অসময়

  রেজাউল করিম খোকন

০৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাখাইন রাজ্যের পেরাংফুল এলাকাটি মোটামুটি সমৃদ্ধিশালী। এখানকার মাটি বেশ উর্বর। ফসল খুব ভালো হয়। যারা কৃষিকাজ করে, তারা অবস্থাপন্ন নয়। সচ্ছলতা না থাকলেও কোনোভাবে দিন চলে যায়। অবশ্য ব্যবসা-বাণিজ্যে যারা নিয়োজিত, তাদের উপার্জন অনেক বেশি।

পেরাংফুল এলাকায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের সংখ্যা বেশি। পাশাপাশি রাখাইন বৌদ্ধ মগদের বসবাস রয়েছে। সংখ্যায় কম হলেও এখন এ অঞ্চলে রাখাইন মগদের দাপট বেড়েছে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের সরকারিভাবে নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে রাখা হচ্ছে। উচ্চশিক্ষা লাভ থেকে শুরু করে চিকিৎসা সুবিধা, ব্যবসা-বাণিজ্য করার অনুকূল পরিবেশ, চাকরি-বাকরি নিয়ে বিদেশ যাওয়া সবকিছুই এখানকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য অনেকটা অধরা রয়ে গেছে। পদে পদে বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাদের। যে কোনোভাবেই তাদের দাবিয়ে রাখাটা যেন মিয়ানমার সরকারের নীতি হয়ে উঠেছে। প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এখানে বাঁচার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা।

কয়েক পুরুষ ধরে রাখাইন রাজ্যের পেরাংফুলে বসবাস করছে কাপড় ব্যবসায়ী সেলিম কোম্পানির পরিবার। এক সময় তারা কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিল। পরে খুচরা কাপড় ব্যবসায় নেমে পড়েছিলেন তার বাবা। অল্পদিনেই কাপড় দোকানের ব্যবসা বেশ জমে ওঠে। অল্প সময়ে কয়েকটি কাপড়ের দোকানের মালিক হন তিনি। এলাকায় ধনাঢ্য ব্যবসায়ী পরিবার হিসেবে তাদের বেশ নামডাক ছড়িয়ে পড়ে।

বাবার মৃত্যুর পর সেলিম কোম্পানি পৈতৃক ব্যবসার হাল ধরেছিলেন। তার ব্যবসায়িক বুদ্ধি বাবার চেয়েও প্রখর হওয়ায় রাখাইনে ছোটখাটো কাপড়ের কারখানা চালু করে শাড়ি, লুঙ্গি, থামি উৎপাদন করতে থাকেন। নিজেদের কারখানায় উৎপাদিত কাপড় দোকানে দোকানে দিয়েও কুলিয়ে উঠতে পারেন না। পাশের দেশ বাংলাদেশেও আজকাল তার কারখানায় তৈরি বার্মিজ লুঙ্গি এবং থামি চোরাচালান হয়ে যাচ্ছে। ওখানে বেশ চাহিদা রয়েছে এগুলোর। আর নিজেদের কয়েকটি দোকানে তো প্রতিদিনই প্রচুর বিক্রি রয়েছে।

বড় ব্যবসায়ী এবং কাপড় তৈরির কারখানার মালিক হওয়ায় এলাকার লোকজন সম্মান করে ‘সেলিম কোম্পানি’ হিসেবে সম্বোধন করতে শুরু করে। দানশীল, পরোপকারী, সমাজসেবী মানুষ হিসেবে সম্মান করতে শুরু করে। দানশীল, পরোপকারী, সমাজসেবী মানুষ হিসেবে তার আলাদা পরিচয় ও সম্মান রয়েছে। সবার বিপদ-আপদে সব সময় সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে পাশে গিয়ে দাঁড়ান ত্রাণকর্তার মতো।

রাখাইন রাজ্যের পুরোটাই কৃষিপ্রধান অঞ্চল বলা যায়। সবুজ ধানক্ষেতে যখন বাতাস দোল খায়, তা দেখে যে কারো মন ভরে যায়। ফসলভরা মাঠ এখন কৃষকের মনে আনন্দ দিতে পারে না। কারণ মিয়ানমার সরকার জোর করে অনেক কম দামে ধান কিনে নেয় কৃষকদের কাছ থেকে। পরিশ্রমের ফসল বিক্রি করে উপযুক্ত দাম পায় না এখানকার কৃষকরা। তারা এত পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েও নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারে না। সচ্ছলতা থাকলেও তারা তেমন ধনী নয়, কোনোভাবে কেটে যায় দিন।

সেলিম কোম্পানির পূর্বপুরুষ সরাসরি কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিল। এখন আর কৃষিকাজে জড়িত না থাকলেও স্থানীয় কৃষকদের দুঃখ-বেদনা ঠিকই অনুভব করেন তিনি। দিনে দিনে সবার কাছে একজন ত্রাণকর্তা হিসেবে ভরসাস্থল হয়ে উঠেছেন সেলিম। তার তিনতলা সেগুনকাঠের তৈরি বাড়িটি গোটা এলাকায় সবার মনোযোগ আকর্ষণ করে। এ রকম দর্শনীয় সুসজ্জিত বাড়ি গোটা এলাকায় আর কারো নেই। সেলিম কোম্পানির বাড়িটি হঠাৎ দেখলে অচেনা কোনো মানুষ চমকে উঠবেন, বাড়িতে ঢুকতে সংকোচ অনুভব করবেন। কিন্তু রাখাইনের পেরাংফুলে যারা সেলিম কোম্পানি আগে থেকে চেনে-জানে, তাদের কেউই সংকুচিত হয় না এ বাড়িতে ঢুকতে। ধনী, গরিব, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, মগ সবার জন্য এ বাড়ির দুয়ার খোলা সব সময়। এখানে এসে না খেয়ে কেউ কোনো সময় যায়নি। বিভিন্ন ধরনের আপ্যায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। আর এ কাজে নিয়োজিত রয়েছে বেশ কিছু মানুষ। সেলিম কোম্পানির নির্দেশ রয়েছে, এ বাড়িতে এসে কেউ যেন খালি মুখে ফিরে না যায়। যে কারণে সারাবছরই এ বাড়িতে লঙ্গরখানার আয়োজন থাকে। বেশি লোকজন ভিড় করলেও খাওয়া-দাওয়ায় কমতি হয় না কোনো সময়। কেউ কোনোদিন রোজার দিনে ইফতারি করতে গিয়ে না খেয়ে ফেরত গেছে এ বাড়ি থেকে, তেমন কথা বলতে পারবে না।

ব্যবসায়িক কাজে অনেক ব্যস্ত থাকলেও সেলিম কোম্পানি প্রতিদিনই বাড়িতে আসা লোকজনকে সময় দেন, তাদের অভাব-অভিযোগ শোনেন মন দিয়ে। সাহায্যপ্রার্থীদের যথাসাধ্য সহায়তা করেন। হতাশ কিংবা ব্যর্থ মন নিয়ে কেউ ফিরে যান না এখান থেকে। ঈদ উৎসবে বেশ কয়েকদিন ধরে চলে স্থানীয় লোকজনকে আপ্যায়ন। শুধু মুসলমানরাই নয়, এখানকার হিন্দু, বৌদ্ধ, মগ সবাই আসে দলে দলে। ঈদের সেমাই এবং অন্যান্য খাবার-দাবারে আপ্যায়িত করা হয় সবাইকে। এবারের কোরবানির ঈদেও চারটি বড় বড় গরু জবাই করা হয়েছে সেলিম কোম্পানির বাড়িতে। অন্যান্য বার কোরবানির গোশত নেওয়ার জন্য স্থানীয় অনেকেই ভিড় করত এ বাড়িতে। কিন্তু এবার লোকজনের ভিড় নেই একদম।

ঈদের কোনো আমেজ নেই আশপাশে কোথাও। গোটা এলাকায় ভয়ঙ্কর আতঙ্ক আর উত্তেজনা বিরাজ করছে। এক সপ্তাহ আগে রাখাইনে পুলিশ ক্যাম্পে একদল সন্ত্রাসী হামলা করেছিল। এতে কয়েকজন পুলিশ মারা যাওয়ায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে সাধারণ রোহিঙ্গা জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। রাখাইনজুড়ে যুদ্ধের আয়োজনে অভিযান শুরু করেছে। রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চলছে। আগুন দেওয়া হচ্ছে ফসলভরা জমিতে। মংডুতে অনেক রোহিঙ্গাকে গুলি করে ও জবাই করে মারা হয়েছে। মিয়ানমার সৈন্যদের সঙ্গে স্থানীয় রাখাইন মগরা একজোট হয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর চড়াও হচ্ছে। ঘরবাড়ি, দোকানপাট লুটপাট করা হচ্ছে। অনেক রোহিঙ্গা নারীকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কোনো কোনো জায়গায় বাড়িতে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে, আবার কোথাও সন্তানের সামনে মাকে ধর্ষণ করছে তারা। বর্মি সৈন্য এবং রাখাইন মগ সন্ত্রাসীদের অন্যায় কাজে বাধা দিতে গিয়ে এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে অনেক রোহিঙ্গা যুবক। মিয়ানমার সরকার তাদের বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী দলের লোক হিসেবে আখ্যায়িত করে রেডিও-টেলিভিশনে ফলাওভাবে প্রচার করছে। মিয়ানমার সরকার বিচ্ছিন্নতাবাদী দমনে কঠোর অভিযান শুরু করেছে। এটা আরও জোরদার করা হবে, বারবার বলা হচ্ছে রেডিও-টেলিভিশনের ঘোষণাগুলোতে।

বাড়িতে টেলিভিশনের সামনে বিষণœ মনে বসে আছেন সেলিম কোম্পানি। তিনি ভাবছেন, দেশে এ কোন কেয়ামত নেমে এলো। ঈদের দিনগুলোতে সব সময় স্থানীয় লোকজনের মিলনমেলায় পরিণত হয় সেলিম কোম্পানির পুরো বাড়ি। কিন্তু এবারের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ অন্যরকম। ভয়ে আতঙ্কে বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না কেউ। অনেকেই আক্রান্ত হয়েছে, বর্মি সৈন্যদের নির্মমতার শিকার হয়েছে। কারো কারো বাড়িঘর জ¦ালিয়ে দেওয়া হয়েছে। শোকের মাতম চলছে চারপাশে। প্রিয়জন আর সর্বস্ব হারানোর আহাজারিতে এখানকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে ক্রমেই।

বাড়ি থেকে বাইরে যেতে অস্থির হয়ে উঠছে মনটা। নিজেকে কোনোভাবেই যেন প্রবোধ দিতে পারছেন না সেলিম কোম্পানি। পেরাংফুলের সব মানুষ এতদিন বিপদ-আপদে তার কাছে ছুটে এসেছে সাহায্য-সহযোগিতার জন্য। সবাইকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছেন তিনি। এলাকার সবার মধ্যে একটা ধারণা বদ্ধমূল ছিল, যে কোনো ধরনের বিপদ থেকে উদ্ধার করে দিতে পারেন তিনিই একমাত্র ব্যক্তি। কিন্তু আজ তিনি নিজেই মিয়ানমার সৈন্য এবং স্থানীয় রাখাইন মগ সন্ত্রাসীদের হিংস্র আক্রমণের শিকার হয়েছেন। কিছুক্ষণ আগে টেলিফোনে খবর এসেছে তার কাপড় কারখানায় বোমা হামলা করা হয়েছে। বোমা হামলায় আগুন ধরে গেছে কাপড়ের গুদামে। এখন দাউ দাউ করে পুড়ছে তার কারখানা ও গুদাম। কাপড়ের দোকানগুলোতে হামলা করা হয়েছে। একদল সন্ত্রাসী দোকানের কর্মচারীদের ধরে নিয়ে কাছের একটা মাঠে জবাই করেছে। কর্মচারীদের অপরাধ, তারা সন্ত্রাসী দলের দোকান লুটপাটে বাধা দিয়েছিল। সেলিম কোম্পানি নিজেও ভাবতে পারেননি এতবড় বিপর্যয় নেমে আসবে তার জীবনে। কখনো কারো ক্ষতি করেননি। বরং সবার উপকার করেছেন, সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য-সহযোগিতার চেষ্টা করে এসেছেন। নিজের অর্জিত ধন-সম্পদ বিত্তবৈভব, সামাজিক সম্মান সবকিছুই আশপাশের সবার কল্যাণে ব্যবহারের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কেন এত বড় সংকটে পড়তে হলো তাকে? তিনি কি কোনো পাপ করেছিলেন, যার প্রায়শ্চিত্ত করতে হচ্ছে এভাবে? প্রশ্ন করেন নিজেকে। এতদিন পেরাংফুলে সবার বিপদ-আপদে একজন ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেও আজ নিজেই চরম বিপদের মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছেন সেলিম কোম্পানি। সবাই এলাকা ছেড়ে যে যার মতো বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে মিয়ানমার সৈন্যদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে অনেকেই। গত কয়েকদিনে এখানকার রোহিঙ্গা পল্লীতে আক্রমণ হয়েছে বেশ কয়েক দফা। বেশ কয়েকটি বাড়ি জ¦ালিয়ে-পুড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। গুলি করে, কুপিয়ে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ শিশু-কিশোরকে। তাদের কোনো অপরাধ ছিল না। তবে তাদের বাঙালি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অথচ তারা দীর্ঘদিন ধরে রাখাইন প্রদেশে বসবাস করছে। এখানেই তাদের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। মিয়ানমারকে তারা জন্মভূমি হিসেবে ভালোবাসলেও সরকার এবং সেনাবাহিনী তাদের সেখান থেকে চিরতরে উচ্ছেদে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সেলিম কোম্পানি তার ওপর নেমে আসা বিপর্যয়ের জন্য কোনোভাবেই প্রস্তুত ছিলেন না।

আশপাশের সবাই প্রাণ বাঁচাতে, স্ত্রী-কন্যার সম্ভ্রম রক্ষা করতে নিতান্ত বাধ্য হয়ে মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশের টেকনাফ এবং নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের দিকে ছুটে যাচ্ছে।

বাড়িঘর ছেড়ে এক কাপড়ে পথে নামলে শেষ পর্যন্ত কী ঘটবে আগে থেকে কিছুই বলা যাচ্ছে না। দীর্ঘপথ হেঁটে পাড়ি দিতে হবে টেকনাফ অথবা নাইক্ষ্যংছড়ি পর্যন্ত যেতে। এ পথ পাড়ি দেওয়া মোটেও সহজ কাজ নয়। যে কোনো সময় মারাত্মক বিপদ ঘটতে পারে। দুবেলা খাবার না জোটার সম্ভাবনা বেশি। দুর্গম পাহাড়ি পথ, গভীর অরণ্য পাড়ি দিতে গিয়ে এর মধ্যে অনেকেই ভয়ানক বিপদের মুখোমুখি হয়েছে। এভাবে প্রাণ হারাচ্ছে কতজন। সব খবরই পাচ্ছেন সেলিম কোম্পানি। এ অবস্থায় বাড়িঘর ফেলে রাস্তায় নামলে আগামী দিনগুলোতে কী ঘটবে কিছুই জানা নেই। শেষ পর্যন্ত অনিশ্চিত, শঙ্কিত পদযাত্রায় লাখো মানুষের কাফেলায় শামিল হতে হবে তাকে, ভাবতেই বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠছে।

এতদিন পেরাংফুলে সবার বিপদ-আপদ, দুঃখ-দুর্দশায় সহায় হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। সবার ভরসা ছিলেন তিনি, কিন্তু এই দুঃসময়ে সবকিছু পাল্টে গেছে। খুব অসহায় মনে হচ্ছে নিজেকে। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সবকিছুই। আগামী কয়েকদিনে কী ঘটবে আগে থেকে অনুমানও করা যাচ্ছে না। এর পর ছেলেমেয়ে, বউসহ কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে হবে জানেন না সেলিম কোম্পানি। অনাগত ভবিষ্যতের ভাবনায় অস্থির হয়ে ওঠেন তিনি। এ রকম পরিস্থিতিতে পড়তে হবে দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে