রক্তে গ্লুকোজ কমে গেলে...

  ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরী

১১ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এক কথায় বললেÑ রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার পরিমাণ ৭০ মিলিগ্রাম বা ডেসিলিটারের চেয়ে কমে যাওয়ার নাম হাইপোগ্লাইসেমিয়া। এ সমস্যার কারণে রোগী জ্ঞান হারিয়ে কোমায় যেতে পারেন। এমনকি তা মৃত্যু পর্যন্ত গড়াতে পারে। রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি কমে গেলে রোগী যে হাইপোয় আক্রান্ত হচ্ছেন, তা তিনি উপলব্ধিই করতে পারবেন না। সাধারণত ডায়বেটিস রোগীর ক্ষেত্রে এ সমস্যাটি বেশি দেখা দেয়।

কারণ : বিভিন্ন কারণে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে। যেমনÑ সময়মতো খাবার না খাওয়া বা কম খাওয়া। ইনসুলিন গ্রহণকারী ডায়বেটিস রোগীরা নির্দেশিত পরিমাণের চেয়ে ইনসুলিন বেশি গ্রহণ করলে। ইনসুলিনের ডোজ নির্ণয় সহজ নয়। ডায়বেটিস রোগীর খাওয়া-দাওয়ার পরিমাণ ও খাবারের ধরনের ওপর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়তে-কমতে পারে। রক্তে গ্লুকোজের এ তারতম্য খেয়াল না রেখে ইনসুলিন গ্রহণ থেকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে। গর্ভকালীন বা স্তন্যদায়ী মায়ের রক্তে গ্লুকোজ কমতে পারে। উষ্ণ আবহাওয়া। নিয়মের চেয়ে বেশি ব্যায়াম করা।

উপসর্গ : মাথা ঘোরানো, অস্থিরতা, মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্ষুধা, বুক ধড়ফড়, অতিরিক্ত ঘাম, অতিরিক্ত মদ্যপান (মদ্যপান রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমায়), কান্তিবোধ, শরীরে কাঁপুনি, ভীতি ইত্যাদি। সব রোগীর ক্ষেত্রে উপসর্গ একই ধরনের নাও হতে পারে। তবে এসব সমস্যা উপেক্ষা করলে রোগী অমনোযোগী হতে পারেন। জিভ বা মুখ অসাড় হতে পারে, রোগী জ্ঞান হারিয়ে কোমায় চলে যেতে পারেন।

চিকিৎসা : রক্তে গ্লুকোজ কমে যাওয়ায় রোগী অজ্ঞান হলো কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে হবে। বিশেষ করে যাদের ডায়বেটিস আছে, তাদের রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়মিত পরীক্ষা করানো উচিত। যাদের আবার শর্করাজাতীয় খাবার খাওয়ার পরও রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যেতে পারে। এ ধরনের রোগীরা রিঅ্যাক্টিভ হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় ভুগছেন। এ ক্ষেত্রে চিনিযুক্ত খাবার না খাওয়া ভালো এবং অন্যান্য খাবার পরিমাণে অল্প করে ঘন ঘন খাওয়া উচিত। যদি দীর্ঘক্ষণ অভুক্ত থাকার ফলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়, তাহলে এমন রোগীর ক্ষেত্রে রাতে ঘুমানোর আগে কিছু প্রোটিনযুক্ত খাবার খেয়ে নেওয়া ভালো। ইনসুলিন গ্রহণকারী ডায়বেটিস রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসক যদি মনে করেন, ইনসুলিনের ডোজ বাড়তি থাকার কারণে রোগীর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যাচ্ছে, এ ক্ষেত্রে ডোজ কমানোর পরামর্শ দেবেন। ঘরে বসে যদি হাইপো হওয়ার উপসর্গ অনুভূত হয়, তাহলে গ্লুকোজ গোলানো পানি বা চিনির শরবত, ফলের রস খেলে এ সমস্যা উতরানো সম্ভব। এ অবস্থায় মিষ্টিযুক্ত কিছু খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ মেপে যদি দেখা যায়, ৭০ মিলিগ্রাম বা ডেসিলিটারের চেয়ে কম আছে, তাহলে মিষ্টিযুক্ত খাবার আরও খেতে হবে। এরপরও রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কম অনুভূত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে গিয়ে রোগী জ্ঞান হারালে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। চিকিৎসক গ্লুকাগনজাতীয় ইনজেকশন দেবেন। তবে এ ধরনের রোগীর নিকটজনের এ ইনজেকশন দেওয়ার পদ্ধতি রোগীর চিকিৎসকের কাছ থেকে শিখে নিলে ভালো হয়Ñ যাতে পরবর্তী সময় কখনো এমন অবস্থা দেখা দিলে তারা ওই ইনজেকশন সঠিকভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে রোগীর জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারেন।

এড়াতে করণীয় : চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো খাওয়া-দাওয়া করবেন। খাবার গ্রহণের পর চিকিৎসকের নির্দেশনামতো ব্যায়াম করবেন। সঠিক পরিমাণ ইনসুলিন ও ডায়বেটিসের অন্য ওষুধ সেবন করবেন। হাতের কাছে চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার রাখবেন। চিকিৎসকের পরামর্শমতো নিয়মিত রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ মাপাতে হবে। জীবনযাপনে শৃংঙ্খলা মেনে চলাই ডায়বেটিস রোগীর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

লেখক : আবাসিক চিকিৎসক

শাহজাহান জেনারেল হাসপাতাল

সুবিদখালী, মির্জাগঞ্জ, পটুয়াখালী

০১৭২২০৪১৯৫৯

 

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে