হজযাত্রীর চোখের যত্ন নিতে হবে আগেই

  অদ্বৈত মারুত

২০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৮, ০৮:৩৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

সামর্থ্যবান মুসলমানদের অনেকেই ইতোমধ্যে মক্কাশরিফে গিয়েছেন পবিত্র হজপালনের উদ্দেশ্যে। যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন বা নিচ্ছেন অনেক হজযাত্রী। কিন্তু বয়স্কদের মধ্যে অনেকেই হয়তো চোখের রোগে আক্রান্ত। হজপালনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে এবং গিয়ে কীভাবে চোখের যত্ন নেবেন কিংবা সমস্যায় আক্রান্ত হলে করণীয় কী, এ নিয়ে কথা হয় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক বিশিষ্ট চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক লেখক ডা. মো. ছায়েদুল হক-এর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অদ্বৈত মারুত।

আমাদের সময় : হজ করতে অনেকেই সৌদি আরবের পথে আবার কেউ প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যাবেন। হজ একটি ব্যয়বহুল ও পরিশ্রমসাধ্য কাজ। মক্কা-মদিনায় স্বাস্থ্যগত দিক থেকে বেশ প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমাদের দেশ থেকে যেসব হজযাত্রী সৌদি আরব যাচ্ছেন, তাদের অনেকেই বয়স্ক। তাদের চোখের ব্যাপারে কেমন প্রস্তুতি দরকার?

ডা. ছায়েদুল হক : প্রাপ্তবয়স্ক স্বাধীন, জ্ঞানসম্পন্ন, সুস্থ ও দৃষ্টিসম্পন্ন মুসলিম নরনারী যারা ব্যয়ভার বহনে সক্ষম, তাদের জন্য পবিত্র হজ ফরজ করা হয়েছে। খুব সংক্ষেপে হজের ফরজ কাজগুলো হলো- ইহরাম বাঁধা, নির্দিষ্ট সময়ে আরাফায় অবস্থান করা, তাওয়াফে জিয়ারত (কাবা প্রদক্ষিণ করা) বা ফরজ তাওয়াফ করা। আর ওয়াজিব কাজগুলো হলো সাঈ করা, মুযদালিফায় অবস্থান, জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ, কোরবানির পর মাথা মু-ন ও বিদায়ী তাওয়াফ। বাকি কাজগুলো সুন্নত বা মোস্তাহাব। এ কাজগুলো করতে দৃষ্টি খুব একটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না। তবে এর বাইরে কোরআন-হাদিস পড়ে সময় কাটানো খুবই বরকতময়।

এ ছাড়া ওষুধের গায়ে লেবেল দেখা এবং যাদের ইনসুলিন নিতে হয়, তাদের জন্য কাছের দৃষ্টি খুবই জরুরি বিষয়। কারণ ওখানে সবাই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকেন। ফলে নিজেকেই নিজের কাজগুলো সামলাতে হয়। তাদের জন্য হজে যাওয়ার আগেই একজন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞকে দিয়ে চোখের পাওয়ার পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত। যাদের চশমা পরতে হয়, তাদের উচিত দুই চশমা একসঙ্গে বানিয়ে নেওয়া। একটি পরে থাকবেন এবং অন্যটি স্যুটকেস বা ব্যাগে যত্ন করে রেখে দেবেন। কোনো কারণে একটি ভেঙে গেলে বা হারিয়ে গেলে দ্বিতীয়টি দিয়ে কাজ চালাবেন।

আমাদের সময় : গরমে বা রোদে কি চোখে কোনো সমস্যা হতে পারে?

ডা. ছায়েদুল হক : সমস্যা বলতে ওখানে যেমন রোদ, তেমনি গরম। দেখা যায়, রোদে অনেকেই তাকাতে পারেন না। তাদের জন্য উপদেশ হলোÑ রোদে ছাতা ব্যবহার করবেন। তাতে অনেকটা আরাম পাওয়া যাবে। আরও ভালো হবে, যদি একটি কালো সানগ্লাস নিয়ে যান এবং বাইরে সানগ্লাস পরে থাকলে বেশ আরাম পাবেন। মক্কা-মদিনায় সবাই এবাদত বন্দেগিতে সময় কাটাতে সচেষ্ট থাকেন।

এশার নামাজের পর অনেকেই তাওয়াফে সময় কাটান। শেষভাগে তাহাজ্জোতের নামাজ, তার পর ফজরের নামাজ। এভাবে দেখা যায়, ঘুম অনেক কম হয়। কেউ হয়তো দিনের বেলায় ঘুমিয়ে পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে দেখা যায়, অনেক সময় চোখ জ্বালাপোড়া করে বা চুলকানোর মতো উপসর্গ দেখা দেয়। যাদের চোখে আগে থেকেই অ্যালার্জি ছিল এবং যারা ড্রাই আই বা চোখের শুষ্কতায় ভুগছেন, তাদের জন্য উপদেশ- ফজরের নামাজ শেষে নাশতা সেরে ঘুম দেবেন এবং টানা ঘুম দিয়ে উঠে গোসল সেরে জোহরের নামাজের জন্য তৈরি হবেন। এতে চোখ, শরীর ও মন ভালো থাকবে। সারাদিন প্রচুরা পানি পান করবেন এবং অবশ্যই খুব ঠাণ্ডা পানি পরিহার করে চলবেন। এত চোখে জ্বালাপোড়া বা চুলকানি কম থাকবে।

আমাদের সময় : বয়স্ক অনেকেই আছেন, যাদের চোখে ছানি। তাদের করণীয় সম্পর্কে জানতে চাই।

ডা. ছায়েদুল হক : তাদের জন্য এ মৌসুমে বিশেষ কোনো পরামর্শ নেই। তবে ভবিষ্যতে যারা হজে যাবেন, তাদের উচিত অন্তত ২ থেকে ৩ মাস আগেই প্রয়োজনীয় ছানি অপারেশন করিয়ে নেওয়া, যাতে একটি স্বচ্ছ দৃষ্টি নিয়ে হজের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে পারেন।

আমাদের সময় : চোখের ব্যাপারে কোন ধরনের যত্ন বা সাবধানতা প্রয়োজন?

ডা. ছায়েদুল হক : আগে থেকে কেউ চোখের কোনো রোগে আক্রান্ত থাকলে, যেমনÑ ক্রনিক ডেক্রিয়োসিস্টাইটিস বা পানি পড়া সমস্যা বা গ্লুকোমা থাকলে চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সঙ্গে নিয়ে যাবেন। চোখ ওঠা বা কনজাংটিভাইটিসের মতো কোনো সমস্যার জন্য অপ্টিমক্স জাতীয় ড্রপ সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন। তবে যত সাবধানতাই অবলম্বন করা হোক না কেন, কখন কী সমস্যা সামনে আসবে আগে থেকে বলা মুশকিল। সে ক্ষেত্রে মেডিক্যাল টিমের একটি টেলিফোন নাম্বার অবশ্যই সংগ্রহে রাখতে হবে, যাতে প্রয়োজনে সহযোগিতা নেওয়া যায়। সবশেষে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। আল্লাহ চাইলে আপনি সুস্থ শরীরে সুন্দরভাবে হজ পালনে সক্ষম হবেন ইনশাল্লাহ।

আমাদের সময় : আপনাকে ধন্যবাদ।

ডা. ছায়েদুল হক : আপনাকেও ধন্যবাদ।

সবার জন্য শুভকামনা রইল।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে