গনোরিয়া রোগের কারণ ও উপসর্গ

  অনলাইন ডেস্ক

০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গনোরিয়া আমাদের দেশের অশিক্ষিত ও দরিদ্র সমাজে প্রমেহ নামে পরিচিত। এটি একটি জীবাণুবাহিত রোগ। রোগাক্রান্ত সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে দৈহিক মিলনের পর ৩ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এ রোগের প্রকাশ ঘটে।

পুরুষের ক্ষেত্রে উপসর্গ : পুরুষের যৌনাঙ্গ, বিশেষ করে প্রস্টেট গ্রন্থি, শুক্রনালি, এপিডাইডাইমিস আক্রমণ করে। আক্রমণের দু-একদিন পর পর্যাপ্ত ঘন সাদা বা সামান্য হলদে রঙের পুঁজ পড়তে শুরু করে। প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালা অনুভূত হয়। পুরুষাঙ্গের মাথায় পুঁজ জাতীয় পদার্থ লেগে থাকতে দেখা যায়। এ রোগে পুরুষাঙ্গের গায়ে কোনো ঘা বা ক্ষত দেখা যায় না। হাত দিয়ে ধরলে হালকা ব্যথা অনুভূত হয়। কিছুদিন পর রোগের উপসর্গ কমে যায়। এর মানে রোগটি ভালো হওয়া নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রূপ লাভ করে বলে ধরে নিতে হবে।

নারীর ক্ষেত্রে উপসর্গ : আক্রান্ত হওয়ার পর যোনিপথের গ্রন্থি, বিশেষ করে জরায়ুমুখের গ্রন্থিতে জীবাণু আক্রমণ করে থাকে। পরে ডিম্বনালি আক্রমণ করে। যোনিপথের ঠিক সামনেই রয়েছে মূত্রপথ। সেখানেও আক্রমণ করে। ফলে যোনিপথ ও মূত্রপথ উভয়ই আক্রান্ত হয়। অল্প বা বেশি পরিমাণে পুঁজ বের হতে দেখা যায়। প্রস্রাবের সময় তীব্র ব্যথা, জ্বালাপোড়া করে, পুঁজ নিঃসরণ হতে দেখা যায়। আবার ডিম্বনালি দিয়ে জীবাণু দেহের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। ফলে সামান্য জ্বর, ম্যাজম্যাজ ভাব দেখা দিতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রে নারীরা উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে।

পুরুষের ক্ষেত্রে জটিলতা : শুক্রনালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। উপ-শুক্রাশয় (এপিডাইডাইমিস) নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে যৌনরসে বীর্যকোষ থাকে না। এ কারণে ব্যক্তিটি সন্তানের বাবা হতে পারেন না। রোগ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় যিনি তার সঙ্গে দৈহিক মেলামেশা করবেন, তিনিও এ রোগে আক্রান্ত হবেন। রোগটি দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় প্রস্টেট গ্রন্থির প্রদাহ হতে পারে। ফলে প্রস্রাব আটকে বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

নারীর ক্ষেত্রে জটিলতা : দীর্ঘদিন আক্রান্ত থাকলে ডিম্বনালির ছিদ্রপথ বন্ধ হয়ে সন্তান ধারণক্ষমতা হারাতে পারে। প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া, ব্যথা ছাড়াও মূত্রাশয়ের প্রদাহ হতে পারে। আক্রান্ত নারী সন্তান প্রসব করলে সন্তানের চোখ এ জীবাণুর মাধ্যমে আক্রান্ত হতে পারে। নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে হাঁটু বা গোড়ালিতে পুঁজ জমে গিরা ফুলে যেতে পারে। দেখা দিতে পারে বাতব্যথার মতো উপসর্গ।

চিকিৎসা : উভয়েরই চিকিৎসা করাতে হবে। চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনিই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বলে দেবেন।

লেখক : সাবেক সিনিয়র কনসালট্যান্ট

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয়

চেম্বার : ল্যাবএইড লিমিটেড, কলাবাগান, ধানমণ্ডি, ঢাকা। ০১৭৬৬৬৬১৩৩১

ডা. একেএম মাহমুদুল হক খায়ের

চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে