sara

কবিতা

  অনলাইন ডেস্ক

১২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সুজাউদ্দিন কায়সার

হেরফের ভাগাভাগি

তুই বড় বেশি উপোসি

উতরানো ঢেউ শুধু উসকানি

তোমার বিলাসী-শরীরে ব্যাধি

মনের ঝাঁপিতে গোঙরানো

পঙ্কিল হিংসা

বৈচিত্র্য থেকে তুমি ব্যগ্র

মুখে শব্দ কৃপা

সবকিছুতে ব্যঙ্গ

সময়টা তোমার মস্তব্যাপী

বেহিসেবি বাওভাসি রফাদফা

তুই অত বেশি তুচ্ছ মেলাতেÑ যাস্ নে

গোলাম কিবরিয়া পিনু

পইথানে জমা

তরুণতা নিয়েÑ

সবকিছু তুড়ি মেরে

আমিও দাঁড়কোদাল নিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম,

ধুয়া তুলে গানে

শ্বাস নিয়েছিলাম।

কী হলো তাতেÑ শকটের সঙ্গে যারা গেল

সেই অট্টালিকায়Ñ তারা আর আমাদের দিকে

ফিরেও তাকাল না!

বলিÑ নিজেদের ঘর নিজেদের দখলে না থাকলে

হৃৎপি-ের ধুকধুকানি শুধু বাড়ে নাÑ

ছাড়ে না দুর্বিপাকেও!

প্রলয়মেঘও দূরের আকাশ থেকে

পইথানে এসে জমা হয়!

আরিফ মঈনুদ্দীন

বিরহ কাতর

তুমি যাকে ভালোবাসোÑ ভেসে ওঠে প্রিয়তমার মুখ

মায়াবতীর কোমল দৃষ্টি

প্রেমে-শ্রদ্ধায়-ভালোবাসায় একাকার মন

কোমলতার নির্ভুল ধারাপাতে রচেছে এক বৃষ্টি-সময়

মেঘ ফেটে বৃষ্টি নামে নগরে

মনে ফোটে বরষার খই

তোমাকে যে ভালোবাসে তার পাত্তা কই?

ভেতরের আয়নায় দেখো তার মুখ

ভুলে গেছো তাকে তবু কমেছে কি সুখ?

পণবন্দি কাতরতা হৃদয়ের মাঝে

কী মোহন সুরÑ বেদনার মতো বাজে।

মশিউর রহমান খান

সবুজের দূত কিংবা রেলভ্রমণ

রেলব্রিজ ছুঁয়ালো আমাদের ইঞ্জিনের পা

অতএব খোদাহাফেজ মেলান্দহের বিকেল,

তোমাকে রেখে গেলাম ঝিনাই পাড়ে

ভেবেছ তোমাকে বঞ্চিত করেছি আমাদের সহযাত্রী না করে

দু’পাশের সবুজ জমিন ভেদ করে চলছি আমরা রেলে

এর ভ্রমণবৃত্তান্ত লেখা ফুরোবে না কোনোকালে।

রেলগাড়ি চলছে, রেলগাড়ি চলছে

চলতে চলতে বিড়বিড় করে যেন কত কথা বলছে

‘এটা অড়হর ক্ষেত, ওটা শিমবন

এই যে শান্টিং চলছে দেখছ এখানে খাদ্যগুদাম

আর ওই দূরে লাল দালানগুলো ওগুলো জেলখানা

আর শান্টিংয়ের আগে যেখানে চা খেয়েছিলাম

সেটা ছিল বিদ্যাগঞ্জ।’

রেলগাড়ি চলছে, রেলগাড়ি চলছে

চলতে চলতে রেলগাড়ি চলছে না আর...

রাত্তিরে ময়মনসিংহ জংশনে থেমে গেলে পরে

মনে হলো, বিকেলটা বসে আছে কোথাও মন খারাপ করে

মেজবাহ উদ্দিন

বর্ণমালার অশ্রুপাত

সবুজ বিকেলের মাঠ রোদের গন্ধে

বাতাসে ভাসে তীব্র চেতনার সুদীর্ঘ নীল ধেনু

পাতা ঝরার শব্দে নেচেছিল বর্ণমালার মিছিল

ডেকেছিল দাঁড়কাক ডালে বসে কিংবা উড়ন্ত ডানায়।

আমার বর্ণমালারা চেতনা বুঝে, বুঝে বেড়ে ওঠা শৈশব

হাতের স্পর্শের মোলায়েম অনুভূতি বুঝে

তাই বেদনার অথই সাগর পেরিয়ে বেঁচে রয়েছে।

তারা ¯েœহ-প্রীতি ছড়াতে পারে সবুজ ঘাসে

তারাও প্রাণে প্রাণে নিঃশ^াস নিতে পারে

দীর্ঘ দেহ তাদের দীর্ঘ বেদনার অশ্রুপাত।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে