কবিতা

  অনলাইন ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আলমগীর রেজা চৌধুরী

অরুন্ধতী নেই, মৃত্যু নেই

আমি যা অনিবার্য জানি তা নিয়ে ভাবি না

কিছু পতিত পত্রের বিষণœ ক্রন্দন শুনছি

তাতে আমার যায় আসে না।

সন্ধ্যার মায়াময় গোধূলির সঙ্গ ত্যাগ করেছি বহুকাল

অরুন্ধতীর প্রণয় নিয়ে আমার কোনো বিলাপ নেই

কৈশোর যে আমাকে প্রেম-পাশা খেলায় পাঠ দিয়েছিল

তার মুখ মুখস্থ রাখেনিÑ

আহারে আমার বিস্মৃতির হাহাকার!

পথরেখা বেয়ে আদিগন্ত প্রলুব্ধ নিখিল

তার সঙ্গে অচেনাই ঘর-গেহস্থালি

আমার রক্তে যার ভ্রমণ

সে আগামীর সাথে হাঁটে!

মানুষের প্রয়োজনে যা যা আমি তার ঠিকুজি রাখি

জগতের গলি-ঘুপচিতে অনিবার্য অরুন্ধতী নেই, মৃত্যু নেই।

রেজাউদ্দিন স্টালিন

সরলার সংক্ষিপ্ত জীবনী

পৃথিবীর যে মেয়েটি আকাশরাজের বাড়ি

কাজ করে তার নাম সরলা

সেই কবে মাকে দেখেছে মনে পড়ে না

কিন্তু বাড়ির পাশের গাছপালা নদী

খেলার সাথী টুনটুনির কথা মনে আছে

কত কাজ তার হাতে

প্রতিদিন আকাশরানীর মেঘশাড়ি কাচতে হয়

তাদের একমাত্র ছেলে সূর্যদেবের জন্যে বেডটি দিতে হয়

শ্যালক ধূমকেতু শিকার নিয়ে ফিরলে

তারাবকের রোস্ট বানাতে হয়

গা হাত পা টিপতে হয় এমনকিÑ লজ্জাগুলোও

আকাশরানীর মা চাঁদ বুড়ির অঘুমের অসুখ

তার জন্যে বাটা ভরে পান ছেঁচতে হয়

সরলার নিজের বলে কিছু নেইÑ নীরবতা ছাড়া

একবার ঘোড়ায় চড়া উল্কা কুমারকে দেখেছিল এক ঝলক

সেই ভালোলাগার কথা ভয়ে কোনোদিন মুখ থেকে সরেনি

এখনো সে স্মৃতি বুক ভার করা দীর্ঘশ^াস

মেঘশাড়ি নাড়তে ছায়াপথের পাশে

কিংবা ছাদে দাঁড়িয়ে মায়ের কথা মনে হলে

চোখ ভরে কাঁদে

তখন পৃথিবীতে অনেক বৃষ্টি হয়

সরলার মা ভাবে তার মেয়ে সুখে আছে

স.ম. শামসুল আলম

একটি ব্যথনবিন্দু

আমাকে দেখতে হলে

তোমার চোখের মনিটরে অন্তর-আলোর স্পর্শ দাও

দেখবে অনন্ত দূরে দাঁড়িয়ে বিমর্ষ

একটি ব্যথনবিন্দু।

আদ্যনাথ ঘোষ

জীবনের ক্ষত

স্মৃতির পাতা থেকে খসে পড়ে বৃক্ষের কঙ্কাল

বেদনায় ঢেকে যায় সুখের প্রহর

এ মিলন শুধুই ছবির ফ্রেমে-দর্পণে

বাঁধা থাকে চিতাভস্মচাঁদ

ক্ষয়ে যায় প্রাণময় স্বপ্নÑউচ্ছ্বাস

অস্ফুট ক্রন্দনে ভেসে যায় মনস্বী চোখ

জমা থাকে জীবনের ক্ষত

রক্ত চুষে খায় রাতে

মলিন বিছানার ছারপোকা...

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে