x

সদ্যপ্রাপ্ত

  •  বিকালের মধ্যেই বিদ্যুৎ বৃদ্ধির ঘোষণা আসছে: বিইআরসি

কোথায় কর কোথায় ছাড়

  আবু আলী

১২ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে মুনাফার সম্ভাবনা বেশি। পাশাপাশি ঝুঁকিও বেশি। তবে ব্যাংক সঞ্চয়ে মন্দা সুদের চেয়ে শেয়ারবাজারে মুনাফার সম্ভাবনা বেশি। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর ছাড় আছে। আবার সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশের ওপর রয়েছে কর ছাড়। শেয়ারবাজারে কোথায় কেমন কর ছাড় বা কর আছে, তা পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো-

কর রেয়াত সুবিধা : পুঁজিবাজারে মূলধনী মুনাফা করমুক্ত। অন্য যে কোনো ব্যবসা থেকে অর্জিত মুনাফার জন্য কর দিতে হয়। কিন্তু পুঁজিবাজারে মুনাফায় কর ছাড় পাওয়া যায়। এ ছাড়া করপোরেট করহারে ছাড় রয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সঙ্গে তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানির করহারে ১০ শতাংশ পার্থক্য রয়েছে। এক্ষেত্রে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২৫ শতাংশ আর তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির করহার ৩৫ শতাংশ। মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ৪০ শতাংশ। আর তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানির করহার ৪৫ শতাংশ। এ ছাড়া করমুক্ত লভ্যাশ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ কোনো বিনিয়োগকারী যদি ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ পান, তা হলে তার কর দিতে হবে না।

ডাবল এবং ট্রিপল কর : বাংলায় একটি প্রবাদ আছেÑ ‘লাভের গুড় পিঁপড়ায় খায়’। পুঁজিবাজারের ব্রোকারেজ হাউস ও বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে এমনই ঘটনা ঘটছে। নিজের টাকা এবং শ্রম দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে মুনাফার বেশিরভাগই চলে যাচ্ছে কর বাবদ। কর জালে আটকে আছেন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, করের যে স্তর রয়েছে, তা সংশোধন করা দরকার। ব্যবসাবান্ধব কর স্তর করা জরুরি বলেও মনে করেন তারা। এ ছাড়া কর স্তরের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্যও রয়েছে। এ বৈষম্য দূর করারও দাবি জানান তারা।

জানা গেছে, আগে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য প্রতিষ্ঠান ব্রাকারেজ হাউসগুলো আগে লিমিটেড কোম্পানি ছিল না। কিন্তু ২০০৬ সালে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ ডিরেকটিভসের মাধ্যমে লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হতে বাধ্য করে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও নেই। কোনো কোম্পানি নিজ ইচ্ছায় লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে বাধ্য করা হয়েছে। ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডাবল, ট্রিপল ট্যাক্স দিতে হচ্ছে।

আগে ডিএসইর সদস্য প্রতিষ্ঠান ব্রোকারেজ হাউসগুলো মুনাফার ২৫ শতাংশ কর দিয়েই মুনাফার বাকি অর্থ খরচের অধিকার পেতেন। অর্থাৎ কোনো ব্রোকারেজ হাউস যদি ১ কোটি টাকা মুনাফা করে, তা হলে ২৫ শতাংশ কর পরিশোধ করে ৭৫ লাখ টাকা খরচ করতে পারতেন। কিন্তু ব্রোকারেজ হাউসকে লিমিটেড কোম্পানি করায় তাকে আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি কর পরিশোধ করতে হচ্ছে। অর্থাৎ ১ কোটি টাকা মুনাফা থেকে প্রথমে ৩৫ শতাংশ কর পরিশোধ করতে হচ্ছে। এর পর সে ওই টাকা খরচ করতে পারে না। খরচের অধিকার পেতে লভ্যাংশ ঘোষণা করতে হচ্ছে। আবার ঘোষিত লভ্যাংশের ওপর ১০ শতাংশ সোর্স ট্যাক্স কেটে রাখা হয়। এর পর ১৫ শতাংশ ফাইনাল ট্যাক্স দিতে হয়। এতে লিমিটেড কোম্পানির মোট ৪৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকার স্বত্বাধিকারী হয়। এখানেই বৈষম্য থাকছে ২৮ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ এক্ষেত্রে লিমিটেড কোম্পানিকে ডাবল ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। অর্থাৎ তাকে ৫৩ দশমিক ১২৫ কর পরিশোধ করতে হয়। অথচ লিমিটেড কোম্পানি করার আগে এসব ব্রোকারেজ হাউস মাত্র ২৫ শতাংশ কর দিত। কিন্তু লিমিটেড করায় তাকে দ্বিগুণের বেশি কর দিতে হচ্ছে।

অন্যদিকে ব্যাংক ব্রেকারেজ হাউসের ক্ষেত্রে এ বৈষম্য আরও বেশি। ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউসকে ট্রিপল ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। কেননা ব্যাংক সরাসরি ব্রোকারেজ হাউস পরিচালনা করতে পারে না। তাকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি করতে হয়। এখানেও বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। এতে তৃতীয় ধাপে কর দিতে হয়। ফলে ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউসকে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ কর পরিশোধ করতে হচ্ছে।

কোনো ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি যদি ১ কোটি টাকার মুনাফা করে, প্রথমে তাকে ৩৫ শতাংশ হারে কর পরিশোধ করতে হয়। এর পর ব্যাংক ২০ শতাংশ হারে কর দিয়ে খরচের অধিকার পায়। কিন্তু ব্যক্তিপর্যায়ে যেতে আরও ১০ শতাংশ সোর্স ট্যাক্স এবং ১৫ শতাংশ চূড়ান্ত কর পরিশোধ করতে হয়। সে ক্ষেত্রে ব্যক্তিপর্যায়ে মোট খরচের অধিকার পায় ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরাও জানিয়েছেন, এসব কারণেই ব্যবসায়ীরা কর দিতে চায় না।

অন্যদিকে কোম্পানির গেইনের ওপর ট্যাক্স নেই। কিন্তু লভ্যাংশের ওপর ১০ শতাংশ সোর্স ট্যাক্স এবং ১৫ শতাংশ চূড়ান্ত কর দিতে হচ্ছে। ফলে বিনিয়োগকারী শেয়ার ধরে না রেখে বিক্রি করে গেইন করছেন। এতে পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব বৈষম্য দূরের আহ্বান জানান পুঁজিবাজার সংশ্লি­ষ্টরা।

আগামীতে ক্ষমতায় এলে করপোরেট ট্যাক্স কমানোর আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি জানান, বাংলাদেশের করপোরেট ট্যাক্সের পরিমাণ পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ। এটি কমিয়ে ব্যক্তি করের সমান করা হবে। তবে তা করতে ৫ বছর সময় লাগবে। অর্থাৎ আগামী ৫ বছরের মধ্যে করপোরেট ট্যাক্স ব্যক্তিপর্যায়ে নামিয়ে আনা হবে, যা আগামী বাজেটে তার প্রতিফলন থাকবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে