ত্বকে যক্ষ্মা হলে পাওয়া যায় রক্ষা

  ডা. দিদারুল আহসান, চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ

১১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:৫০ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘হয় যদি যক্ষ্মা, নাই তবে রক্ষা’ কথাটি এখন আর ঠিক নয়। ত্বকের যক্ষ্মার ক্ষেত্রে তো নয়ই। ত্বকে যক্ষ্মা হলে উপযুক্ত চিকিৎসায় সারিয়ে তোলা সম্ভব। ত্বকের যক্ষ্মা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শরীরের মধ্যে প্রচ্ছন্ন বা প্রকাশ্যভাবে থাকা জীবাণু, যেমন-ফুসফুস, নাসিকাগ্রন্থি, অস্থি ইত্যাদি স্থান থেকে নাসিকা নল বা রক্তনালির মাধ্যমে বিস্তৃত হয়ে চর্মে পেীঁছায় এবং ত্বকে আক্রমণ ঘটায়।

আবার সরাসরি বাইরে থেকে ত্বকের স্বাভাবিক ছিদ্র পথের মাধ্যমেও অটোইনোকিউশন পদ্ধতিতে ত্বকে এ জীবাণু আক্রমণ ঘটাতে পারে। এ রোগের জীবাণুর নাম মাইকো ব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস। এটি একটি ব্যাকটেরিয়া। সাধারণভাবে ত্বকের যক্ষ্মা টিউবারকুলাস স্যংকার, লুপাস ভালগ্যারিস, টিউবারকুলোসিস ভেরুকোসা কিউটিস এবং স্কোরোফিউলোডারমা এ চারভাগে বিভক্ত।

টিউবারকুলাস স্যংকার : এটি সাধারণত শিশুর বেশি হয়। বড়দেরও হতে পারে। এ রোগে ত্বকের গায়ে ক্ষত হয়। ক্ষতের ওপর আবরণ পড়তে দেখা যায়। নাসিকাগ্রন্থিগুলো ফুলে থাকে। একপর্যায়ে ক্ষত আপনাআপনি শুকিয়ে গিয়ে দাগের সৃষ্টি করে।

লুপাস ভালগ্যারিস : রোগটি সাধারণত দেহের খোলা অংশে হয়। যেমন কেবল মুখেই ৫০ শতাংশ হতে পারে। এ ছাড়া নাক, গাল, হাত, পা, বাটক, বুক ও পিঠেও হয়। ত্বকের যক্ষ্মার মধ্যে এ রোগটি বেশি পরিচিত ও জটিল। হয়ও বেশি। আক্রান্ত স্থানটি কাচের স্লাইড নিয়ে দেখলে রঙ বদলায়, হলদে, খয়েরি ভাব, আধা স্বচ্ছ আপেলের জেলির মতো (আপেল-জেলি লক্ষণ) মনে হয়। ক্ষত ছাড়া এটা নডিউল আকারেও দেখা যায়। ক্ষতে যদি মাংস, অস্থি বা নরমাস্থি আক্রান্ত হয়, তবে অঙ্গ বিকৃতি ঘটে। এ রোগের দীর্ঘ স্থায়িত্ব, মুখে অবস্থান এবং মুখের বিকৃত ভাব রোগীটিকে মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত করে তোলে।

স্ক্রোফুলোডার্মা : এটি শিশু ও কিশোরদের বেশি হয়। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব কম তাদের দেহে এর আক্রমণ ঘটে থাকে।

টিউবারকুলোসিস ভেবিকোসা কিউটিস : এটি কেবল তাদের দেহেই হয়, যাদের এ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। সেই কারণে আক্রান্ত জীবাণুও হয় ক্ষমতাশালী। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানগুলো হলো হাত, পায়ের তালু, অ্যাংকেল ও বাটক। বায়োপসির মাধ্যমে রোগটি ধরা পড়ে। ৬-১২ মাসের চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ সারিয়ে তোলা সম্ভব। তবে রোগটি নির্ণয় করা খুব কঠিন। এ জন্য চাই যথেষ্ট অভিজ্ঞতা, যা একজন ত্বক বিশেষজ্ঞের পক্ষেই সম্ভব।

লেখক : সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আল-রাজি হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা। ০১৭১৫৬১৬২০০, ০১৮১৯২১৮৩৭৮

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে