গরমে বয়স্কদের যতœ

  ডা. এম ইয়াছিন আলী

১২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গরমকালে বয়স্কদের বাড়তি যতœ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ বয়স্কদের বেশিরভাগই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। বয়স্করা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগ, আর্থ্রাইটিসজনিত ব্যথা-বেদনা ছাড়াও পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন, হিট স্ট্রোক, হজমের সমস্যা ইত্যাদি সমস্যায় ভোগেন।

পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন : অতিরিক্ত গরমের কারণে আমাদের শরীর থেকে প্রচুর ঘাম ঝরতে থাকে। এ ঘামের সঙ্গে বেরিয়ে যায় শরীরের প্রয়োজনীয় লবণ ও পানি। এ লবণ ও পানির পরিমাণ কমে গিয়ে শরীরে তৈরি হয় ডিহাইড্রেশন। বেশি ঘাম ঝরলে ডাব বা স্যালাইনের পানি পান করতে হবে।

পেটের সমস্যা : গরমে খাবার তাড়াতাড়ি পচে যায় বা খাবারে বিষক্রিয়া হয়। সেসব খাবার খেলে ফুড পয়জনিং হতে পারে। এ থেকে বমি কিংবা ডায়রিয়া হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে ডিহাইড্রেশন বা ব্লাড প্রেসার কমে যেতে পারে। তাই বাড়িতে তৈরি টাটকা খাবার খাওয়া ভালো। বাইরের বা রেস্তোরাঁর তৈলাক্ত খাবার খাবেন না।

অ্যাজমা বা হাঁপানি : গরমে অতিরিক্ত ঘাম থেকে ঠা-া, সর্দি-কাশি ইত্যাদি দেখা দেয়, যা হাঁপানিতে আক্রান্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ঘেমে গেলে দ্রুত ঘাম মুছে দিতে হবে।

উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা : প্রচ- তাপে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তের চাপ বা ব্লাড প্রেসার আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এ সময় বয়স্ক ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে। যেমনÑ প্রেসারের ওষুধ নিয়মিত খাওয়াতে হবে। তৈলাক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। আলাদা লবণ খাওয়ানো যাবে না। প্রচ- রোদে হাঁটাহাঁটি করা যাবে না। মানসিক চাপমুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে।

ব্যথাবেদনাজনিত সমস্যা : বয়স্ক ব্যক্তিদের ব্যথাবেদনা খুবই পরিচিত উপসর্গ। এটি একটি ডিজেনারেটিভ ডিজিজ বা বয়সজনিত ক্ষয়রোগ। বয়স ৪০-এর ওপর হলে হাড়ের ভেতরের উপাদানগুলো কমে যেতে থাকে। জয়েন্টের ভেতরের সাইরেভিয়াল ফ্লুইডগুলো কমে যেতে থাকে। এতে বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা হয় বিশেষ করে ঘাড়, কোমর, হাঁটুতে ব্যথা হয়। বয়স্ক ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে অনেক অসুবিধা হয়। যেমনÑ নিচে বসা, নামাজের মতো বসা, টয়লেটে বসা, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা ইত্যাদি কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটে। তাই ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, গ্লুুকোসামিন হাইড্রোক্লোরাইড, কন্ড্রোটিন হ্যালুরোনিক অ্যাসিড ইত্যাদি খাবার খেতে হবে। পাশাপাশি এ সমস্যায় ফিজিওথেরাপি ও থেরাপিউক ব্যায়াম অনেক উপকারী।

লেখক : চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট

ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানম-ি, ঢাকা। ০১৭৮৭১০৬৭০২

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে