কবিতা

  অনলাইন ডেস্ক

০৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুলাল সরকার

কবি বেলাল চৌধুরী, অশ্রুতে লিপিবদ্ধ

অশ্রুতে লিপিবদ্ধ কবিতাটির চেয়েও জরুরি তোমার শূন্য

চেয়ারে পুনর্বার ফিরে আসা, গাদা গাদা বইয়ের ভিড়ে

শ্মশান থেকে ফিরে এসে গায়ে ছাই ভস্ম মাখা...

সুনীল ও শক্তির সাথে ছায়া পথের এই ক্ষুদ্র নীল গ্রহটিতে

তোমার সশরীরী উপস্থিতি, সকলকে ভালোবেসে

প্রশ্রয় দেবার এমন ব্যাকুলতা...

দিবানিদ্রার সামান্য সময়টুকুও স্বেচ্ছায় দান করতে কোন তরুণ কবিকে;

কোন অমাবস্যার ঘুটঘুটে অন্ধকারে নদী পারে কিংবা

কলকাতা ও ঢাকার রাস্তায় তোমার সৌজন্যে নেমে আসা

অসংখ্য দূতপরী আঁচলে জড়াত গায়ের মাটি,

ভুবনডাঙার উদাসী শিহরণ তোমাকে খুঁজে না পাবার বেদনায়

অজয়ের তোলপাড় কে সামলাবে বলো যদি পৃথিবীজুড়ে

সবাই ডাকিÑ দেখে যেতে একুশের বইমেলা, সবুজ পাতার মহলে

আভাসিত তোমার মানব সম্পর্ককে কুড়িয়ে নিয়ে বলবেÑ ‘একটা কবিতা দাও’

এমন ঔদার্যে বিকেলে তোমার টেবিলে নেমে আসা

চড়–ই দম্পতির সঙ্গে বসে কে দেবে কবিতার সাক্ষাৎকার?

আহা, ক্রমশ হারিয়ে যাওয়া সহমর্মিতার এমন দুঃসময়ে

তুমি কি পথ চিনে আসতে পারবে? কিছুদিন পরে হলেও

জীবনের প্রতি উৎসাহী হয়ে, ধর্মান্ধের বিরুদ্ধে বিপন্ন ঢাকা ও কলকাতায়?

সুমন রায়হান

প্রত্যাবর্তন

(শ্রদ্ধার্ঘ্য কবি বেলাল চৌধুরী)

কৃষ্ণচূড়ার লাল মাতাল হাওয়ায় দুলছে কবির ছবি...

উপমার অদূরে ঘুমিয়ে অতিক্রান্ত দুপুর।

নক্ষত্রপুঞ্জিত মেঘের ভেলায় ভেসেÑ

তুলোর মতো উড়ে যায় দূরে বেদনার বালিয়াড়ি ধুলো...

দূরে যাওয়া মানে ফিরে পাওয়া নতুন জীবন;

চলে যাওয়া মানে খুব করে কাছে পাওয়া রাত,

রোদচশমায় জমে থাকা ঋণ নিয়েÑ

চোখের মায়ায় জেগে থাকা চাঁদ।

প্রস্থান করে কবি যখন ফিরে যান তার অনন্ত গন্তব্যে

একটি কালবৈশাখী ঝড় হানা দেয় শহরজুড়ে;

অশ্রুসিক্ত নয়ন ধরে রাখে নদীর নিবিড় বিষণœতা,

তখন ভারাক্রান্ত মন অগণন তারার ভিড়ে ভর করে

করে দুরুদুরু... কবির চলে যেতে নেই,

কবির চলে যাওয়া নেই

প্রত্যাবর্তনই কবির নতুন জীবন শুরু...

অমিত গোস্বামী

বিদায় কবি বেলাল চৌধুরী

চলে গেলে ভূগোলবিহীন দেশে,

সেখানে নেই কাঁটাতারের বিষ,

প্রাণের টানে ভাষার সন্নিবেশে

কথায় ছিল আশীষ অহর্নিশ।

কেবা আমি! জনৈক ভিনদেশি

ভাষায় লিখি তোমার কাব্যকথা

পেয়েছি যা প্রাপ্য থেকে বেশি

গল্প কথা অসম সখ্যের।

এপার জুড়ে তোমার কণ্ঠস্বর?

তোমার লেখা জনস্রোতের মাঝে

তোমার ঢেউয়ে ভাঙল সীমারেখা

ছন্দে তোমার কলকাতারা বাজে।

উঠতে গেলে তোমার বাসা থেকে

বলতে তুমিÑ যাই বোলো না, আসি,

কেমন আছে অংশু, বিনায়ক,

শ্রীজাত আর সকল কৃত্তিবাসী?

আর পাবো না ঢাকা ক্লাবের লনে

আর পাবো না জাতীয় উৎসবে

বলবে না কেউ এমন সমর্পণে

বেলালদা আরেকটা কেউ হবে।

চোখের কোণে জলের ছলাৎ ছলো

শব্দে শুধু কান্না মেঘের ভিড়।

সেই কথাটা আরেকটি বার বলো

এপার ওপার একই নদীর তীর।

তুমি আছো, থাকবে চিরদিনই

বেলাল ভাই চৌধুরী বংশীয়।

আমরা সবাই তোমার কাছে ঋণী

অন্তত আজ প্রণামটুকু নিও।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে