কবিতা

  অনলাইন ডেস্ক

০৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খালেদ হোসাইন

একুশে নভেম্বর

রক্তিম এলো ঘরে।

থরে থরে রক্ত ঝরে পড়ে।

প্রশ্ন করি পরমার্থকে।

সবাই রক্ষা করে

স্বীয় স্বার্থকে।

অনিচ্ছায় উত্তরে যাই।

লিওনার্দো হাসে, দেখি তা-ই।

হোটেলের ঝকঝকে রুম

ইচ্ছে করে দিই লম্বা ঘুম।

আলো যদি আসে, ভয়ে, লিফটে।

না, নও মোটেও তুমি কিপ্টে।

পথে ভিনদেশি লতা

দুয়েকটি হলো মোটে কথা

ফের এলো সেই রক্তিম।

রক্ত তাই হয়ে আসে হিম।

রাত একটায় বসে ভাবি। কে যথার্থ?

রক্তিম না পরমার্থ?

যদিও করিনি কোনো ধ্যান।

দিনভর হলো তবু জ্ঞান।

রাতভর তাই দীর্ঘশ^াসÑ

অপরাধ ছিল না তবু করি কারাবাস।

হেনরী স্বপন

সহমরণের নিষ্ঠুর চিতায়

উড়ে গেলে দোয়েল পাখির ডানা,

কে না চেনে?

সাদা-কালোয় পাখনা মখমল।

সবকিছু লুকিয়ে রাখতে পারে

রঙ বাহারি ময়ূর...

এলোমেলো জারুল রঙের রূপকথাÑ

রানির মুকুট;

ডায়নার বিয়ের পোশাক খুলে

নরম নরম ফুলের পাপড়ি ঝরছিল

অতিথির গায়,

অনেক রমণী প্রসাধনী ঘামের সুগন্ধ মেখে

ঝাঁপ দিয়েছিল, সহমরণের নিষ্ঠুর চিতায়।

কাজী নাসির মামুন

রোদনভরা এ বসন্তে

এখন বসন্ত

বাঁশবাগানের মাথার ওপর বহুমুখী চাঁদ।

কান্নার কাকলি দেখে চড়–ই নামল।

কাজলা দিদি,

তোমার রোদন থেকে পলায়নের বাড়িঘর কতটা ফারাক?

আমাদের পুকুরঘাট, সুপুরি

বাগান, অথবা

কুসুমপুরের মেলা?

নর্তকীর পায়ের ছাঁচে আমিও

একটি বাড়ি করেছি। বসন্ত ওখানে রোজ

চড়–ইয়ের মতো, একা একা ঝড় তোলে।

যেমন প্রতিটি মন

আগাছায় নিষ্পন্ন হলে

ফুলের যৌবন ছুঁয়ে ভালোবাসতে চায়।

রুদ্র আরিফ

ঘুম

তোমাকে যাচ্ছি রেখে যেখানে, ফিরব না আর কোনোদিন, বেদে সর্দারের বীণের মতো প্রবঞ্চন সেঁটে আছে দেয়ালে ও জমিনে; শরৎ এখনো দূরের ঋতু এই ক্যাবারে, নাচের মুদ্রায় রাত্রি ঝলোমলো হিরোইন : যাচ্ছি ফিরে চড়ে এলিয়েনেশনের কারে, ব্রেকফেইল; তবু বৃষ্টির ঘ্রাণে দক্ষিণে, সমুদ্রের মতো প্রাগৈতিহাসিক ঘুম টানে...

গিরীশ গৈরিক

ডোম সিরিজ-১১

মরণের জলে সূর্য ডুবে গেলে

সেই সূর্যকে মনে হয় ক্যারমবোর্ডের লালগুটি

কিংবা সূর্যের অপেক্ষায় ডেকে ডেকে রক্ত করা লাল মোরগের ঝুঁটি।

ক্যারমবোর্ডের লালগুটি ভেবে সূর্যকে-কে খেলে মহাবিশ্ব ক্যারমে

আমি তারে দেখিবার চাইÑ নাকি আমি সেই

যারে আমি দেখিবার জিজ্ঞাসনে ব্রত অথবা সে নেই।

একদিন আমি সূর্য ও লালগুটি পাশাপাশি রেখে

কবিতায় খেললাম অবিরাম।

সেইদিন থেকে সূর্য ও লালগুটি এক হয়ে ডুবলো তোমার হৃদয়ে

আমি বললাম : মানবী, কী যেন তোমার নাম!

এভাবে আমি পেলাম জলের স্বভাব

তোমাদের চোখে বিন্দু বিন্দু জমে থাকা জল থেকে।

অথচ তোমার চোখে আজ জলের অভাব

তাই মৃতদেহ সম্মুখে রেখে প্রশ্ন করি-আমি কে?

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে