ভ্রমণে শিশুর প্রতি দরকার বাড়তি সতর্কতা

ডা. অমৃত লাল হালদার

  শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বড়দের মতো শিশুদের ভ্রমণে প্রায়ই বমি বা বমির ভাব হয়। একে বলা হয়, মোশন সিকনেস। এ থেকে রেহাই পেতে তাদের ভ্রমণের আগে অল্প পরিমাণে শুকনো খাবার খাওয়াবেন। গাড়িতে উঠে চুপচাপ বসে থাকতে বলুন। বাইরে বেশি তাকানোর দরকার নেই। প্রয়োজনে চিকিৎসকের কাছ থেকে মাত্রা জেনে ডমপেরিডন জাতীয় ওষুধ ভ্রমণের ৩০ মিনিট আগে খাইয়ে দিন। গাড়িতে ওঠার পর অবস্থা বুঝে আরেক ডোজ খাওয়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। অবশ্যই ভ্রমণের সময় হাতের কাছে পলিথিন ব্যাগ, টিস্যু, রুমাল বা তোয়ালে এবং বাড়তি কাপড় রাখুন। সঙ্গে পানির বোতলও। খুব ছোট শিশুকে নিয়ে দীর্ঘ ভ্রমণ করতে গেলে অবশ্যই বাড়তি ডায়াপার সঙ্গে নিন। ভিজে গেলে গাড়িতে বা বাসে বসেই পাল্টে দিন। পাল্টানোর দরকার হলে একটি পলিথিন সঙ্গে নিন। আরও নিন ময়লা জিনিস ফেলার জন্য একটি ব্যাগ। ভ্রমণের সময় গাড়িতে বা ট্রেনে বুকের দুধ খাওয়াতে অসুবিধা হলে তা চেপে একটি পাত্রে নিতে পারেন। পরিষ্কার বাটি চামচ ব্যবহার করে পরে খাইয়ে দিতে পারবেন। ভ্রমণে গিয়ে পেটের গ-গোল হয় অনেকেরই। পথে-ঘাটের খাবার শিশুদের খাওয়াবেন না। পথে খাওয়ার জন্য বিস্কুট, মুড়ি, ফলমূল বা শুকনো খাবার নিজেরাই নিয়ে নিন। বিশুদ্ধ পানি সঙ্গে নিতে ভুলবেন না।

ভ্রমণে দরকারি ওষুধ নিতে ভুলবেন না। বিশেষ করে খাবার স্যালাইনের প্যাকেট, ডেটল বা স্যাভলন, কটন, ব্যান্ডেজ ইত্যাদি। কারণ আপনি যেখানে যাচ্ছেন, সেখানে হয়তো সব ওষুধ পাওয়া নাও যেতে পারে। এ ছাড়া শিশুদের জন্য নিতে হবে নাকের ড্রপ, জ্বরের ওষুধ প্যারাসিটামল, কফ সিরাপ এবং সর্দির জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন। অনেক সময় শিশুর অসুখের কারণে ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করতে হয়। তা ছাড়া শিশু অসুস্থ থাকলে ভ্রমণ হয়ে যায় অনর্থক। এ জন্য শিশুর স্বাস্থ্যের দিকে আলাদা করে খেয়াল রাখা জরুরি।

লেখক : আবাসিক চিকিৎসক

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ইব্রাহিম কলেজ, ইব্রাহিম সরণি, সেগুনবাগিচা, ঢাকা

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে