sara

কবিতা

  অনলাইন ডেস্ক

২৩ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আলমগীর রেজা চৌধুরী

আদিনাথ

আদিনাথের মন্দিরের জল স্পর্শই তোমাকে মনে পড়ে

আমি দেবী দর্শনে ভয় পাই

যদি দেবী রুষ্ট হয়ে অভিসম্পাত দেনÑ

দিতেই পারেন, মানুষের কত ভুল-ত্রুটি,

অভদ্র আচরণবিধি, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য;

নানান বিধি-বিধান, কর্তিত ধর্মীয় ভদ্রতা।

সহস্র বর্ষের বঙ্গীয় বদ্বীপ

হাঁটতে হাঁটতে কল্যাণময় সুশীতল জল

দীঘিতে মীনদের ডুব-সাঁতার খেলা।

প্রেম-প্রলুব্ধতায় নিমগ্ন পর্যটক ছায়াচ্ছন্ন

প্রকৃতির গায় রেখে আসে একটি শব্দÑ মানুষ!

আমার হাত রিনিকে ধরে রাখে

সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে মনে হয়Ñ

হলুদাভ রাখাইন তরুণীর বিনম্র আমন্ত্রণ

আমরা যেন বারম্বার ঘুরে যাই

ওরা আমাদের অপেক্ষায় থাকবে।

ওই ভূমির বাসিন্দা কবি নিলয় রফিক

লিখে রাখে, আমি আলাওল, কবি-মনুষ্য ভালোবাসায়

আদিনাথ, ষাট গুম্বুজ, কান্তজিউ

একটি পথ নির্মাণ করে রেখেছেÑ

আসুন, আমরা রাখাইন তরুণীকে প্রেম বিলাই...

স.ম. শামসুল আলম

অন্য অনুভব

ভ্রুক্ষেপের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায় না

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গোছাতে বিশেষ সময়

মূল কাগজটি খুঁজে পাওয়া যায় না

অনেক বিষয় চোখের সামনে ঘটে

কিন্তু দৃশ্যগুলো চোখে দেখা যায় না

যেমন নিজের হাঁচি দেবার সময়

মুখের বিকৃত-ভাব দেখা যায় না

তবে সবকিছুই অনুভব করা যায়

কিছু কিছু ক্ষেত্রে বোঝাও যায়

ঠিক যেমন তোমার হাসিতে

কখনো কখনো অশ্রুও লুকানো থাকে।

ফকির ইলিয়াস

মানপত্র অথবা খোলাখাম

ভেতরে কোনো চিঠি নেই। খামটি খোলা।

আমি খোলা রেখে যে জানালাÑ ঘুমিয়ে পড়েছিলাম,

তা কখন জানি বন্ধ হয়ে গেছে। কে বন্ধ করেছে

এই শব্দের বাতায়ন! কে হাত বুলিয়েছে এই বর্ণবীজে!

আমার শব্দমিতারা চিঠিহীন খোলাখাম আমাকে প্রায়ই পাঠাত।

ওই খামের গায়ে তাদের যে হস্তছাপ লেগে থাকতÑ

তা ছিল আমার কাছে অক্ষর।

ওই খামের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ আমার কাছে যে হাওয়া বয়ে আনতÑ

তা ছিল আমার কাছে নিঃশ্বাস।

আমি সুরমা নদীর তীরে অভিলাষী প্রশ্বাস নিতে নিতে

ঢেউসমগ্রে পাঠ করতামÑ আমার প্রতি মেঘের মানপত্র।

স্রোতগুলো সমস্বরে বলত, তুমি কবি হও

আমরা তোমাকে দেব আরও কিছু শব্দ, আজীবন ঋণ।

মাসুদ মুস্তাফিজ

মানুষও একদিন বৃক্ষ হয়

বৃক্ষের অসুখ হলেÑ আবেগের তন্দ্রাবন পোড়ে পাতাদের রক্ত থেকে ঝরে সবুজ শোক আর নরম মেঘের বাতাস সময়ের মুহূর্তে নাড়িয়ে দিয়ে যায় আশা-ভরসার মনস্ক স্বাধীনতার চোখের রাস্তার ভাঁটবর চড়–ইভাতি পেরিয়ে বর্ষাকাল নামে

এই পাখিস্পর্শগুলো অনুবাদ করতে করতে আমাদের জীবনে আসে ভুলরাত আকাশের আলো নিবে এভাবে মরা বাতাসে নির্জনতায় রহস্য জমে ক্ষয় হয় মগ্নতার বোধ-ক্লান্তি অন্যদিকে নদীর গহিন কৃষ্ণবরণ ধুলিমুখে ধুলোবন কাঁদে

জানি ঘোড়ার পায়ে খঞ্জনা খুরে ভালোবাসার অভিমান ওড়ে আধুনিক স্তনের অপার আঘ্রাণজলে নেমে আসে উতরোল আকাক্সক্ষাতন্ত্রে যৌবনের রাতদিন আমাকে গ্রহণ করো-বহন করো হে

হে সূর্য হে দাহ এত পাপ কী মনোহর অর্থে মিলিত করেছি নির্বাচিত প্রিয় অক্ষরমালার শিল্প বিরহকামী বৃক্ষের ভোর আয়নার সংগোপনে শিহরিত আস্বাদ প্রকৃতি পোশাক পরে অপরাধ পাখির নামে তুলে নাও আকাশে

শিকড়প্রবাহে অসুখ নীরবতায় ভেজামাটির গন্ধে বৃক্ষসহবাসে যায় বিবিধ ফুলে-পাতায় প্রত্যয়দেহে আলো মেখেÑ মানুষও একদিন বৃক্ষ হয় সবুজ ভালোবেসে প্রত্যাবর্তন সময়ের আঁখিরাতে...

রুদ্র আরিফ

শো-স্টপার

একি অস্থিরতা অদ্ভুত, র্যাম্প থেকে ডানা উড়ে গেল শো-স্টপারের; গাউনে বিপন্ন দুপুরের জেব্রাক্রসিং শুয়ে আছে। তোমরা বললে, শহরে অমাবস্যা এখন, জোনাকির লেজ ছুঁয়ে ঝুলে আছে ল্যাম্পপোস্ট; এত বিষাদের গান ভালো লাগছে না, তবু অন্ধ বাঁশিঅলার ছায়াÑ হেঁটে যাচ্ছে একাÑ আলখাল্লার মায়া মেখে...

যেখানে ঝিমুচ্ছি আমরা, ঝিনুকের পৃথিবীতে, ক্যালেন্ডারের পাতাগুলো ক্লান্ত হয়ে ঝরতেই থাকে; সিমেন্টের বাগানে, জুঁইফুলের বীজ তুমি এঁকে দিতে আসবে না?

তানজিম ইসলাম

অযাচিত ছায়া

সম্পর্কের শেষ রোদে ছায়াটা আড়াআড়ি দীর্ঘ হলো আরও

ভূমিকায় ভুল ধরার শিক্ষক না পেয়ে বাড়িয়ে তুলেছিলাম

পড়ার টেবিলে অমনোযোগী জীববিজ্ঞান

একবার আমি এনাটমি নিয়ে রহস্য বাড়াতে গিয়ে লিখে

ফেলেছিলাম শুকনো রোদের ইতিহাস

সেই থেকে তুমি একটা ভুল অঙ্গ আমার শরীরজুড়ে

আজ কেমন যেন ও মলিন তোমার অবস্থান অথচ

ছায়া কাটার কোন ব্যবহারিক শিক্ষা আমার জানা নেই

অযাচিত ছায়া হয়ে বেড়ে যাচ্ছ তুমি যেন

একটা অ-অপসারণযোগ্য অঙ্গ

আরজুমুন

একলা আকাশ

একটা ঘুড়ি আঁকতে গিয়ে এঁকে ফেললাম তোমার মুখ

আকাশ আঁকতে গিয়ে এঁকে ফেললাম পৃথিবী প্রমুখ...

পাহাড়ের সঙ্গে সখ্য আমার, ঝরনাটা আঁকলাম

সাগর আঁকতে আঁকতে জলরাশিÑ ঢেউ ডাকলাম

মরুভূমি আঁকতে গিয়েই তোমাকে হারিয়ে ফেললাম!

হে পরাক্সমুখ, সকল বিষণœতা তুলির আঁচলে মেখে

ভুলে যাচ্ছি আঘ্রাণ; পৃথিবীর সকল প্রেমিকের নাম

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে