গর্ভকালীন ও প্রসবপরবর্তী কোমর ব্যথা

  ডা. এম ইয়াছিন আলী

১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:৪৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

গর্ভকালীন বিশেষ করে শেষ তিন মাসে যখন শিশুর ওজন ক্রমে বাড়তে থাকে, তখন মায়ের পেটের আকৃতি বাড়তে থাকে। এ বাড়তি ওজন বহন করতে মায়ের মেরুদণ্ডের কোমরের মাংসপেশিগুলো বেশি সক্রিয় থাকতে হয়। পাশাপাশি গর্ভবতী পেটের বাড়তি ওজন বহন করে কিছুটা পেছনের দিকে বাঁকা হয়ে যায়। ফলে কোমরের মাংসপেশি ও স্পাইনাল লিগামেন্টগুলো দুর্বল হয়ে যায়। তখন ব্যথা অনুভূত হয়।

যেহেতু এ সময় ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়, তাই সাধারণত মায়েরা ব্যথা সহ্য করে থাকেন। কিন্তু প্রসবপরবর্তীকালে এ ওভার অ্যাকটিভ মাংসপেশিগুলো আরও বেশি শিথিল ও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ব্যথা আরও বেড়ে যায়। ফলে অনেকেই ধারণা করেন, সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য একটি ইনজেকশন দেওয়ার পর থেকে ব্যথা শুরু। কিন্তু এ জন্য ইনজেকশন দায়ী নয়। কোমরের মাংসপেশি, লিগামেন্ট ও লাম্বার লাইনের স্বাভাবিক বক্রতা বেড়ে যাওয়ায় এ ব্যথার সৃষ্টি হয়। এ ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা বেশি উপকারী।

এ ক্ষেত্রে সুপারফিসিয়াল থার্মোথেরাপির পাশাপাশি কিছু থেরাপিউটিক ব্যায়াম করতে হবে। যেমন-স্ট্যাটিক ব্যাক মাসল এক্সারসাইজ, পেলভিক ব্রিজিং এক্সারসাইজ ইত্যাদি, যা গর্ভকালীন কোমরের মাংসপেশির শক্তি বজায় রাখে এবং গর্ভকালীন কোমর ব্যথা অনেকাংশে কমায়। প্রসবপরবর্তী ফিজিওথেরাপিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোমর ও পেটের শিথিল হওয়া মাংসপেশিতে শক্তি বাড়াতে কিছু থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ করতে হবে।

লেখক : ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ

ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার, ধানমন্ডি ঢাকা। ০১৭৮৭১০৬৭০২

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে