পাকস্থলীর অসুখ : যথাসময়ে চিকিৎসা নিন

  অধ্যাপক ডা. মো. সহিদুর রহমান

১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:৪৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাকস্থলীর অসুখ নেই, এমন মানুষ খুব কম। প্রবাদে আছে, পেট আছে, রোগ আছে তার। খাবার যেমন জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য, তেমনি অধিকাংশ পেটের অসুখ খাবার গ্রহণের কারণেই হয়। লিভার মেটাসটাসিসে লিভারই আক্রান্ত হয়ে থাকে। এবার একটি ঘটনা শোনা যাক, বিনোদ ঘোষ। বয়স ৫০। পেটে প্রায়ই ব্যথা হয়। খাওয়ার পর ব্যথা বাড়ে। ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা স্থায়ী হয়।

ওষুধে কিছুটা ভালো হয় বটে কিন্তু আবার বাড়ে। এভাবে মাসতিনেক কেটে যায়। ডাক্তার দেখান। তার পরামর্শে ওষুধও খান। কিছু ভালো থাকার পর হঠাৎ একদিন প্রচণ্ড ব্যথা, সঙ্গে বমি। বমির সঙ্গে রক্ত পড়া শুরু হয়। ব্যথাও থামছিল না। পরে ঢাকায় এসে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখান। তিনি দেখে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা দিলেন। সিটিস্ক্যানে রোগ ধরা পড়ল। লিভারে অসংখ্য ছোট ছোট টিউমার।

নির্ণীত হলো সেকেন্ডারি ক্যানসার হিসেবে। ক্যানসার যেখানে শুরু হয়, তার নাম প্রাইমারি ক্যানসার। অন্যত্র ছড়িয়ে পড়লে সেকেন্ডারি বা অ্যাডভান্স ক্যানসার হিসেবে গণ্য হয়। এ ধরনের ক্যানসারের পরিণতি ভালো নয়। প্রাইমারি ক্যানসার খুঁজতে এন্ডোস্কপি করা হলো। ধরা পড়ল পাকস্থলীতে ক্যানসার। সেখান থেকে বায়োপসি নেওয়া হলো। পরীক্ষায় ক্যানসার প্রমাণিত হলো।

পাকস্থলীর ক্যানসারের সঠিক পরিসংখ্যান আমাদের দেশে নেই। ৪০ বছর বয়সের পরে এ হার বাড়তে থাকে। পুরুষের আক্রান্তের হার নারীর তুলনায় ২ গুণ বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা শাকসবজি, ফলমূল কম এবং ভাত বেশি খান, তাদের এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। হেলিকো ব্যাক্টোর পাইলোরি নামক জীবাণুর মাধ্যমে (যা পানিবাহিত) পাকস্থলীতে আলসার ও পরবর্তীকালে ক্যানসার তৈরির জন্য দায়ী। তাই বাইরের খাবার না খাওয়াই মঙ্গল। ধারণা করা হচ্ছে, আলসার রোগের চিকিৎসা দীর্ঘদিন একটানা করলে সেখান থেকে ক্যানসার হতে পারে। তাই আলসারের ওষুধ দীর্ঘদিন একটানা না খাওয়া ভালো। যারা পেপটিক আলসারের রোগী, তারা মাঝেমধ্যে এন্ডোস্কপি করাবেন।

কারণ আলসার থেকে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বংশানুক্রমিক একটা ধারাও আছে। বাবা-মায়ের ক্যানসার হলে সন্তানের হয়ে থাকে। ধূমপায়ী ও অ্যালকোহলিক যারা, তারাও আক্রান্ত হতে পারেন ক্যানসারে। বিনোদ ঘোষও বিশেষজ্ঞ দেখিয়েছেন। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শমতো কাজ করেননি। ফলে তার রোগ অ্যাডভান্স পর্যায়ে চলে গেছে। এ ক্ষেত্রে শুরুতেই গ্যাস্ট্রোলজিস্টের শরণাপন্ন হবেন। তিনি এন্ডোস্কপি করে রোগ নিরূপণ করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দেবেন। 

লেখক : অধ্যাপক, হেপাটোবিলিয়ারি প্যানক্রিয়েটিক অ্যান্ড লিভার ট্রান্সপ্লান্ট

সার্জারি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব

মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

চেম্বার : লিভার গ্যাস্ট্রিক স্পেশালাইজড হাসপাতাল, বাড়ি-৭৫, রোড

৫/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমণ্ডি, ঢাকা

০১৮৭৯১৪৩০৫৭, ৯১৩৩৬১৯

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে