অ্যাজমা নিয়ে আমাদের যত ভ্রান্ত ধারণা

  অধ্যাপক ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস

০৭ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:০৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

অ্যাজমা বা হাঁপানি আসলে শ্বাসনালির রোগ। যদি কোনো কারণে শ্বাসনালিগুলো অতিমাত্রায় সংবেদনশীন হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন ধরনের উত্তেজনায় উদ্দীপ্ত হয়, তখন বাতাস চলাচলের ক্ষেত্রে পথে বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে শ্বাস নিতে বা ফেলতে খুব কষ্ট হয়।

যাদের হাঁপানি হতে পারে : যে কোনো বয়সী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর যে কেউ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। যাদের রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়ের হাঁপানি আছে, তাদের এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। আবার দাদা-দাদির থাকলে (বাবা-মায়ের না থাকলেও) নাতি-নাতনি বা তাদের ছেলেমেয়ের এ রোগ হতে পারে।

অ্যাজমা ছোঁয়াচে কিনা : এ রোগ ছোঁয়াচে নয়। পারিবারিক বা বংশগতভাবে হতে পারে। অ্যাজমায় আক্রান্ত মায়ের বুকের দুধ পানে শিশুর অ্যাজমায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। মায়ের সংস্পর্শে থেকেও হওয়ার আশঙ্কা নেই।

প্রধান উপসর্গ : বুকের ভেতর বাঁশির মতো শাঁ শাঁ আওয়াজ। শ্বাস নিতে ও ছাড়তে কষ্ট। দম খাটো অর্থাৎ ফুসফুস ভরে দম নিতে না পারা। ঘন ঘন কাশি। বুকে আঁটসাঁট ভাব। রাতে ঘুম থেকে উঠে বসা।

চিকিৎসা : রক্তের বিশেষ পরীক্ষা ও বুকের এক্স-রে ছাড়াও স্কিন প্রিক টেস্টের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা যায়।

ফুসফুসের ক্ষমতা দেখা : এই পরীক্ষার মাধ্যমে ফুসফুসের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

অ্যালার্জেন পরিহার : হাঁপানি থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে সহজ পন্থা হলো, যে জিনিসে অ্যালার্জি হয়ে থাকে, তা যত দ্রুত সম্ভব এড়িয়ে চলা। তাই অ্যাজমা রোগীদের প্রথমেই অ্যালার্জি পরীক্ষা করে জেনে নেওয়া প্রয়োজন, তার কোন দ্রব্যের সংস্পর্শে এলে অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়।

ওষুধ প্রয়োগ : নানা ধরনের হাঁপানির ওষুধ আছে। প্রয়োজনমতো ওষুধ ব্যবহার করে রোগী সুস্থ থাকতে পারেন।

ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি : অ্যালার্জি দ্রব্য এড়িয়ে চলা ও ওষুধের পাশাপাশি ভ্যাকসিনও অ্যাজমা রোগীর সুস্থ থাকার অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি। আগে ধারণা ছিল, অ্যাজমা একবার হলে আর সারে না। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। প্রথম দিকে ধরা পড়লে অ্যালার্জিজনিত অ্যাজমা রোগ সারিয়ে তোলা সম্ভব। আসুন ‘রোগ প্রতিকার নয়, প্রতিরোধ উত্তম’ এ নীতিতে চলি।

চেম্বার : অ্যালার্জি, অ্যাজমা অ্যান্ড হলিস্টিক হেলথ কেয়ার, স্কাইটাচ রাজকোষ, ৪৩/আর ৫/সি পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা

অধ্যাপক ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস

অ্যালার্জি ও অ্যাজমা রোগ বিশেষজ্ঞ

০১৭২১৮৬৮৬০৬, ০১৯২১৮৪৯৬৯৯

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে