : ক্ষেত্রবিশেষে চিকিৎসক মাথায় স্টেরয়েড ড্রপ ম্যাসাজ করতে বলেন। তাতে খানিকটা কাজ হয়। তাছাড়া মাথায় ভালোভাবে ম্যাসাজের জন্য রক্তসঞ্চালন বাড়ে, এতে চুল গজায়। সন্তান হওয়ার সাধারণত ২-৩ মাস পর্যন্ত চুল পড়ে। তবে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া ও যতœ পেলে আবার স্বাভাবিকভাবে চুল গজিয়ে যায়।

চুলের জন্য যতœআত্তি : সন্তান গর্ভে থাকাকালে এ যতœ শুরু করতে হয়। গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোÑ এ দুই অবস্থায় নারীর স্বাভাবিক প্রয়োজনীয় ক্যালরির ওপরে আরও ৩০০ থেকে ৫০০ ক্যালরি অতিরিক্ত প্রয়োজন হয়। তাই প্রোটিন, কার্বহাইড্রেট, ফ্যাট সবই ঠিকমতো খেতে হবে। একবারে না পারলে বারবার খেতে হবে। ফল, দুধ খেতে হবে পর্যাপ্ত। আমাদের দেশে সন্তান হওয়ার পর দুধ, সাগু খাওয়ার যে প্রথা প্রচলিত আছে তা ক্যালরির জোগান দেওয়। খুব বেশি তেলমসলা দেয়া খাবার এবং অতিরিক্ত ভাজাপোড়া না খাওয়াই ভালো। রক্তস্বল্পতা একটি বড় সমস্যা। আমাদের দেশের ৮০ শতাংশ মায়ের হিমোগ্লোবিন ১০ গ্রাম শতাংশের নিচে। এর চিকিৎসা অবশ্যই ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী করতে হবে। চিকিৎসা মানে ইচ্ছামতো আয়রন বড়ি বা ক্যাপসুল খাওয়া নয়। কোন ওষুধ কার ক্ষেত্রে কার্যকর, তা চিকিৎসকই বলতে পারবেন। এ ছাড়া দেওয়া হয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। দুপুরের দিকে শিশুকে দুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে যদি বাড়ির অন্য কোনো আত্মীয়া বা পরিচারিকার কাছে রেখে মা নিজে অন্তত ২-৩ ঘণ্টা ঘুমিয়ে নিতে পারেন, তা হলে ভালো হয়। দরকার হলে এ সময় শিশুকে খাওয়ানোর জন্য বুকের দুধ বের করে সঞ্চয় করে রেখে দেওয়া যেতে পারে।

লেখিকা : সহযোগী অধ্যাপিকা, ফার্মাকোলজি অ্যান্ড থেরাপিউটিক্স

ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ

০১৬৮২২০১৪২৭

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে