কবিতা

  অনলাইন ডেস্ক

২৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাখাওয়াত টিপু

হাসলে গাম্ভীর্য নষ্ট হয়!

তোমার কোমল ঠোঁটে সুবাস লেগেছে

খুব সহজেই দিচ্ছ নাকি সর্ব অর্থ বেচে

পিঠে কোমল হাত বুলিয়ে দিতে এসে

তোমার হাতের রেখা আস্ত মুছে গেছে

তুমি ছাড়া কে আছে সরল কবিতায়

তোমার ভেতর কলকাতা দেখা যায়

তোমার উচ্ছন্ন মন এত সাদা হায়

যেন অন্ধকারে নিমিষেই দেখা যায়

গাব গান মনোপ্রাণ রাগ বিহনে ভাঙব

শুধু আজ রবীন্দ্রনাথের গলা ধরেই কাঁদব

রবীন্দ্র গোপ

নজরুল হে বিপ্লবী মহান

আমার স্বপ্নে আমার ধ্যানে আমার বিপ্লবে আমার সংগ্রামে

বারবার তুমি এসে দাঁড়াও বাবরি চুলের সমুদ্রঢেউয়ে

আমার সকল অস্তিত্বে দোলা লাগে প্রাণে জাগে আনন্দ হিল্লোল

তুমি আমাদের ঘুমন্ত চেতনায় জাগিয়ে দাও ভোরের রক্তিম সূর্যকে।

তুমি বিদ্রোহী বীর সত্য আর সুন্দরের ধ্যানযজ্ঞে পুড়ে পুড়ে

অঙ্গার হয়েছ, সূর্যপোড়া ছাই থেকে বিপ্লবে মহামন্ত্রে

পবিত্র করেছ বিশ্বকে, বুকটান করে দাঁড়িয়েছ

জগতের সকল লাঞ্ছিত বঞ্চিত ভাগ্যহতদের সপক্ষে।

তুমি মানুষকে ভালোবেসে, মানুষকে সবার উপরে দিয়েছ আসন

গেয়েছ সাম্যের গান, অভেদ ধর্ম আর জাতির ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে

পৃথিবীর মানুষকে দেখিয়েছ সত্যের আলোকিত উজ্জ্বল পথ।

তুমি শিখিয়েছ মানুষেরে, যে মন্দিরের দরজা ভিখারিকে দেখে বন্ধ হয়

সে মন্দির পূজারির, সেখানে দেবতা থাকে না, সে মন্দির দেবতার নয়,

তুমিই বলেছ, মসজিদ-মন্দিরে প্রভু নাই... প্রভু তো অন্তর্যামী অন্তরে বসবাস।

নজরুল হে কবি, হে বিপ্লবী মহান, মানুষেরে ভালোবেসে মানুষেতেই

মুক্তির পথ দেখিয়েছ তুমি দেবতা আর ঈশ্বরে নয়

হে কবি তুমিই সত্য সুন্দরের পথপ্রদর্শক, হে কবি তুমিই মহান।

স.ম. শামসুল আলম

তৃষ্ণা

তৃষ্ণাগুলো তোমাকে চুমুক দিয়ে বলে

পান করি সৌন্দর্য জোছনা

তুমি কোনো অন্ধকার ফুঁড়ে

নিষিদ্ধ আকাশে হেঁটে দেখেছিলে আলোকম-ল

সেই থেকে আলোকিত মন ও পৃথিবী

ভালোবাসতে শিখিনি বলে

চাঁদ চলে গেছে মেঘেদের বাড়ি

মেঘ ঘুমিয়েছে নিরাপদে

ভালোবাসতে পারিনি বলে

সূর্য ডিঙিয়েছে দূরে স্পর্ধিত আকাশ

আকাশ ভেঙেছে মর্চে পড়া সূর্যরশ্মি

ভালোবাসতে জানি না বলে

আমার তৃষ্ণাকে তুমি খাটো করে দেখেছ সর্বদা

এখন বিমূর্ত রাতে

অন্ধকারে জেগে থাকা না-থাকা সমান

রাইফ ইফতেখার

এই ব্যথাটা

এই ব্যথাটা আমার ছিল, বুকের মাঝে, খুব যতনে

নিষিক্ত-নীল অলিন্দতে, প্রাণভোমরার মধ্যিখানে

দেশান্তরী চাঁদের মতো, অনেক রাতে জ্যোৎস্না হয়ে

এই ব্যথাটা আপন করে, ঘুমিয়ে যেতাম খুব গোপনে

এই ব্যথাটা আমার ছিল, ঝাপসা স্মৃতির পাতার ভাঁজে

অনেক আকাশ জড়িয়ে ধরে, ঘরপালানো পাখির সাজে

দূর বাতাসের গা জড়িয়ে, নাটাই ছেঁড়া ঘুড়ির দলে

এই ব্যথাটাই আমার ছিল, নিবিড় কোনো দুখের ছলে

এই বেদনা হিসেববিহীন, অতল তলের মায়ার মতো

কষ্টকথার ভূগোলজুড়ে, পারাপারের হিসেব যত

তীরহারা এক সাগর মাঝে, নাড়িয়ে রুমাল সঙ্গোপনে

এই ব্যথাটাই ডাক দিয়ে যায়, গভীর বিষাদ-ভুল বিহনে

এই বেদনা দুঃখবোধের, নিটোল প্রাচীর কয়েদখানা

উতল চোখের শিহরণে, অবাক হওয়ার এক দোটানা

ভুল বেদনার ফানুস হয়ে, ডাক দিয়ে যায় আগুন পানে

এই ব্যথাটা খুব সাধারণ, ডাকছে তবু মোহন টানে

এই অজানায়, ব্যথার হিসেব-হালখাতাতে ভুলের দাগে

কার বেহালার আনমনা সুর, ডাক দিয়েছে ধ্রুপদ রাগে

টানছে আমার ভবঘুরে পা, হারিয়ে যাবার আমন্ত্রণে

নিশীথ ঘোরে, অমন করে, কোন ব্যথিতের ব্যথার সনে...

জেএম রউফ

ঘুমজাগা ভোর

আমায় ঘুম পাড়াবে বলে রাত্রিও ক্লান্ত হয়

চোখ ঘষে ঘষে টেনে আনে ভোর

আমার তন্দ্রাও আসে না

বিরক্ত হয়ে এক সময় নিকষ কালো রূপ নেয়

অমাবস্যা হয়ে ঘিরে ধরে চারপাশ;

তবু জেগে রই, ঘুমাতে পারি না।

অমানিশায় কাজ হয় না বলে

কালোর ঘোমটা খুলে ক্রমান্বয়ে

মেলে ধরে রুপালি জোছনা;

মায়ায় ভুলিয়ে আমায় নিয়ে যেতে চায়

ঘুমের বিছানায়

তবু জেগে রই

আমার ঘুম আসে না!

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে