কবিতা

  অনলাইন ডেস্ক

০৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফারুক মাহমুদ

চিঠিখেলা

কোমরে সাপের ঝাঁপি। বেদেনীর শুকনো ওষ্ঠ থেকে

ঝরে পড়া হাসিটির মতো

আমরা যা বলছি, আমরা যা করছি

এতে কিছু কপটতা থাকে

মাঝেমধ্যে আমরা তো এখনো

ডাকঘরে যাই, চিঠি ফেলে আসি

যেদিন পিয়নের দেখা পাই

নির্জনে দুজনে বসি। পিঠে পিঠ রেখে

চিঠি দুটো চার হাতে ভাগ করে পড়ি

তুমিই বলো, কোন মুখে ‘ছদ্ম’ বলি আমাদের এ পাগলামোটাকে!

মাসুম সরকার

ধারণ

অদৃশ্য থাবায় তুলে নাও

জরায়ু থেকে ভ্রƒণ,

তার পর বুনে দাও আগুন।

আমি পোয়াতি হবো

দ্রোহ তেজ বীজে

নিষিক্ত হবো নিজে নিজে।

খালেদ হোসাইন

ভিলেনের ভালোবাসা

আমি তোমাকে ভালোবেসেছিলাম।

কিন্তু ভিলেনের ভালোবাসা কে বিশ^াস করে?

তা হয়তো ভালোবাসাই ছিল না।

আমি হয়তো লোভ করেছিলাম।

তাই লোভে পাপ আর পাপ মৃত্যু হয়েছে আমার।

এখন সৎকারহীন অসৎ সেই লাশ বয়ে বেড়াই।

ঘেন্না কুড়াই।

শকুন আর গৃধরের মতো ভাগাড়ে বসবাস করি।

আর আকাশের দিকে তাকাই

পাপপুষ্ট অতীতের দিকে।

আর নিজেকে গাঢ়তরভাবে ঘেন্না করি।

সুজন হাজারী

হাতে লেখা

স্বপ্নই দেখি শুধু স্বপ্নকে দেখি না

চোখের নৈঋতে গেঁথে আছে

অখ- স্বপ্ন

স্বপ্নবাজ পায় স্বপ্নের দেখা

স্বপ্ন ঈশ্বরের নিজ হাতে লেখা।

রাজীব আর্জুনি

চিরকালীন

একটা চিরকালীন মায়া হরিণ

জিজ্ঞাসিলো, ওহে

বলত চিরকালীন কোনো পথ বা মত আছে কিনা?

বলত চিরকালীন কোনো বর্ণ বা রঙ

আছে কিনা?

চিরকালীন পৃথিবী কিনা

সে প্রশ্নেও মীমাংসা আছে নাকি?

আপাতত কিছু চিরকালীন দৃশ্যই

থাকুক; বুনো ফুলের

ঘ্রাণটা থাকুক

বা একটা সুরের মতো প্রবাহ

বয়ে যাক চিরকালীন প্রশ্নে।

কাজী মোহিনী ইসলাম

যুগের সঞ্চিত স্মৃতি

পাখিরা ওড়ে না কেন তৃপ্তির আকাশ ছুঁয়ে ছুঁয়ে

যুগের সঞ্চিত স্মৃতি অদেখা অতীত কারুকাজ

বৃষ্টির শরীর আঁকে হলুদ মেঘের খুলে ভাঁজ

বৈরী বসন্ত কেন ধূসর পাতায় স্থির নুয়ে!

আলোর প্রস্থান দেখে বিস্তৃত দিগন্ত খোলে চুল

বিবর্ণ পৃথিবী যেন আঁধার আঁচল টানে মনে

আদিম পতির চোখে নগরী পতিতা যেন ফুল

শরীরী প্রেমের ঘ্রাণ ছড়ায় মাতাল উলুবনে!

নক্ষত্র নগরী পোড়ে বৃষ্টির অরণ্যে কতকাল

কুমারী মৃত্তিকা তবু নির্ভেজাল ভালোবাসা চায়

প্রগতি ইচ্ছেরা মেলে বর্ণালি স্বপ্নের মায়াজাল

আদিম মহত্ত্ব ছুঁয়ে বিপুল শাশ^ত সুখ পায়!

গোধূলি উষ্ণতা চেটে অজগরী সন্ধ্যা হয় নতÑ

রাতের চোখেই দোলে সোনালি ভোরের স্বপ্ন যত।

আদ্যনাথ ঘোষ

মঙ্গল প্রবাহে

ওই দূর আকাশের ¯িœগ্ধ নীলিমায়

ভেসে বেড়ায়

আলোর ঝরনাধারা

উদাসী অভিমানে অনন্ত উন্মাদনায়

সাজায় প্রেমের বিতান।

মিলে যায় জীবনের আলোকসজ্জায়

অন্তিম শয়ানে

ক্ষণমাত্রকালে।

 

শীতল ছায়ামাখা বনবীথিতলে

খেলার কলতানে উদাসীন দয়িতা

মাতোয়ারা প্রণয়ের শিহরণে।

 

তমসার কালস্রোতে ক্ষণিক ভেসে ওঠে

আলোকের প্রস্ফুট কোলাহল

সর্বদা জেগে থাকে মঙ্গল প্রবাহে

আশাবরি রাগের সুরলহরিতে

মহাকালের স্রোতে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে