শিশুর অন্ধত্বের কারণ ও চিকিৎসা

  ডা. মো. ছায়েদুল হক, চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন

০৯ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ০০:৪৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

জন্মগত ছানি, ভিটামিন-এ’র অভাব, কর্নিয়া নষ্ট হয়ে যাওয়া, হাম, অলস চোখ (যে চোখ কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে) এবং অন্যান্য কারণে শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ছানির লক্ষণ : চোখের দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমে যাবে। চোখে আবছা, কুয়াশা, ঝাপসা দেখবে, কারো সহায়তা ছাড়া চলাফেরা না করতে পারা, চোখের কালো মণি ধূসর হয়ে যাওয়া, সাদা হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

চিকিৎসা : ছানির একমাত্র চিকিৎসা হলো অপারেশন। সময়মতো অপারেশন না করে দেরি করলে চোখ সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ জন্য কোনো ওষুধ ব্যবহার করে লাভ নেই। শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ছানি অপারেশন করা হয়। অপারেশনের মাধ্যমে ছানি ফেলে দিয়ে সেখানে লেন্স বসিয়ে দেওয়া হয়। তখন ছানি রোগী ভালো দেখতে পায়।

শিশুর অন্ধত্ব প্রতিরোধ : জন্মের পর পরই শিশুর চোখের পাতা পরিষ্কার করে দিতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রসবের এক মাসের মধ্যে মাকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। জন্মের পর পরই শিশুকে শালদুধ খাওয়াতে হবে এবং ৬ মাস পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। শিশুর জন্মের পর ইপিআই’র সব টিকা দিতে হবে। এক বছর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত শিশুদের ৬ মাস অন্তর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। যেসব শিশু দেখতে পায় না, তাদের চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পাঠাতে হবে। শিশুর মণিতারা সাদা হলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে চক্ষু চিকিৎসকের কাছে পাঠাতে হবে। শিশুর চোখে আঘাত লাগলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে চক্ষু চিকিৎসকের কাছে পাঠাতে হবে। শিশুর চোখে কোনো ধরনের কবিরাজি ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়।

লেখক : প্রাক্তন সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল

চেম্বার : আইডিয়াল আই কেয়ার সেন্টার

৩৮/৩-৪, রিং রোড, শ্যামলী, ঢাকা

০১৮১৯২১২৭৪৯, ০১৯২০৯৬২৫১২

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে