ক্যানসার প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ সহজ

  ডা. মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:১৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

জেনে রাখা প্রয়োজন, যেমব শারীরিক পরিবর্তনে আপনাকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে তা হলো-শরীরের কোনো স্থান হঠাৎ ফুলে গেলে বা চাকা কিংবা পিণ্ড আকার ধারণ করলে; শরীরের কোনো স্থানে ঘা, যা কিনা দীর্ঘমেয়াদি এবং চিকিৎসায় ভালো হচ্ছে না; অনেকদিন ধরে ক্ষুধামান্দ্য, খাওয়ায় অরুচি কিংবা অল্পতে পেট ভরে যাওয়া; ঘন ঘন বমি কিংবা বমির সঙ্গে রক্ত গেলে, দীর্ঘমেয়াদি কাশি এবং কাশির সঙ্গে রক্ত বের হলে; অস্বাভাবিক ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া কিংবা গায়ের রঙ সাদা হয়ে যাওয়া; দীর্ঘমেয়াদি অথবা ঘন ঘন জ্বর, যা কিনা স্বাভাবিক চিকিৎসায় নিরাময় হচ্ছে না; হঠাৎ করে শারীরিক ওজন অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলে; পায়খানা কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া; পায়খানা কিংবা প্রস্রাবের গতি-প্রকৃতি অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তন হলে; দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, যা কিনা আপনার দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত করে; নারীদের জন্য নির্দিষ্ট বয়সের পরও ঋতুস্রাব বা মাসিক হওয়া; শরীরে আগে থেকে থাকা কোনো চাকা বা পিণ্ডের হঠাৎ আকার, আকৃতি কিংবা রঙয়ে পরিবর্তন হওয়া।

আমাদের ভুল ধারণা : ক্যানসার একটি অভিশাপ। এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ। ক্যানসারের চিকিৎসা সাধ্যের বাইরে। আমাদের দেশে ক্যানসার চিকিৎসাযোগ্য নয়। থেরাপি দিলে রোগী আর বাঁচে না। অ্যালোপেথিক চিকিৎসার চেয়ে অল্টারনেটিভ চিকিৎসা (হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদিক, ঝাড়-ফুক ইত্যাদি) বেশি কার্যকরী।

আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি : যদি পরিবারের কোনো সদস্য কোলন ক্যানসার, স্তন ক্যানসার কিংবা অন্য কোনো ক্যানসারে আক্রান্ত থাকেন, তবে নিজে বা পরিবারের অন্য সদস্যরাও এতে আক্রান্ত হতে পারেন (যদিও এর সম্ভাবনা কম)। তবু দ্রæত জেনেটিক কাউন্সিলর কিংবা মেডিক্যাল অনকোলজিস্টের শরণাপন্ন হবেন।

ক্যানসার শনাক্ত : জরায়ুমুখের ও স্তন ক্যানসার শনাক্তকরণে সরকারি হাসপাতালগুলোয় স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম চালু আছে। অন্যান্য ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের ক্ষেত্রে আপনি মেডিক্যাল অনকোলজিস্টের শরণাপন্ন হতে পারেন। তিনি আপনাকে করণীয় সম্পর্কে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারবেন।

প্রতিরোধে করণীয় : স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা। শারীরিক ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। ধূমপান, তামাক, জর্দা, গুল পরিহার করা। অতিরিক্ত তৈলাক্ত, চর্বিযুক্ত কিংবা ফাস্টফুড খাবার পরিহার করা। প্রতিদিন খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত ফলমূল, শাকসবজি খাওয়া। উপরের লক্ষণগুলো কোনো একটি দেখা দিলে দ্রæত অন্তত একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।

ডা. মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম

মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট

লেখক : সিএমও, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটাল,

মহাখালি, ঢাকা। ০১৮১৯৪৯২৪২৩

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে