নবজাতকের নাভির যতেœ করণীয়

  ডা. অমৃত লাল হালদার, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নবজাতকের নাভি খুব সংবেদনশীল একটি অঙ্গ। সাধারণত জন্মের তিনদিন থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে শুকিয়ে ঝরে পড়ে এ অংশটি। জন্মের পর ডাক্তার, নার্স বা ট্রেনিংপ্রাপ্ত বার্থ অ্যাটেনডেন্টরা শিশুর নাভি পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত ক্ল্যাম্প বা সুতা দিয়ে বেঁধে দেন। এ সময় ৭.১ শতাংশ ক্লোরোহেস্কিডিন সলিউসন লাগানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। এতে নাভিতে ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। এরপর আর কিছু লাগানোর প্রয়োজন নেই। নাভি যথাসম্ভব পরিষ্কার এবং শুকনো রাখতে হবে। ওখানে কোনো ময়লা থাকা চলবে না এবং ভেজা থাকা যাবে না। মনে রাখবেন, নাভি কাটার জন্য বাঁশের কঞ্চি বা জীবাণুমুক্ত নয়Ñ এমন ব্লেড ব্যবহার না করা এবং নাভি কাটার পর নাভিতে ছাই, গোবর, হলুদ, পান খাওয়ার খয়ের, ঘি, ইত্যাদি লাগালে হতে পারে শিশুর ইনফেকশন ও ধনুষ্টঙ্কারের বড় কারণ। শিশুকে পোশাক এবং ডায়াপার পরানোর সময় খেয়াল রাখুন, যেন নাভি ঢেকে না থাকে; যেন বেশিরভাগ সময় বাতাসে উন্মুক্ত থাকে। প্রথম কিছুদিন শিশুকে টাবে বা সরাসরি গায়ে পানি ঢেলে স্নান না করানো ভালো। গরমের সময়ে শিশুকে নরম সুতির জামা পরানো উচিত, যেন শরীরের ভেতরে বাতাস চলাচল করতে পারে। মোটকথা, নাভি খোলা, পরিষ্কার ও সব সময় শুষ্ক রাখুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নাভিতে স্পিরিট বা অন্য কোনো ওষুধ ব্যবহার করবেন না। এতে স্বাভাবিক সময়ে নাভি পড়া বিলম্বিত হতে পারে। স্বাভাবিক সময়ের মধ্যে নাভি না পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পড়ে যাওয়ার জন্য নাভি ধরে টানাটানি করবেন না। নবজাতকের নাভিতে খুব অল্পতেই ইনফেকশন হতে পারে, যদি সঠিকভাবে যতœ না নেওয়া হয়। লক্ষ্য রাখুন, নাভি দিয়ে কোনো রক্ত বা পুঁজ পড়ে কিনা, তা থেকে কোনো দুর্গন্ধ বের হয় কিনা কিংবা নাভির চারদিকের পেটের অংশ লাল হয়েছে কিনা। এরকম পরিস্থিতিতে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন।

লেখক : আবাসিক চিকিৎসক, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ইব্রাহিম মেডিক্যাল কলেজ, সেগুনবাগিচা, ঢাকা

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে