আন্তর্জাতিক পাঠকের হাতে মোস্তফা কামালের উপন্যাস

  মনসুর আলম

০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এই সময়ের মানুষের কাছে পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে। জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো প্রকাশনা জগৎও পৃথিবীর নানা প্রান্তে খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশ্বসাহিত্যের আনাচে-কানাচে যেসব রতœ অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে, সেগুলো খুঁজে বের করে আলোর সামনে নিয়ে আসার ব্যাপারে প্রকাশনা সংস্থাগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি তৎপর হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতার একটি প্রমাণ মোস্তফা কামালের উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ। মোস্তফা কামাল বাংলাদেশের জনপ্রিয় ঔপন্যাসিকদের অন্যতম। আড়াই দশকের বেশি সময় ধরে লেখালেখি করছেন। তার উপন্যাসের সংখ্যা প্রায় একশ। ‘জননী’, ‘পারমিতাকে শুধু বাঁচাতে চেয়েছি’, ‘জিনাত সুন্দরী ও মন্ত্রীকাহিনি’ ‘হ্যালো কর্নেল’, ‘অগ্নিকন্যা’, ‘অগ্নিপুরুষ’ তার জনপ্রিয় উপন্যাস। মোস্তফা কামালের তিনটি উপন্যাস ‘থ্রি নভেল’ নামে এক মলাটে প্রকাশ করেছে নোশনপ্রেস। নোশনপ্রেস মূলত ভারত, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা। এ প্রতিষ্ঠানটি আমাজনসহ আরও প্রায় দশটি বই-বিপণনী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মোস্তফা কামালের এই পুস্তকটি পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। নিজের উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ বিষয়ে মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমাাদের সাহিত্যের পরিচিতি বিশ্বপাঠকের কাছে তুলে ধরতে অনুবাদের বিকল্প নেই। আজকের পাঠকের কাছে সারাবিশ্বের সাহিত্যের চাহিদা তৈরি হয়েছে। আমাদের সাহিত্য অন্যান্য এলাকার সাহিত্যের তুলনায় কোনোদিক থেকে নিম্নমানের নয়। বরং যেসব সাহিত্য বড় বড় পুরস্কার পাচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে আমাদের সাহিত্য তুলনীয় হতেই পারে। বিশ্বপাঠকের চাহিদার প্রতি নজর দিয়ে প্রকাশকরাও ইদানীং সচেতন হয়ে উঠেছেন। সুতরাং সবার কাছে আমাদের সাহিত্যের পরিচিতি বাড়ানোর জন্য আমরাও তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করব।’

মোস্তফা কামালের তিনটি উপন্যাসের মধ্যে প্রথমটির নাম ‘তালিবান পাক কান্ল অ্যান্ড আ ইয়াং লেডি’। আফগানিস্তানে তালেবানদের উত্থান এবং তাদের উত্থানে পাকিস্তানসহ আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের জীবনে ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা স্থান পেয়েছে এ উপন্যাসটিতে। এ উপন্যাসটি অনুবাদ করেছেন দুলাল আল মনসুর। মোস্তফা কামাল নিজে অনুবাদ করেছেন দ্বিতীয় উপন্যাস ‘ফ্লেমিং ইভেনটাইড’। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর পরই পরাজিত শক্তি আবার মাথা তুলে দাঁড়ায়। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দূষিত হয়ে পড়ে। ধূর্ত শাসকের প্রশ্রয়ে স্বাধীনতাবিরোধীরা খুব দ্রুত ক্ষমতার স্বাদ নিতে শুরু করে। তাদের স্বাভাবিক চরিত্র অনুযায়ী ভালো মানুষদের ওপর অত্যাচার শুরু করে তারা। সুযোগ পেলেই দেশপ্রেমিক মানুষদের বিপদে ফেলতে চেষ্টা করে। মন্দ মানুষদের কুচক্রে ভালো মানুষদের জীবনের ভয়াবহ অবস্থার চিত্রে তৈরি হয়েছে ‘ফ্লেমিং ইভেনটাইড’ উপন্যাস।

উপন্যাসত্রয়ীর তৃতীয়টির নাম ‘দ্য ফ্ল্যাটারার’। আমাদের সমাজের নানা স্তরে ছড়িয়ে আছে দুর্নীতির মতো ব্যাধি। দুর্নীতির প্রসারে বিশেষ ভূমিকা রাখে তোষামোদ। তেলবাজ বা তোষামোদকারীরা নিজেদের স্বার্থের টানে অবিরত ওপরের মহলে তোষামোদ করে যায়। নিজ নিজ স্তর থেকে তারা ওপরের ব্যক্তিদের মনোরঞ্জনের চেষ্টা করে যায়। এ রকম সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে তৈরি হয়েছে মোস্তফা কামালের এ উপন্যাসটি। এখানে প্রধান তেলবাজ হিসেবে আছে তেলাওয়াত, হাবিবুর রহমান প্রমুখ চরিত্র। তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার তাগিদে ওপরের স্তরের ব্যক্তিদের তোষামোদ করে বেড়ায়। ওপরের স্তরে যারা থাকে তাদের নাম প্রচারের জন্য নানাবিধ অপকৌশলের আশ্রয় নিতে দেখা যায়। ‘দ্য ফ্ল্যাটারার’ উপন্যাসটির অনুবাদক মাছুম বিল্লাহ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে