কবিতা

  অনলাইন ডেস্ক

১৮ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিমুল মাহমুদ

কবি-সম্মাননা

রমণী-স্বভাবের কবিগণ রঙিন ফতুয়া গায়ে বসন্তের কবিতা পাঠ করছেন। কাম ও কামিনী, পাখি ও গোলাপÑ এইসব কাব্যকথা কবিগণ পাঠ করছেন।

নারী-কাম-প্রকৃতি বিষয়ক আদি ও কোমল দৃশ্য আঁকছেন কবিগণ। কামুক স্বভাবের পাঠক-প-িত-মিডিয়া নারী স্বভাবের এইসব কবিদের সোনার পানিতে ধুয়ে তোলা মেডেল ও টাকা দিচ্ছে।

অবশেষে এইসব আয়োজন, ‘কবি-সম্মাননা’ নামে টাঙিয়ে রাখা হচ্ছে প্রকাশ্য সূর্যালোকে।

মাসুম সরকার

রূপসী

রেবতি হয়তো শুদ্ধ নারী নয় কোনো

নয় শুদ্ধতম প্রেমের আহ্বান

ততদূর হৃদয়োজ্জ্বল দিনে, শোনো

পুরনো এই পৃথিবীর গান।

রেবতি হয়তো অদেখা বিকেল

খুঁজে পাওয়া কোনো নিশ্চুপ দ্বীপ

ঢেউয়ের আঘাতে হচ্ছে উদ্বেল

বালির প্রাণ; জলের ওপরে জ্যোৎস্নাপ্রদীপ।

হয়তো সে স্রেফ উদ্দীপনা; শিল্পীর আদরা,

তুলি, ব্রাশ, রঙ, ইজেল, অনতিক্রম্য ফ্রেম

কখনো অনুষঙ্গ হয়ে ওঠা, নয়তোÑ

প্রকৃতির মতো বিস্তারে দুহাত বাড়িয়ে প্রেম।

ফারুক আফিনদী

সর্ষে ফুল

ধুধু আগুন

চোখ গলে উড়ে যায় মাছি

পাখা পোড়ে

ওপরে হলুদ ঘোমটা

মধুগন্ধে মাতাল নিজেই

ভেতরে স্নিগ্ধ শীতল

লাবণ্য লুকিয়ে

মঈনউদ্দিন মুনশী

বোধ

বাবা নেই, এই আমি আছি

এতো তারই অস্তিত্ব,

তার পথের ধুলোর আর্তি

আমি না থাকলে কে বুঝত!

মা নেই, এই দেশ আছে

এ তো তারই হৃদয়,

আমাকে আগলে রাখে,

বৈকুণ্ঠি নীলিমা দীর্ঘকায়।

দেশ আমার চোখের জল

ধুলো আমার রক্ত কণিকা

স্বপ্নে শঙ্খমালা পাতা ফল

বৃষ্টিতে চঞ্চল বৃক্ষের গ্রীবা।

এই মাটি আমার বাবা-মা

ওদের শরীর আর এই দেশ একাকার।

জোছনা ছুঁয়ে আছে উজ্জ্বল পাখিরাÑ

মননে নদীর গন্ধ, সমৃদ্ধ প্রাণের।

আমি নিঃস্ব, ঝরে গেছি জলের ওপর

ফাগুনের কৃষ্ণচূড়া, শ্রাবণের জল

বাগানে সৌরভ, ভাসবে পুকুর

অশান্ত হৃদয় কুড়ায় বকুল।

ঋতুশ্রী ঘোষ

সে

ব্যর্থতার ক্লান্তি শেষে নেমে আসে বে-খেয়াল চিল

মরে যাওয়া নদী বেয়ে হেঁটে যায় ছায়ার মিছিল।

হাওরের আলো মাখা সাদাজলে শোনা যায় পতনের সুর

উপেক্ষার অভিমান পথ ভুলে চলে যায় দূর থেকে দূর।

শতাব্দী জাহিদ

ভালো থাকার শব্দাবলি

গায়ে তোমার রোদ পোহানো আগুন

খরার নদীর মতো ঠোঁট শুকিয়ে চর

চামড়ার বাঁকে বাঁকে শীতের পাতার রেখা

ভারী চশমার গুহায় জল-মাটির ছায়া

যুদ্ধের দেশের পতাকার মতো ওড়ে চুল।

তুমি বলছ বেশ আছ, দিব্যি ঘোরে ঘড়ি

আমি তো বুঝি, ভালো থাকার শব্দাবলি

বড় একা।

ইদানীং নেশার ঘোরে গোসলের জল ঢেলে

তোমাকে ডাকিÑ তোয়ালে দেবে

বেলকনিতে ফেলে আসি অ্যাশট্রে; মশারি তুলি না কতদিন

পুরনো সব তুলি নষ্ট হয়েছে তেলরঙ জমে

সমস্ত ঘরে স্যাঁতসেঁতে গন্ধÑ

বইগুলোর বাঁধাই ছুটেছে, পাতাও খেয়েছে পোকায়

কয়দিন বাদে বাদে দূরের আকাশে যাই

ঘামে ময়লায় আঁকা জিন্স আর শার্ট।

বুয়ার কল্যাণে খাওয়া জুটছে অনিয়মে।

তুমি বলছ বেশ আছি, দিব্যি ঘোরে ঘড়ি

তুমি তো ঠিক বোঝো, ভালো থাকার শব্দাবলি

বড় একা।

স্বরূপ ম-ল

এপিটাফ

আমাকে আগে যেতে দাও

মরদেহের মুখোমুখি দাঁড়িও

ফেলবে না চোখের জল

কোনো উত্তরসূরি যাচ্ছি না রেখে

আসলে সে যোগ্যতা নেই

যোগ্যতাই নেই

নিথর মস্তকে রেখো

তোমার গরম তালু

তোমার নরম পায়ের লতিটা

ছুঁয়ে দিও কপোলে

গাল বেয়ে এনো না লবণ

অরুণ কুমার বিশ^াস

স্বপ্নভুক

স্বপ্নের মানুষ শুধু স্বপ্নেই আসে

তন্দ্রা ছুটে পালায়, সচকিত হই

বাকি রাতটুকু আমি একা জেগে রই

ছায়ালীন সেই মেয়ে দুর্জ্ঞেয় হাসে।

আমি স্বপ্ন ভালোবাসি, বাস্তবে ভয়

মন চায় ডানা মেলে নীলাকাশে উড়ি

মানুষ নই তো আমি, যেন নীল ঘুড়ি

মাঝে মাঝে স্বপ্নরা কমনীয় হয়।

সুখের বদলে দুঃখ আপত্তি নেই

ছায়ালীনা রয়ে গেল এখনো অধরা

হলো না স্বপ্নটাকে বাস্তবে গড়া

কল্পনা বুকে আমি সুখী আমাতেই।

মিজানুর রহমান বেলাল

নাচঘর

বিমূর্ত হাতের ভাগ্যরেখা গন্তব্যহীন

কেবল পৃথিবী থেকে দূরে গ্রহপথে

আবেগী হয়ে উড়তে উড়তে ভাবেÑ

আকাশেও এখন নগ্ননৃত্যের রঙ্গমঞ্চ!

ধ্বংস করে নাচঘরের শিল্পের মহড়া

নাচঘরও মানে না শিল্পের শাসন...

শাহীন ভূঁঞা

প্রণয়ের উপাখ্যান

তোমাকে আমি আজ কি দিই বলো?

প্রতিটি প্রহরের মাধুরী মমতা,

মনের গভীরের নিত্য প্রেমের পূর্ণতা

চেতনা, সবই তো তোমার জন্য রাখা।

তুমি তো জানো নাÑ তুমিই এই হৃদয়ে

মননে স্নায়ুতে নিত্যের ত্রিসীমায়

বাজিয়েছ পরিণত প্রণয়ের গান

আমার সঙ্গে আত্মা রেখে একাত্মতায়।

প্রতিদিন তুমিই আমাকে জাগিয়ে দাও

মেঘে মেঘে, হাওয়ায় হাওয়ায়;

তুমিই শুধু বাহুতে দেহে দেহাতীত স্পর্শ

তুমিই সমগ্র সত্তায় সূর্যে পূর্ণ সত্য।

এ কে বোরহানউদ্দিন

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

টুঙ্গিপাড়ার শেখ মুজিব স্বাধীনতা এনে দিয়ে হয়ে আছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। বাঙালির তরে তার সাধনা ছিল আকাশছোঁয়া! সম্প্রতি মহাকাশ গবেষণায় তারই স্তুতি বাঙালির...

উৎক্ষেপণ হলো বহু প্রতীক্ষিত আমাদের প্রথম ভূ-উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’। মহাশূন্যে এখন তিরিশ লাখ শহীদের রক্তস্নাত লাল-সবুজের পতাকা দৃশ্যমান! সমগ্র জাতি একই সুরে সকল স্থানে দাঁড়িয়ে গেয়েছেÑ ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি...।’

তুমি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। সাধনা তাই অপার! ‘জয় বাংলা, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক’ কণ্ঠে সবার।

মহান আল্লাহ তোমাকে করুন দীর্ঘজীবন দান।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে