লিভার ও ফুসফুস ক্যানসারের চিকিৎসা

  অধ্যাপক ডা. মো. ইয়াকুব আলী, টিউমার ও ক্যানসার রোগ বিশেষজ্ঞ

১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০৮:৪৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

ক্যানসারের মূল চিকিৎসা হলো সার্জারি। এর ফলও চমৎকার। কিন্তু ৮০ শতাংশ লিভার ও ফুসফুস ক্যানসারের রোগীর সার্জারি করা সম্ভব হয় না। কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি দিয়ে রোগীর চিকিৎসা করানো হয়। এর মাধ্যমে ৫ থেকে ১০ শতাংশ রোগীর ক্যানসার টিউমার সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া যায় এবং ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ রোগীর ক্যানসার টিউমার কিছুটা ছোট হয়।

বাকি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ রোগীর ক্যানসার টিউমারে কোনো কাজ করে না। বরং রোগীকে ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সহ্য করতে হয়। এসব রোগীর জন্য সবচেয়ে কার্যকরী হচ্ছে বিকল্প চিকিৎসা। কারণ জঋঅ ক্যানসার টিউমার সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিতে পারে আশপাশের সুস্থ টিস্যুর ক্ষতি না করেই। জঋঅ-এর মাধ্যমে অতিউচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তরঙ্গ ব্যবহার করে টিউমারের তাপমাত্রা ৬০ ডিগ্রি সে.-এর বেশি করা হয়। এতে ক্যানসার কোষগুলোর প্রোটিন নষ্ট হওয়ায় টিউমারও সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু সুস্থ টিস্যুর কোনো ক্ষতি হয় না।

ফুসফুসে ক্যানসার : যাদের ফুসফুস ক্যানসার টিউমার ৪ সেন্টিমিটারের নিচে, তাদের ৯৭ শতাংশ রোগীর টিউমার জঋঅ দিয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস যায়। এর সঙ্গে রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করলে ৯৫ শতাংশ ১ বছরে, ৮৫ শতাংশ ২ বছরে, ৭৫ শতাংশ ৩ বছরে ও ৬২ শতাংশ ৫ বছরের মধ্যে রোগমুক্ত থাকে। যাদের ফুসফুস ক্যানসার টিউমারটি ৪ সেন্টিমিটারের বেশি, তাদের মধ্যে ৮৭ শতাংশ রোগীর টিউমার আরএফএ দিয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা যায় এবং এর সঙ্গে রেডিওথেরাপি এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি প্রয়োগ করে ৫৭ শতাংশ রোগী ৩ বছর রোগমুক্ত থাকতে পারে। যাদের ফুসফুস ক্যানসার টিউমার ৫ সেন্টিমিটারের বেশি বুকের সঙ্গে লেগে থাকে, হৃৎপি- বা রক্তনালির সঙ্গে লেগে থাকে অথবা লিম্পফ গ্রন্থি ছড়িয়ে পড়েছে, তাদের টিউমার আরএফএ দিয়ে ধ্বংস করে রেডিওথেরাপি।

লিভার বা যকৃৎ ক্যানসার : যাদের লিভার ক্যানসার টিউমার ৩ থেকে ৫ সেন্টিমিটারের নিচে, তাদের জঋঅ এ দিয়ে চিকিৎসা করে সার্জারির মতো ভালো ফল পাওয়া যায়। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে। যাদের লিভার ক্যানসার টিউমার ৫ থেকে ৮ সেন্টিমিটার, তাদের জঋঅ এ দিয়ে চিকিৎসা করে দেখা গেছে, ৯০ শতাংশ রোগী ১ বছর, ৮০ শতাংশ ২ বছর ও ৬৫ শতাংশ ৩ বছর সুস্থ থাকে। যাদের লিভার ক্যানসার টিউমার ১০ থেকে ১২ সেন্টিমিটার, তাদের জঋঅ এ দিয়ে চিকিৎসা করে দেখা গেছে, ৮০ শতাংশ ১ বছর, ৬৫ শতাংশ ২ বছর ও ৩০ শতাংশ রোগী ৩ বছর সুস্থ থাকে। তাই এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

লেখক : অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মেডিক্যাল অনকোলজি বিভাগ

শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, শের-ই-বাংলানগর, ঢাকা

চেম্বার : আল-রাজি হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা

০১৬৪৪৪৩৩৪৯৮, ০১৭৯৫৫৬৮২১৩

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে