সময় থাকতেই চোখের মর্যাদা দিন, যত্ন নিন

  অদ্বৈত মারুত

১৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৮, ০৯:৩৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

চোখ মানবদেহের অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অঙ্গ। এই চোখ নানা কারণে বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। তাই সময় থাকতেই চোখের যত্ন নেওয়া উচিত। এ নিয়ে কথা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চক্ষুরোগ বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান এবং চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন অধ্যাপক ডা. সৈয়দ একে আজাদ-এর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অদ্বৈত মারুত

আমাদের সময় : চোখ কীভাবে কাজ করে?

অধ্যাপক ডা. সৈয়দ একে আজাদ : মাত্র দুটি অক্ষরের শব্দ হলো চোখ। এটির গঠন প্রক্রিয়া বেশ জটিল। চোখের বিভিন্ন অংশ। যেমন- কর্নিয়া, আইরিস, রেটিনা, অ্যাকোয়াস হিউমার, ভিট্রিয়াস হিউমার, অপটিক নার্ভ ইত্যাদি। ঠিকঠাক দেখার জন্য কর্নিয়া থেকে অপটিক নার্ভ প্রতিটি নির্দিষ্ট ছন্দে কাজ করে থাকে। ছোট্ট বলের মতো এ চোখ থাকে হাড়ের মজবুত কোটরের ভেতরে। সামনের দিকের খানিকটা বেরিয়ে আসা অংশ ঢাকা থাকে চোখের পাতা দিয়ে। বাইরে দিয়ে চোখের সাদা যে অংশ দেখা যায়, তার নাম স্কেলেরা। কিছু মাংসপেশি দিয়ে চোখ প্রয়োজনমতো ঘোরানো যায়। আমরা যে রঙিন দেখি, তা সম্ভব হয়েছে চোখের রেটিনার যে বিভিন্ন স্তর আছে, সেটার রড ও কোণ কোষের জন্য। রড ও কোণ কোষের অন্যতম উপাদান হলো ভিটামিন এ। এ কারণে ভিটামিন এ-এর অভাব হলে রাতকানা রোগ হয়।

আমাদের সময় : চোখ সাধারণত কোন ধরনের রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে?

অধ্যাপক ডা. সৈয়দ একে আজাদ : বিভিন্ন রোগের কারণে চোখে সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। চোখের সমস্যাগুলোর মধ্যে চোখ ওঠা একটি। চোখ লাল হওয়া, চোখে কিছু পড়েছে এমন বোধ হওয়া, চোখ ফুলে যাওয়া, সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় চোখ লেগে যাওয়া, সব সময় পিচুটা জমা এ রোগের লক্ষণ। ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস আক্রমণের কারণে এ রোগ হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে ড্রপ ব্যবহারে আরোগ্য লাভ করা যায়। এটি ছোঁয়াচে রোগ। তাই কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব হয়। চোখের অ্যালার্জি আরেকটি রোগ। চোখ চুলকানো, পানি পড়া, লাল হয়ে যাওয়া, চোখে গুটি ওঠা ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ। শিশুদের এ রোগ বেশি হলেও বড়দেরও হতে পারে। শুষ্ক মৌসুমে এ রোগ বেশি হয়। একেকজনের একেক জিনিসে চোখে অ্যালার্জি হতে পারে। ধুলাবালি, খাবার, রাসায়নিক পদার্থ, প্রসাধনী, ফুলের রেণুতে চোখের অ্যালার্জি হয়। ট্যারা চোখও একটি রোগ। যখন কোনো বস্তুর দিকে তাকাতে গিয়ে এক চোখ সোজা থাকে এবং অন্য চোখ বেঁকে যায়, তখন সেই বাঁকা চোখই ট্যারা চোখ। যে-ই চোখ ট্যারা থাকে, সেই চোখে রোগী কিছুই দেখে না। এক চোখ দিয়ে কোনোভাবে কাজ চালিয়ে নেয়। ট্যারা চোখ বালক-বালিকাকে অনেকে লক্ষ্মী ট্যারা বলে থাকে। তাদের ধারণা, ট্যারা চোখ মঙ্গলের লক্ষণ। এটি একটি ভুল ধারণা। সময়মতো চিকিৎসা না করলে চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে চোখ অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

চোখে ঘা হতে পারে। লক্ষণ হলো- চোখের কালো মণিতে সাদা দাগ, আক্রান্ত চোখ লাল, ব্যথা হওয়া, আলো সহ্য করতে না পারা এবং দৃষ্টি কমে যাওয়া। আঘাতের কারণে এ রোগ হয়। ধান কাটার মৌসুমে ধানের পাতার বা ধানের আঘাতে আমাদের দেশে এ রোগ বেশি হয়। ভিটামিন এ-এর অভাবে শিশুর এ রোগ হতে পারে। চোখে প্রদাহ হতে পারে। লক্ষণ হলো- চোখ লাল হওয়া, আলো সহ্য করতে না পারা, প্রচ- ব্যথা হওয়া ইত্যাদি। রোগ বেশিদিন স্থায়ী থাকলে দৃষ্টি কমে যেতে পারে। চোখের ভয়ঙ্কর রোগ হলো চোখের উচ্চচাপ বা গ্লুকোমা। লক্ষণ হলো- চোখে ব্যথা হওয়া, আলো সহ্য করতে না পারা, পানি পড়া, মাথাব্যথা ও বমিভাব হওয়া ইত্যাদি। এ রোগে চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে গিয়ে চোখের পেছনের স্নায়ু অকার্যকর হয়ে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে।

আমাদের সময় : চোখের যত্ন কীভাবে নেওয়া যায় অর্থাৎ আমাদের করণীয় কী?

অধ্যাপক ডা. সৈয়দ একে আজাদ : অনেকের অভ্যাস থাকে বারবার চোখ ধুয়ে নেওযার। কিন্তু এটা ঠিক নয়। কারণ বারবার চোখ ধুলে চোখের পানির প্রয়োজনীয় উপাদান ধুয়ে যায়। ফলে চোখের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার, যেমন- টাটকা রঙিন শাকসবজি, ফলমূল এবং ডিম, দুধ খেতে হবে। চোখে কিছু পড়লে রগড়ানো মোটেও ঠিক নয়। পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চোখে কোনো ধরনের আঘাত লাগলে ঠান্ড পানি দিয়ে চোখ ধুতে হবে। চোখের আঘাত মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে। তাই দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সন্তান জন্মদানের পর মায়েদের চোখে কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করানোর আগে সম্ভব হলে চক্ষুরোগের চিকিৎসককে দেখিয়ে নেওয়া ভালো। আরেকটি প্রয়োজনীয় কথা হলো, সবারই বছরে একবার চোখ পরীক্ষা করানো উত্তম। ডায়াবেটিস থাকলে সুগার নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সঙ্গে অবশ্যই চোখ দেখানো উচিত। কেননা ডায়াবেটিস চোখের মারাত্মক ক্ষতি করে থাকে।

আমাদের সময় : আপনাকে ধন্যবাদ

অধ্যাপক ডা. সৈয়দ একে আজাদ : সত্যিকার অর্থেই চোখ প্রতিটি মানুষের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। কাজেই এটির মূল্য দিতে হবে এবং যতœ নিতে হবে। তবেই আমরা মারাত্মক চোখের রোগ থেকে রক্ষা পাব। আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে