আমাদের সাহিত্যের বাস্তবতা

  শহীদ ইকবাল

২৯ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাহিত্যের ভেতরে গ্রথিত সময় ও সমাজÑ এ মতে বাংলাদেশের সাহিত্য যার বয়স এখন অর্ধশতাব্দীরও বেশি; পেরিয়েছে অনেক দুরন্তর পথ, ক্রমেই তা হয়ে উঠেছে অনেক দুরন্তও বটে। কারণ বহুবিধ; অনেক রকমের। দ্রুত দেখে চলেছি খাবার নেই, স্বাস্থ্য-বস্ত্র নেই, বিপরীতে সমাজে আছে মোবাইল, আছে স্থাপনা আর আছে হু-হু করে বেড়ে চলা মানুষের স্রোত। শ্বাসরোধ হওয়া মানুষগুলো চলেছে লক্ষ্যহীন; বাঁচার নিরাপত্তার আয়োজনে। কর্মহীন, কর্মবিমুখ, আলস্যজর্জর রক্তশূন্যগ্রস্ত শঙ্কিত, সমাজ-দ-িত মানুষ; অনেক মানুষ। রাস্তায় গাড়ি চলে আজকাল, প্রত্যন্ত পর্যন্ত, চলে অনেক রকমের বাহন; কোনোটা স্ব-উদ্ভাবিত, কোনোটা এনজিও অর্থে কেনা, বাড়িতে বাড়িতে সুদের ব্যবসায় ‘সুদাড়–’ হয়ে এলাকার প্রতীভূ বনে যাওয়াÑ কেনাবেচা চলে মানুষ, তা দিয়ে চলে চলাচল, বাড়ে সান্নিধ্য; যোগাযোগ-সম্পর্ক তৈরি হয় নানামাত্রিক। আজকাল বুঝি বা আবেগ বেড়েছে যোগাযোগের ফলে। আবেগ হয়েছে অস্থির, ঠুনকোও। সঙ্গে সঙ্গে আবেগের ভেতরে নিজের প্রেম, আত্মমর্যাদা, কেন্দ্রিকতায় দাঁড়িয়ে গেছে। তখন সৃষ্ট আবেগের সম্পর্কিত ব্যক্তিসম্বন্ধের জায়গাগুলো হয়ে পড়েছে দুর্বল, ঈর্ষাগ্রস্ত; স্বার্থান্বেষী। তার পর তা এক রকমের ষড়যন্ত্রের আচ্ছাদনে কূটার্থ দাগ কাটে। সময়টিতে তখন জরুরিপনা দেখা দেয়। মর্মদাহন তৈরি হয়। বিষণœতা ছাপিয়ে পড়ে। খেদোক্তির অন্তর সৃষ্টি হয়। ক্রুদ্ধতায় পাশ ফেরায় যাবতীয় প্রবণতা। এরূপ প্রস্তাবনা একটা পর্যায়ের। একটু বিরতিতে আবার দেখেছি পুনর্বার গ্রাস করেছে ‘পবিত্র’-‘বিশুদ্ধ’ উঠতি মধ্যবিত্ত মন। প্রবহমান নগর ধেয়ে যায় শাশ্বত গ্রামের দিকে, নগরের দুর্বহ জীবন-সংস্কৃতি গ্রাস করেছে আপামর সব। শূন্য প্রাণ জন্ম নিচ্ছে, বাইরের চাকচিক্য ছেয়ে গেছে সর্বত্রÑ দ্রুত সাঁই শব্দে ছুটে যায় হানড্রেড টেন সিসির মোটরসাইকেল, গলাবন্ধ আর রুপালি চেইনে ‘আকণ্ঠ’, উগ্র পারফিউম, ফটোতোলা মোবাইল, ব্যান্ডের তালের দ্যোতনা আর কালো গগলসে ছড়ানো জনপদ। এমনটা পাই এ গ্রামের ক’বছর আগের বানানো শিলবিছানো রাস্তায়। জৌলুস প্রচ-, কাগজ-কলমের সম্পর্ক নেই; পয়সা বানানোয় ব্যতিব্যস্ত মন। এখানের রচিত পরিম-ল ঢেঁকুর তোলেÑ হিসেবে জানি, এই প্রথম ফেঁপে ওঠে প্রশংসিত, আলোকোজ্জ্বল; হঠাৎ আলোর ঝলকানি আসে বানানো অর্থে। মনস্তত্ত্ব এদের খুব চড়া, বেসুরো, কায়েমি। বিনষ্টি নিহিত ‘অর্থে’। জানে এটাই মোক্ষ। জীবনটা এর বাইরে তো কিছু নেই। জন্ম-মৃত্যুস্রোত আলোড়ন তোলে খুব কম। হঠাৎই চলতে-ফিরতেই হয়ে যায় ধার্মিক। দোয়েল, ফড়িং নতুনকেই গড়াতে চায় কিন্তু স্রষ্টার সৃষ্টিতে তত্ত্ব হয়ে পড়ে আবার নিপতিত। এ দেশের অনেক শতাংশজুড়ে এরাই চোখে পড়ে। আর অন্য প্রস্তাবনাটি হচ্ছে একেবারে অসুস্থ-অচল-অনাচার পীড়িত ‘কিছু সাহায্য দাও’। অনেক, বারবার, পরিণতি দ্রুত। ক্রমেই অচলায়তন, অন্ধকারে নিমজ্জিত। অবনতির পারাবত। এসব প্রস্তাবনা প্রসঙ্গে সাহিত্যেও বাস্তবতা ধারণাটি উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। চলে আসে, প্রয়োজনসাপেক্ষ হয়ে।

সাহিত্যে মিত্রতার প্রকৃত সত্যটি উপর্যুক্ত বিবৃতির ভেতরে নিহিত। কেন বলছি, কারণে প্রকৃত সমাজস্তরের দৃকপাত, উৎপাদন-সম্পর্ক সন্নিহিত বিষয়গুলো। ভেতরের মর্মযন্ত্রণা, ভুঁইফোড়সর্বস্ব মানুষ, প্রান্তরের সংবাদ চাই সাহিত্যে। মিত্র যাবতীয় বস্তুনিষ্ঠতায়, উঠে আসে আমাদের দিনাতিপাত সেই শুরুতেÑ সাতচল্লিশের পর। বাঙালি মুসলমান ভূমি পায়, আত্মপ্রকাশে তীব্রতর হয়ে ওঠে; অমোঘ সত্যে বায়ান্ন, ঊনসত্তরে, একাত্তরে এবং অদ্যাবধি। এ আলোচনায় ইতিহাসটা আসবে সাহিত্যের ভেতর দিয়ে। তার মিত্রজন কষ্টিপাথর যাচাই হয়ে। মুসলমানের রাষ্ট্র পাকিস্তান, সেখানে রচিত আদর্শ গোলাম মোস্তফার রচনায়, সঙ্গে অনেকেইÑ রওশন ইজদানী, তালিম হোসেনসহ বলা হলো দৃঢ়তার কথা। কারণ জন্মচেতনায় পাকিস্তান, সে জন্য স্বাতন্ত্র্য হতে চাওয়া; সেটাই শেষ রক্তবিন্দু ঘোষণা। কবিতা-গল্প-নাটক তাই অধিকারÑ সর্বাগ্রে উচ্চারণ ‘রাত্রিশেষ’, ‘সামনে নতুন দিন’Ñ পাকিস্তানের সত্যে। কিন্তু ক্রমেই ভাষার ভেতর থেকে ওই মিত্রতার শর্তটি দৃঢ়তর অজান্তেই জোরালো বায়ান্ন দিয়ে, ভিত্তিটি ওই মিত্রতায়Ñ যার বিস্তৃত রূপ ঐতিহ্যিক, জাতীয়তায় এবং মূলধারায়Ñ আরও গভীরে সমাজস্তরের যাবতীয় আভ্যন্তর সম্পর্কিত মানুষকে ঘিরে। দাঁড়ায়, শাণিত হয়ে; তীক্ষèতর, দূরগন্ধবহ, ঋজুতায়। দ্রুত সত্যটি সাহিত্যে কায়েম হতে থাকে, এক রকমের অনিবার্যতায়। প্রতিরোধী রাষ্ট্রশক্তি, বিপরীতে ঐক্যবদ্ধ গণমানুষÑ বিনির্মিত পথটিতে চায় বৈষম্যহীন, শোষণহীন, অধিকারের শর্তটি পূরণ করতে। যারা লেখেন ‘রাত্রিশেষ’ তার সমন্বয়, ঐক্যচেতনায়, ধর্মীয় রাষ্ট্রের হীন উদ্দেশের বাইরে পরিষ্কার পথটি পেয়ে যান। ধর্মনিরপেক্ষতা মানবতা, রাষ্ট্রের সঙ্গে ধর্মের বিযুক্তি হলো একাকারÑ স্পষ্ট।

আমরা ষাটকে পাই অপশাসনের ভেতরে, প্রতিরোধের শাসনকালে। তখন দৃঢ়প্রত্যয়গুলো, অনেক উচ্চগামী সৃজনী তৎপরতা। জানা যায়, প্রকৃত সাহিত্যের অপ্রতিরোধ্য শক্তি। আবুল হাসান তীক্ষèধী, চেষ্টায় অনেক কিছু কিন্তু আটকালেন বিকৃত-বিনষ্টির প্রোফেটিক ভাষ্যে। শামসুর রাহমান ‘রূপালী স্নানবার্তা’য়; আবদুল মান্নান সৈয়দ, রফিক আজাদ আর শহীদুল্লা, মুনীর, শওকত, জহির কে নন? সাহিত্যে নগর প্রখরÑ সেটা প্রথম উঠে এলো, সিভিল-মডার্ন-ডেমোক্র্যাটিক নগরÑ যেখানে ‘বৃত্তের সংসার’, বিচ্ছিন্নতা, ক্ষয়িষ্ণু, অক্ষয়কাতর প্রভূত বিষয় দ্রুত এবং প্রায়ই তুলে আনতে চাইছে এরা তখনকার নিমিত্তে। তৎপরতা চিহ্নিত অবলোকিত এ প্রত্যয়টি নিঃসৃত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে ধরেÑ আর উত্তরাধিকারে উল্লিখিতরা ত্রিশের। যাদের হাতে এলিয়ট, ইয়েটস, অডেন, স্পেন্ডাররা ছিলেন সেটি প্রকৃত সাহিত্যে ঢাকায় জমালো মেলা। দ্বিধাহীন সমসাময়িকতাকে তুল্যমূল্য করে কেউবা সর্বান্তঃকরণে শিল্পকে ভালোবেসেÑ তাকে সত্য জেনে। এ পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গরূপে তৈরি, তারপর মুক্তিযুদ্ধ; সবার লক্ষ্য আরেকটি প্রত্যয়ের-স্বপ্নের-বিবেচনার। কিন্তু সে পরের জিনিসটি আসার জন্য পূর্বের আয়োজন দৃঢ়তা, অর্জন করে ফেলে একটি নতুন দিকনির্দেশনাÑ সাহিত্যকে ঘিরেই। ফলে কাক্সিক্ষত ক্ষেত্রটি সৃষ্টি। আমাদের ষাটের সংস্কৃতি এমন মর্মপ্লাবী তা লক্ষে-অলক্ষে আজও স্মরণীয়, বরণীয়।

কিন্তু একইরূপে পৌঁছানো একাত্তরে পূর্বের তেইশ বছরে ছিল শত্রুর প্রসঙ্গটি, উজানে চলার পথটি। বিশেষ বৃত্তে রেখে, উদ্দেশ্যকে চালিত রেখে, নিজ-সংস্কৃতি বা জাতিত্ববিরোধী ‘সংস্কার-সংস্কৃতি’ও বহমান ছিল। সংস্কার নজরুলে, রবীন্দ্রনাথেÑ মুসলিম বানানো, হিন্দুত্ব আখ্যা দেওয়া, ভারতের ভূখ- বলে সুনিশ্চিত অপহারী রাজনীতি করাÑ সেখানে মুহম্মদ আর ইসলাম ভেবে আত্মার সত্যকে নির্ভার চালিয়ে দেওয়া, ব্যবহার করা। ধর্মভিত্তিক পাক-রাষ্ট্রকে টেকানো নানা কৌশলে, ‘কায়েদ-ই-আযম’ই চেতনাশক্তির দোসর এরূপে কী চলে সাহিত্যের? সমাজসত্য অস্বীকারে, প্রকৃত প্রাকৃত-ভূমি-জমিন অস্বীকারে, রবীন্দ্রনাথকে বৃত্তে ফেলে বা অন্যের বলে চালালে, নজরুল খ-িত করলে, সাহিত্যে অবিশ্বাস তৈরি হয়; শত্রুতার পর্যাবৃত্ত রচিত হয়। স্পষ্ট হয় ওটি অমিত্র ও বিনষ্টিরÑ আর চলবে না ও আবহের কারণ চিত্ত সায় দেয় না। চিত্তচাঞ্চল্য ছাড়া সে ভার বহন করে না সাহিত্য। বিরচিত আনন্দলোক তৈরি হয় না। ষাটকে যেভাবে বরণীয় করেছিÑ সময়ের সত্যতায় ও মিত্রতায় ঠিক একই পৃষ্ঠে অসত্যে, অপরাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় বর্ধিতও হয়েছে। এক অর্থে, তাই জীবনের মন্ত্র; সামনে এগিয়ে চলার পথ।

একটা সময়ে পাক-শাসকের জাতিত্ব-সংস্কৃতিবিরোধী প্রবণতাগুলো ছিলইÑ সে গড়ে উঠেছিল; অনেক প্রতিরোধে, সচেতনতায়। শত্রুতার প্রসঙ্গটি কারণে ছিল, ভেতরে। কিন্তু প্রতিরোধে প্রতিপক্ষের মূলোৎপাটনে বিরাট, প্রভূত জয়ের দিগন্ত সূচনা করে। সাহিত্যে প্রচুর উৎস ও উৎপত্তি সৃজিত হলো। মুক্তিযুদ্ধটি রচিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিত শুধু শত্রু-মিত্রর প্রসঙ্গটি নয়। উৎসবে থাকে বৈষম্যরহিত সমাজকাঠামোর প্রত্যয়, সাম্যচেতনার সংহতি, রাষ্ট্রবিযুক্ত ধর্মের পরিচর্যাÑ দৃঢ়ভিত্তির মর্যাদায় চকিত লালিত্যমুখরিত স্বদেশ। ফলে কাক্সিক্ষত স্বদেশের পাদপীঠে অবারিত সাহিত্য। প্রচ-রূপে মিত্রতার; সমস্ত সম্ভাবনার পরিচর্যা মুখরিত। পেয়ে যাওয়া চলে তাৎক্ষণিক মুক্তিযুদ্ধÑ বাংলাদেশের নাটক, মঞ্চনাটকÑ দুর্বার; অপ্রতিরোধ্য। অনেক দূর প্রসারিত। কবিতায় সত্তরÑ দুর্দান্ত প্রজন্ম, পূর্ববর্তী ষাটের ধারা আরও বিবর্ধিত মৃত আবুল হাসান, শহীদ কাদরী, শামসুর রাহমান ‘বিধ্বস্ত নীলিমা’য় আলোকিত, রুদ্র মুহম্মদ ‘মানুষের মানচিত্রে’র পরিচর্যা, নির্মলেন্দুর প্রতিচিত্রে ‘প্রেমাংশু’তে আরও অনেকেই অনেকমুখী রফিক আজাদ, মোহাম্মদ রফিক। কথাকারের উত্থানে হাসান বা ইলিয়াসরাÑ ওয়ালীউল্লাহ্র সাহসে; আনেকান্ত লেখককুল। বান ডাকে প্রবন্ধে-গবেষণায় উন্মোচিত হয় অনালোকিত অনেক কিছু। কিন্তু দুর্ভাগ্যও তাড়া করে। জাতির পিতার মৃত্যু আবার পুনরুক্তির প্রহরা ওই আয়ুবী গর্জন, কায়েদ-ই-আযমের প্রেতাত্মাদের ভিড়Ñ বিশ্বাস গিয়ে জড়ায় উদ্ভূত লালসার চাদরে। তখন আল মাহমুদ, ‘বখতিয়ারের ঘোড়া’কে দান করে স্বর্ণকলমÑ বাতিল হয়ে যান ‘আমার পূর্ব-বাংলা’র লেখক সৈয়দ আলী। অনেকেই স্বৈরশাসনের অপহারী রূপÑ ওই রকমের অভিজ্ঞতায় শাসকরা বা তার পারিষদে ‘যথারীতি’ করে তোলে সাহিত্যে মিত্রের জগৎটি তখন আবার ক্রন্দনধ্বনি পায়। আশি ও নব্বই এরূপেই দ্বিধা-সংশয়-অবক্ষয়ে দাঁড়ায়। সভ্যতার সমৃদ্ধিকে সম্মুখপানে চালিত করলেও, ওদের ভিত্তিতে বিবেক রচিত হয়Ñ সেখানে অবলম্বনটুকুর কৃতজ্ঞতায়, অনিবার্য নির্যাসে থাকে স্বদেশ অঙ্গীকার। দৃঢ় সত্য সেখানে দুরন্ত, বিপ্লবাত্মক এরূপে ওদের নিজেকে পোড়ানো প্রতিমাগুলো। তা সাহিত্য ও কালজয়ী, অক্ষয়, অজর ছাপ রেখে যায়। কিন্তু যেমনটা আগেই উচ্চারিত হয়েছে, বিপরীতে শত্রুনির্মিতির প্রান্তকথা। সেটা ক্রমেই মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশে বাড়তে থাকে। বিশেষত পুঁজিবাদ-ভোগবাদী বিশ্বে। দৃঢ় হয়ে যায় ওদেরÑ ওই অপশক্তির পারাবত। প্রচুর ঔজ্জ্বল্য-মেকী-সজ্জিতÑ চাকচিক্য ঝলসিত হতে থাকে নির্বিরোধী কখনো দাপটের প্রাবল্যে। জায়গা করে নেয় সবকিছুর সামূহিক স্তম্ভে। তখন সাহিত্যেও ভুঁইফোঁড়, জৌলুসকাতর, অন্তঃসারশূন্য হয়ে পড়ে। কাতর-জর্জর-পীড়িত মাটি অনুষঙ্গি, উৎপাদন-সম্পর্ক সাধিত মানুষ পাওয়া যায় না। আশির পরে বৈশ্বিক সূত্র ধরে সবকিছুর অনর্গল অনুপ্রবেশ, মিডিয়া প্রকোপ, তথ্যপ্রবাহÑ প্রচ-তায় পেয়ে বসে। যেমনটা এখানে শুরুর অভিজ্ঞতায় বলেছি মোবাইল, উত্থিত মধ্যবিত্ত তৈরি, আকাক্সক্ষা ও স্বপ্নব্যাপ্তি বাড়তে থাকে। সাহিত্যের গাত্রে এসব এসে জায়গা করে নেয়। তখন একই চরিত্র, একই মানুষ, একই আর্থসমাজ পুনর্বার, পুনরায়, একঘেয়ামির রূপ চলতে থাকে। উপস্থাপিত হয়। আমাদের সবকিছুতে এ পর্যায়টি এখন চলছেÑ দ্রুতই। মিডিয়ার নায়ক হতে চায় সবাইÑ কিন্তু ‘কোনো গুণ নাই’ সেটা জানার জন্য যে আত্মসমালোচনা সে জ্ঞানটুকুও যেন তিরোহিত। বারবার মিডিয়ায় পুরনো পুনরুক্তি, অগুণগত চরিত্র প্রদর্শনী শরীর বিকৃতির পাদভারে, আড্ডা-আলোচনা বেশি ফ্যাশনেবল। কী বলা, কী সিদ্ধান্ত, কী জানানোÑ পাঠক তো কিছু পায় না। তারকা হলে দাম আর অর্থ আর অনেক মানুষের বিরতিহীন হাততালি। এই চাই। যে মঞ্চনাটক অপার সম্ভাবনায় একাত্তরে দাঁড়ায়Ñ এই স্বাধীন দেশে, মিডিয়ার কারণে কেউ আর সে কষ্টে, সে অনুশীলনে নেই। কে পড়ে শেক্সপিয়ারÑ ডিএল বা রবীন্দ্রনাথ! বৃথাই এসব, লাভ কি? কেন এত কষ্ট। তুচ্ছতেই তো বিরাট প্যাসেজ গড়া যায়। মিডিয়ায় টক শোতে, ফ্যাশনে, নাটকে, বিজ্ঞাপনে, সিরিয়ালে তাই চলছে পুনর্বার আর আইকন হওয়ার প্রয়াস; আশ্বাস। এগুলো যাদের জন্য প্রদর্শিত তারাও অনুকরণে, সময়ক্ষেপণে আর এভাবেই চলার পথ তৈরিতে ব্যতিব্যস্ত। কারণ বিধৃত সমাজ আর ওই সমাজ মানুষগুলো তেমনইÑ তাই তো চায়। কেন না যা প্রদর্শিত বা প্রচারিত তা তো সেই রকমের উঠতি চেতনার তরুণদেরÑ যে তরুণদের চিনি, জানি। যারা শুধু দেখতেই অভ্যস্ত। আর অনুকরণপ্রিয়। এরূপে যে আবহটি বিধৃত সেখানে সাহিত্য তার মিত্র কোথায় পাবে? পেতে কী পরে!

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে