x

সদ্যপ্রাপ্ত

  •  বিকালের মধ্যেই বিদ্যুৎ বৃদ্ধির ঘোষণা আসছে: বিইআরসি

যেভাবে অর্থপাচার

  ইশরাতুল জাহান

১২ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পানামা পেপারস ও প্যারাডাইস পেপারসে অর্থ স্থানান্তরের ব্যাপারে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে তারা বিভিন্নভাবে নিজেদের অর্থ বিদেশে পাঠিয়েছেন। ওই সব অর্থের বিনিয়োগ ও আইনগত বৈধতা অর্জন করতে আইনজীবী নিয়োগ করেছেন। সেই আইনজীবীর অফিস থেকেই তাদের গোপন ফাইলগুলো বেরিয়ে গেছে, যা এখন বিশ্বব্যাপী আলোচিত হচ্ছে।

উন্নত দেশগুলোর আয়করবিষয়ক আইন পর্যালোচনা করে জানা গেছে, বিশেষ করে আমেরিকা, কানাডা, যুক্তরাজ্য এসব উন্নত দেশ থেকে অর্থ স্থানান্তর করতে সরকারের কোনো অনুমোদন লাগে না। নিজ উদ্যোগেই বৈধভাবে যে কোনো দেশে স্থানান্তর করা যায়। এ ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছেÑ ব্যক্তি হোক আর কোম্পানিই হোক, তাদের আয়কর ফাইলে অর্থ স্থানান্তরের তথ্য উল্লেখ থাকতে হবে। অর্থের বিপরীতে নির্ধারিত হারে কর দিতে হবে। স্থানান্তরের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা অর্থ কোন দেশে কী পরিমাণে বিনিয়োগ করা হয়েছে, বিনিয়োগ থেকে বছরে অর্জিত মুনাফা বা লোকসানের তথ্য আয়কর ফাইলে উল্লেখ করতে হবে। এগুলো না করাটা অপরাধের আওতায় পড়ে। উন্নত দেশগুলোয় আয়করকে খুব কঠিনভাবে দেখা হয়। যে কারণে এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে রাষ্ট্রীয় পদ ছাড়তে বাধ্য হন সংশ্লিষ্টরা। কেননা আর্থিকভাবে নৈতিক স্খলন বড় ধরনের অপরাধের আওতায় পড়ে। তবে এটি কোনো অর্থপাচারজনিত অপরাধ নয়।

পানামা পেপারস ও প্যারাডাইস পেপারসে যেসব রাষ্ট্রনায়কের নাম এসেছে তারা তাদের অর্জিত আয়ের একটি অংশ বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করেছেন, যেসব দেশে করের হার কম। কম কর দিয়ে তারা বেশি মুনাফা তুলেছেন। অন্যদিকে নিজ দেশের কর কর্তৃপক্ষের কাছে আয়ের পরিমাণ লুকিয়ে এবং কর কম দিয়ে দেশকে বঞ্চিত করেছেন।

ইউরোপ, আমেরিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোয় বিনিয়োগ করে মুনাফা করলে কম কর দিতে হয়। একই সঙ্গে স্থানান্তর করা অর্থের নিরাপত্তাও রয়েছে। যে কারণে ওই সব দেশে বিভিন্ন দেশ থেকে অর্থ স্থানান্তর করে বিনিয়োগ করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া বিদেশি পুঁজি আকর্ষণের জন্য করের ক্ষেত্রে বড় ছাড় দিয়েছে। যে কারণে ওই সব দেশে এখন ব্যাপক হারে বিদেশি পুঁজি যাচ্ছে। বাংলাদেশেও বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগে কর অবকাশ সুবিধা রয়েছে। কিন্তু বিদেশে বাংলাদেশের ব্যাপারে নানা দুর্নাম ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে এ দেশে বিদেশি পুঁজি আসে কম।

বাংলাদেশে ব্যক্তি আয়করের ক্ষেত্রে বিদেশিদের ছাড় নেই। অনেক দেশে এই ছাড় রয়েছে। যে কারণে কর ছাড় বেশি যেসব দেশে, ওই সব দেশে অর্থ চলে যাচ্ছে।

অনুন্নত দেশ বা বাংলাদেশসহ যেসব দেশ থেকে পুঁজি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগে, ওই সব দেশ থেকে অনুমোদন ছাড়া অর্থ স্থানান্তর অবৈধ। এসব দেশ থেকে অর্থ স্থানান্তর করা হলে তা মানি লন্ডারিং বা পাচার বলে গণ্য করা হয়। এসব দেশে অর্থ স্থানান্তরের ফলে দুই ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়। একটি কর ফাঁকি এবং অন্যটি মানি লন্ডারিং। এই অর্থ যদি কোনো অপরাধমূলক কর্মকা-ের মাধ্যমে অর্জিত হয় বা বিনিয়োগ হয় কিংবা এর দ্বারা কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়, তবে সেটি আরও কয়েক ধরনের ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যায়।

ইউরোপের দেশগুলো, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এসব দেশ থেকে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সরকারের কোনো অনুমোদন লাগে না। তবে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ভিয়েতনামসহ অনুন্নত দেশ থেকে অর্থ স্থানান্তরের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হয়।

একইভাবে সুইস ব্যাংক, এইচএসবিসি বা গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) রিপোর্টে যে অর্থপাচারের তথ্য উঠে আসে, সে ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। তবে জিএফআই যে প্রতিবেদন তৈরি করে, তাতে আমদানি-রপ্তানি, রেমিট্যান্স, নগদ বৈদেশিক মুদ্রা স্থানান্তরের আড়ালে মুদ্রাপাচারকে তুলে ধরা হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে