সময়ের কবিতা

  অনলাইন ডেস্ক

২০ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চর্যাপদের কবিদের পর বাংলা কাব্যসাহিত্য সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা নবাগত কবির সৃষ্টিও অনস্বীকার্য। ‘সময়ের কবিতা’ শিরোনামে উল্লিখিত কবিদের আগমন এ শতাব্দীর একেবারেই শুরুতে। ইতোমধ্যে পেরিয়েও গেছে অনেক বছর। তাদের কবিতার গতি-প্রকৃতি জানান দিতেই আমাদের এ আয়োজন

ফেরদৌস মাহমুদ

আলো-অন্ধকার

বড়শিতে লাগাও কেঁচো, দু-দশটা মাছ তুলি

বোঝা সব নামিয়ে রাখো, নিয়ে যাবে লাল কুলি।

তুমি তো হে বাদাম বেচো, চলো ভাই বাদাম কিনি

ওই তো বোকা এক চায়ের দোকান, চায়ের কাপে টুংটাং নাড়াই চিনি।

একি হায়, হঠাৎ দ্রুম দ্রাম হয় যে গুলি

গাইছে গান প্রচীন সব মাথার খুলি

সবই আজ সত্য, নয় কো কল্প বুলি।

তুমি তো হে সাগর সেঁচো, আলো আর অন্ধকার বেচো।

মাওয়াঘাটের চাঁদ

মাওয়াঘাটে সিদ্ধ ডিম খাই আর চাঁদ দেখি। লঞ্চ আসে লঞ্চ যায়।

চাঁদ-পৃথিবী-গ্রহ-নক্ষত্র যেন মহাশূন্যে ভাসমান ডিম।

পৃথিবী থেকে চাঁদকে মনে হয় ওপরে, চাঁদ থেকে দেখলে পৃথিবীটা ওপরে।

আহা, নক্ষত্রদের এক রকম মনে হলেও জানি তারা এক নয়।

খোলা মাঠে পাশাপাশি দুটি ঘাসের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক।

এইসব ফারাক সমস্ত ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করতে গিয়ে ভাবিÑ

নিশ্চয় আমাদের মধ্যে রয়েছে এমন কোনো ইন্দ্রিয় আজও হয়নি যা বিকশিত।

মাওয়াঘাটের পূর্ণিমার চাঁদ আগুনে পুড়ে টুপ শব্দে পড়ে যায় নদীতে!

চন্দন চৌধুরী

ঈশ্বরের জš§

ঈশ্বর একবার আমগাছ হয়ে জন্ম নিলেন

তার শরীরে জন্ম নিল সহস্র সহস্র পাতা

পাতায় পাতায় ঈশ্বর দেখে গাছকে ভালোবেসে ফেলল পাখিরা

গাছে গাছে বাঁধল বাসা

পাখিদের এমন ভালোবাসা দেখে ঈশ্বর এবার পাখি হয়ে জন্মালেন

তার শরীরে জন্ম নিল সহস্র সহস্র পালক

পালকে পালকে ঈশ্বর দেখে পাখিকে ভালোবেসে ফেলল মেঘদল

মেঘে মেঘে ধরা দিল জলরেণু

এরপর ঈশ্বর জলরেণু হয়ে জন্মালেন

এভাবে সহস্র সহস্র রূপে জন্ম নিলেন ঈশ্বর

কখনো ক্ষুধার্ত সিংহ হয়ে ঝাঁপিয়েও পড়লেন হরিণের ওপর

কখনো পাথর হয়ে ক্ষয়েও গেলেন

শুধু মানুষ হয়ে জন্মালেন না

কেননা সকল সৃষ্টির মধ্যে মানুষরাই শুধুমাত্র খুনি

গাছ

শহর থেকে বাড়ি ফিরতে ফিরতে যত গাছ দেখেছি

ততবার মনে হয়েছে দাঁড়িয়ে আছ তুমি

আমার শরীরে পড়ছে তোমার ছায়া

আর সবুজ ও ছায়া হয়ে ঢুকে যাচ্ছ আমার গভীরে

আমি আমার গভীরতা খুঁজে দেখলাম

যতটুকু দেখা যায় ততটুকু শস্যক্ষেত, তুমিমাখা বৃক্ষময়

মরু

চুমুর অভাবে ফেটে গেছে ঠোঁট

ত্রিস্তান আনন্দ

লীলা

ধ্বনির অধিক উহ্য তোমার নামে

সুপ্ত হাজার বৃন্দাবন

তুমি মোক্ষম তাড়নায় যমুনার ঘাটে ঘাটে

নৌদীক্ষা নিয়েছি কত জলরাত্রি বাহিয়া

অমাবস্যার একলা নিমজ্জনে আমি চন্দ্রাবলি

আমার হুতাশনে জাগিছে চরের চাঁদ বালির হাড়

শোনোনি এ চিৎকার দিগন্তবিস্তারী কেবল তুমি

বনমালী

বনমালী

বনমালী

লীলাচূর্ণ

এই চোখে পরেনি কাজল মা ভাদর পোড়ানো অনল

সবুজিয়া খেতে পোড়াপোড়া মুখ

শস্যের বিপরীতে কাঠ আর কয়লার শুমারি

লালগালা হাসি

এই চুল বাঁধেনি বিনুনি গাঁথেনি খোঁপায় ফুলফিতে

গর্ত উথলে বেরোয়নি জোড়াজোড়া বাস্তুখোলস

গর্তের মুখ গর্তে লুকায়

গর্তমুখী ফণা

এই হাত ধরেনি হাত ছোঁয়নি আঙুল কুসুমরিক্ত বৃক্ষ

মজ্জার ভেতর শূন্যমূন্য কঙ্কাল লাশ

স্মৃতি স্মরণ বিস্মরণ মহাকাব্যে জীবনে নয়

শরীরলিপিকা ক্ষয়

এই মন ডাকেনি মন দেয়নি সাড়া গৃহে পাথারে

কালিন্দীকূলে ফাটাফাটা সুর

ললিতা বিশাখা বড়াই ঘেরা আইহনের হায়হায়

ঘুণপরা বাঁশরী

এই জীবনসংশোধন কোন জ্ঞানে কোন কাজে কোন ধর্মে

জীবন মানে জন্মগত মৃত্যু

মৃত্যুর অধিক

বিজয় আহমেদ

মহাপৃথিবী

মেয়েরা সূর্য কাঁধে ফিরল

তাদের দেহ দেখো আজ ঝলসে উঠছে

তারা বিপুলা। আক্রমণাত্মক। ব্ল্যাকবেল্টধারী

সারা রাত্রি আজ জোকস শোনাবে শুধু!

০২

মেয়েরা নাচল। কোটি কোটি কচ্ছপের পিঠে দাঁড়িয়ে

তাদের রক্তাক্ত পায়ে নিজস্ব ছেলেরা মুখ দিচ্ছে, শুষে

নিচ্ছে বেদনাভার!

গান গাইছে না কেউ। মাতাল সে। কয়্যারের সুরে সুরে কাঁদছে

এমন ভুতুড়ে সবকিছু

মনে হচ্ছে, সহস্র বছর ধরে, তারা শুধু প্রেমের দিকে চেয়ে আছে

০৩

প্রতিটি দিনের কাছে

কিছু ক্রুরতা জমা থাকে এখানে

দূরে মহিষের বাথান। তার পাশ ঘেঁষে

থানা পুলিশের প্যাট্রল

মাঝরাত্রে, পুলিশেরা বিড়বিড় করে নক্ষত্রের

সঙ্গে কথা বলে...

তুহিন দাস

বধিরের খাতা

নতুন কোনো গল্পহীন রাতের গতিহীনতার সুর ছিটকে

পড়েছে আজ সকালে, মাথার ভেতর জন্মানো কথাগুলো

প্রকাশ করি না, কিছু না বুঝে মনোযোগ নিয়ে তাকিয়ে থাকা

অভ্যাস করেছি, জানি না মুখের পেশির থেকে আমার চোখ

আরও বেশি অভিব্যক্তি প্রকাশ করে কিনা! পাল্টে যায় দিনের রঙ,

পাশাপাশি বসে থাকে নিষ্প্রয়োজনীয়তা; ব্যক্তিগত আঁধারের

মুখোমুখি হয়ে পেয়েছি আমি বধিরের খাতা।

সমস্ত কাজের শেষে

একদিন ঘাসের ছবি তুলতাম, আজ তুলি নিজের বুকের ছবি,

স্নানের সময় সাবান ঘষে মুছে দিতে চাই জীবনের ক্ষত।

আর্দ্র হয়ে যায় উপেক্ষাগুলো যারা সব সময়ে যোগাযোগহীনতায়

ভেসে গিয়ে সময়কে করে তোলে প্রতিরোধহীন। দিনের পাশে

মেঘের গম্বুজ, গাড়ির বনেটের বোকা মুখ, বাড়িগুলো পাথরস্তব্ধতা

নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, শ্রমিকরা এ শহর বানিয়েছে, তারা চলে গেছে দূরে,

মৌনতার ডালপালা মেলে ছুঁয়ে ছুঁয়ে আমাকে দেখেছে,

সমস্ত কাজের শেষে ফিরে গেছি নিজেরই কাছে;

কমলালেবুর বাগানে ঘোরা পাখি আমাকে দেখতে এসেছে

সবুজ জামা পরে এবারের শীতে!

মামুন রশীদ

অভিশাপ

নত হতে হতে কেঁচো হয়ে গেছি।

ভয় পেতে পেতে কেঁচো হয়ে গেছি।

হেরে যেতে যেতে কেঁচো হয়ে গেছি।

মুখোশ পরতে পরতে কেঁচো হয়ে গেছি।

মাটি খুঁড়তে খুঁড়তেÑ সফলতার পেছনে ছুটতে ছুটতে

কিন্তু, একি! বেরিয়ে পড়েছে শরীর, ক্ষত, পায়ের শেকল।

চারিদিকে চিৎকার, মানুষের উল্লাস, পুলকিত হাসিÑ

বড়শিতে গেঁথে আমাকে বানিয়ে টোপ

তন্দ্রাহীনতার ভেতর বসে আছে নিষ্পলক

জলের অতল থেকে গিলে নেবে কখন?

মাঝে কেউ নেই, শুধু আমি

উজ্জ্বল আলো থেকে ফোঁটায় ফোঁটায়

ঝরে পড়া জ্যোৎস্নার মতো; একাÑ

অস্তিত্বহীন এক মাঠের ভেতরে ঘন অন্ধকারÑ

যাকে জীবন হেনস্তা করছে,Ñ

দুঃস্বপ্ন হাজির করছে বিশ্বাসহীন

বন্ধকি দোকানের মহাজনের কাছেÑ

গলিত সময় অনবরত চাইছে আত্মস্বীকারোক্তি।

সেই ফাঁকে

হƒদয়ের খুব কাছে আত্মহত্যা

নামক এক সুন্দরী প্রহরীর কাছ থেকে

পাচার হয়ে যাচ্ছে অন্ধকার, অলজ্জ রমণীর

মতো তার কথামালা গোপন করে।

মাঝে কেউ নেই, শুধু আমি।

রুদ্র আরিফ

লাল ব্যালেরিনা ও কারাগার

জেগে আছ তুমি, অন্ধকারের পাথুরে-সমুদ্রেÑ নীলচোখে একা; দুঃস্বপ্নের তাগড়া এক নদী, দীর্ঘদিন গান করে বধির এখন; আর রাষ্ট্রজুড়ে কারাগারের নামতার গুঞ্জন, দিচ্ছে ভুলিয়ে ভোরের মহিমা : তবু হ্রেষা গেয়ে গেয়ে, জীবনের খুব কাছে নেচে যাচ্ছে লাল ব্যালেরিনার প্রলম্বিত ক্রন্দন

স্ট্রিটগার্ল ও ব্যান্ডমাস্টার

দূরগ্রাম থেকে ট্রেনে উড়ে এলে, ওজুর সিনেমার মতো জাপানি মমতায়; ল্যাম্পপোস্টের ঠিক ডান পাশে তোমার আশ্রয় জেনে, স্ট্রিটগার্ল আজ নিয়েছে ছুটি, জানি : চুলের ফিতা তার আছে ফুটে হয়ে ফুলÑ তোমার জুতোর সংসার; তবু তুমি প্রার্থনার মতো নতজানু, তবু তোমার কাঁধ বেয়ে নেমে পড়ে ঘামগলিত হাড়; তবু তুমি আমাদের হিরো, পার্কে হারানো দুপুরের বিপন্ন ব্যান্ডমাস্টার

পিরামিডের ওম

আমাদের যৌথ গল্পগুলো রূপকথার পাখি এখন, পিরামিডের ওমে, কবিতা লিখছে মমির শরীরে : ট্রেনে ভিড় বাড়ে, লোকাল বাসও নেতিয়ে পড়ছে ঘুমে; মানুষের মুখের সন্তরণÑ স্মৃতি নয়, কেবলই ধুলো; তোমাদের প্রেত-বাড়িগুলো শূন্যতার কুহকী নিপীড়ন : গিরিখাতের লোমে, সহসা আঁকছে গুচ্ছ গুচ্ছ হীরে

এহসানুল ইয়াসিন

 

তারপরও মনে হয় দেখি না!

প্রতিদিনই তোমাকে দেখছি। তারপরও মনে হই

কতদিন দেখি না।

তবে কি আমি অন্ধ! নাকি চোখজোড়া

লজ্জা শরমের মাথা খেয়েছে?

অথচ দেখোÑ

তোমাকে না দেখার অসুখ ছায়ার মতো জড়িয়ে রেখেছে।

আমার ঘুম নেই। চোখের প্রতি আস্থাহীনতা কেবলি বাড়ছে!

তোমাকে ছাড়া কার ওপর আস্থা রাখি বলোÑ

নদীও এখন ভাগাড়। আর পাখিরা?

তাড়িত মশার মতো দূর অতীতের গান শোনায়।

তবে কি আস্থাহীনতার সংকটে মানুষ?

রাত দীর্ঘ হলে যৌনগন্ধী হয়ে ওঠে এই শহর

রাত দীর্ঘ হলে যৌনগন্ধী হয়ে ওঠে এই শহর

আমি তখন অন্ধকারের সঙ্গে রতিক্রিয়ায় মেতে উঠি

অদ্ভুত সব আলো এসে তাড়া করে তোমার আঙিনায়

কই, কাল তো এখানে কোনও বিশ্বাসী পুরুষ ছিল না?

দিব্যি নিয়ে ঘুরে দাঁড়াও তুমি। উৎসবে মাতে এ শহর

প্রতিটি রেস্তোরাঁয় ভিড় বাড়ে...

বাড়ে সেলফোনের মিথ্যা আশ্বাস

তবুও কি থামে মানুষের দীর্ঘশ্বাস?

কেবল সবকিছু ঝুলে থাকে স্বৈরাচার প্রেমিকের হাতে

নিহত হয় গণতন্ত্র, নস্যাতের গর্তে পড়ে

হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে থাকে জারজভ্রƒণের চিহ্ন!

আমি কতটা সামলাবো?

তোমার ব্রার হুক এঁটে দিলে

ওড়না পড়ে যায়।

ঠোঁটে লিপজেল মাখলে

মুখে পড়ে মেসতার কালো দাগ।

চারদিকে তখন শুরু হয় হলুদ সমালোচনা!

আমার বলে কিছুই কি নেই?

শহর কিংবা পালিয়ে বেড়ানো বিশুদ্ধ প্রেমিকা!

আমজাদ সুজন

নকল বিজ্ঞান

ক্রমাগত চাঁদে শরীরের ওজন যাচ্ছে কমে

ক্রমাগত শরীর দোদুল্যমান মহাকাশে

যেন শরীর ভাসছে মদের আস্তানায়

অযুক্তির বিজ্ঞান যেন কাতর হয়েছে ক্ষুধায়

যেন শরীর বেঁচে আছে মাধ্যাকর্ষণ খেয়ে

বেঁচে দিন নকল বিপ্লব

তুমি যুদ্ধে যাওয়ার সময় আমার বাড়ির গেটে দাঁড়িয়ে জোরে একটা ডাক দিও; যদি কেউ ঘর থেকে পথে না নামে, ভেবে নিও আমি তোমার আগেই বেরিয়ে পড়েছি; আমিও বাড়ি বাড়ি চিৎকার করে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য ডেকে ডেকে গেছি। পুরো গ্রামে এমন কেউ নেই যে যুদ্ধে যায়নি, কেউ কারো অপেক্ষায় আছেÑ এমন আর কেউ নেই কোনো ঘরে।

যুদ্ধে এসে যে যার মতো রাজপথে সেজেছে আগুনের ব্যোম; বারুদের সিন্দুকগুলো প্রতিটি লুকিয়ে রেখেছে নিজ দায়িত্বে নিজেদের চোখে।

নকল মাতাল

বিপ্লবের দায়িত্ব কাঁধে দৌড়াচ্ছে খ- খ- সকাল

খ- খ- সকাল-বিকাল

বিপ্লব রাতভর মদের পিপায়

মাতাল বুদবুদ

শামীম হোসেন

জলে, নৌকায়

চোখ বন্ধ হলেও অন্ধ হয়নি দমকা বাতাস

নৌকার পালে দুলে যাচ্ছে মেয়েলি ধনুক

যেদিকে ঘোরাবে নাও ঢেউ তার বিপরীতে

যাবে; শিকারির লকলকে তীর পাবে না পাড়...

অঢেল জলরাশির ওপর ভেসে যাচ্ছে মৃতচোখÑ

কোনো মানুষের ছিন্ন পা-মাথা-শালিক শরীরÑ

যে বনে জোনাকি ছিল তাতেও জ্বলেছে আগুন

চোখ অন্ধ হলেও বন্ধ হয়নি দমকা বাতাস...

পবন কি থেমেছে মাঝিÑ ঢেউয়ের কারবার

কতদূর মৎস্যকুমার ও তার জলের দরবার?

বাঘের পেট থেকে উগরে এসে পেয়েছে প্রাণ

চারিদিকে জলমাচান-বিজলিও দিচ্ছে শান...

ছাড়ো ছাড়ো বৈঠা ছাড়ো ধরো না বাজিÑ

এ নাও ভাসাবেন এবার ইমরান মাঝি!

মাটিয়া সরেন

দুধকোশি নদীতীরে যাব।

খালি পায়ে হেঁটে হেঁটে পথÑ

দূরপথে ঝাপসা হলে পাইনবাগান

কচিঘাসে এলিয়ে শরীরÑ মাটিগন্ধে

শ্বাস টেনে নেব...

মৃদুছন্দে বয়ে গেলে শীতল বাতাস

আমার বুকের ভেতর নদী বয়ে যায়

মাটিয়া সরেন, তুমুল ঝড়ের রাতে

গাছে গাছে ডেকে গেলে পাখি

তোমার কানের লতি ধান হয়ে যায়।

মাহমুদ শাওন

পুনর্জন্ম

বোবা এ শহরে আমি আর্তনাদ, আমি খুন

আমিই অন্ধের দলপতি

নিশিডাক পেয়েছে যে ঘোড়া নিমগাছ, তার

পত্রবজালে গোপন সম্মতি

লিখে রেখে ঝিরিপাতা ঝরে ঝরে যায়

এই জন্মভোরেÑ

আমি চিৎকার, ডেটলগন্ধে সেলাইমুখ

রক্তরেখা ধরে

মায়ের জঠরে যে শিশু আবারও জন্মায়

পত্রে লেখা, মা

বোকা বনে গেছি বুঝি আজ

নিদাঘের উঁচু ওই দেয়াল টপকে, ওপারে রূপকথা,

ঝিল্লিঘ্রাণ

মাÑ

অনন্ত জিজ্ঞাসার পাশে নতজানু হয়ে থাকি, যতিচিহ্ন হয়ে থাকি

এভাবে এভাবেই মৃত্যু থেকে শৈশব হামাগুড়ি দিয়ে চলা

আমি কি মানুষ তবে? হাড়ের বেদনা থেকে জন্ম নেওয়া পাপ? অনাহূত?

চিরবৃক্ষের গোপন ব্যথা মুছে আজ এ প্রশ্ন নিয়েছে পিছু

শোকে চিতার আগুন নেভে না জেনেও মানুষ যেমন শোকগ্রস্ত হয়...

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে