প্যানক্রিয়াস সার্জারি

  অধ্যাপক ডা. মো. সহিদুর রহমান

১৪ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্যানক্রিয়াসের ইনফেকশনে মারাত্মক আকার ধারণ করে, যাতে প্যানক্রিয়াসের স্বাভাবিক টিস্যুও ধ্বংস হয়ে শক্ত টিস্যুতে অবস্থান নেয়। ক্রমে প্যানক্রিয়াস শক্ত হতে থাকে। কোপেন হেগেনের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এই রোগে আক্রান্তের হার প্রতিলাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রতিবছরে মাত্র আটজন। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং জাপানিদের মধ্যে প্রতিবছর আক্রান্তের হার দুজন থেকে প্রতিলাখে ১০ জন। পুরুষের ক্ষেত্রে আক্রান্তের হার নারীর তুলনায় ৪ গুণ।

রোগের কারণ : অজানা কারণের ক্ষেত্রে এ রোগের হার অনেক বেশি। যারা গরম আবহাওয়ায় বসবাস করেন, যেমনÑ ভারতের কেরালা, তাদের ক্ষেত্রে এ রোগের হার বেশি। তরুণ বয়সে প্যানক্রিয়েটাইটিস হয়, ডায়াবেটিস দেখা দেয়। পাথর তৈরি হয়। যেসব তরুণ অতিমাত্রায় ধূমপান করেন, তাদের ক্ষেত্রে ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি।

রোগের উপসর্গ : এ রোগে বমি বমি ভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ। ব্যথার সঙ্গে এটি দেখা দেয়। প্যানক্রিয়াসে আঘাত হলে এ রোগ হয়। ক্যানসার হলে আবার প্যানক্রিয়েটাইটিসের ঝুঁকি থাকে।

লক্ষণ : ব্যথা প্রধান লক্ষণ। পেটের ওপরের মাঝখানে ব্যথা হবেÑ যদি ইনফেকশন প্যানক্রিয়াসের মাথায় হয়। যদি ইনফেকশন প্যানক্রিয়াসের বডিতে হয়, তখন ব্যথা হবে পেটের ওপরের অংশের বামদিকে, যা পেছনে চলে যায়। এ ব্যথা কখনো কখনো বাঁ কাঁধে চলে যায়। ব্যথা সব সময় হয় এবং থেকে থেকে হয়। বমি বমি ভাবের সঙ্গে ব্যথা থাকে। বমিও হতে পারে। শরীরের ওজন কমতে থাকে, ব্যথার ভয়ে তার খাওয়ার রুচি কমতে থাকে। ঘুম কমে যায়। কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। অসুখের তীব্রতা এমন রূপ নেয় যে, বারবার হাসপাতালে ভর্তি হয়। জীবনযাপনের স্বাভাবিক ক্ষমতা কমতে থাকে। ওষুধনির্ভর হয়ে পড়ে। ডায়রিয়া দেখা দেয়। ডায়াবেটিস দেখা দেয়।

পরীক্ষা : প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয়ের জন্য সিরাম এমাইলেস পরিমাপ করা হয়। সিটিস্ক্যান দিয়ে দেখা হয় প্যানক্রিয়াসের মূল নালিটি কেমন আছে। তার ব্যাসার্ধ বৃদ্ধি পেয়েছে কিনা, তার নালিতে পাথর আছে কিনা, প্যানক্রিয়াস ফুলে আছে কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। আলট্রাসাউন্ড দিয়ে প্যানক্রিয়াসের আয়তন ও নালির ব্যাস দেখা হয়। এমআরসিপি, আইআরসিপি, পিটিসি পরীক্ষাগুলো করা হয় নানা কারণে। সার্জারি করে অসুখ ভালো হবে কিনা, পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে কোন চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে অসুখ নির্মূল করা সম্ভব।

চিকিৎসা : প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে কারণ নির্ণয় করা যায়। ফলে চিকিৎসা দিলে রোগী সম্পূর্ণভাবে ভালো হয়ে ওঠেন। সার্জারির সময় পাথর বের করে আনা হয়।

নতুন সার্জারি : প্যানক্রিয়াস সার্জারি প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি, যা বিশ্বে স্বীকৃত। এটির নাম পাস্তো পদ্ধতি। এর অনেক রূপান্তর হয়েছে। এমনই একটি ‘শহিদ পদ্ধতি’। এতে একটি স্থান কাটতে ও সেলাই করতে হয়। এতে জটিলতা ও সময় দুটোই কম।

লেখক : অধ্যাপক, হেপাটোবিলিয়ারি প্যানক্রিয়েটিক অ্যান্ড লিভার ট্রান্সপ্লান্ট

সার্জারি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব

মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।

চেম্বার : লিভার গ্যাস্ট্রিক স্পেশালাইজড হাসপাতাল, বাড়ি-৭৫, রোড

৫/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানম-ি, ঢাকা

০১৮৭৯১৪৩০৫৭, ৯১৩৩৬১৯

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে