x

সদ্যপ্রাপ্ত

  •  বিকালের মধ্যেই বিদ্যুৎ বৃদ্ধির ঘোষণা আসছে: বিইআরসি

শীতের পোশাক ব্যবসায়ীদের এবার আশাবাদই ভরসা

  নাজমুল হুসাইন

১২ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গত দুই বছর দেশে বেশি শীত পড়েনি। ফলে শীতের পোশাক বেচাকেনাও তেমন জমেনি। অনেক ব্যবসায়ীই লোকসান দিয়েছেন। এবার বেশি শীত পড়বে বলে আবহাওয়া অফিস পূর্বাভাস দিয়েছে। ফলে দিন যত যাচ্ছে, শীত ততই ঘনিয়ে আসছে। জমজমাটও হয়ে উঠছে শীতের পোশাকের মার্কেটগুলো। বঙ্গবাজার, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, পলওয়েল সুপার মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোডসহ রাজধানীর বড় বড় পোশাকের পাইকারি মার্কেটে চলছে প্রস্তুতির ধুম। শীত এখনো বেশি না পড়া সত্ত্বেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায় মার্কেটগুলোয়। বিশেষ করে এখন পাইকারি বিক্রি হচ্ছে বেশি। খুচরা ক্রেতাও মিলছে তবে কম। তবে ব্যবসায়ীরা আগের জমানো কাপড় এখন কম দামে ছেড়ে দিচ্ছেন। ফলে এখন যারা শীতের পোশাক কিনছেন তারা কম দামে কিনতে পারছেন।

আসন্ন শীতকে কেন্দ্র করে দোকানগুলোয় প্রতিদিনই উঠছে নতুন নতুন শীতের কাপড়। পাওয়া যাচ্ছে কম্বল, উলের তৈরি সোয়েটার, ব্লেজার, টুপি, কাপড়ের জুতা, কেটস, জ্যাকেট, ট্রাউজার, গরম কাপড়ের তৈরি প্যান্ট, চাদরসহ নানা রকমের গরম কাপড়।

কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জ, পারগে-ারিয়া, আগানগর এলাকায় পাঁচ হাজারেরও বেশি রেডিমেড গার্মেন্টস রয়েছে। এসব গার্মেন্টস থেকে বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা শীতের পোশাক কিনে থাকেন। এগুলোয় এখন শীতের জ্যাকেট তৈরির ধুম পড়েছে। সোয়েটার ও জাম্পারও তৈরি হচ্ছে। শীতের পোশাকের জন্য রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেটের জুড়ি নেই। কম দামে যেমন পোশাক পাওয়া যায়, তেমনি মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের পোশাক কেনারও ভালো জায়গা। এই বাজারে তিন হাজারের বেশি পোশাকের দোকান রয়েছে। এ বছর বঙ্গবাজারে বিক্রেতাদের প্রস্তুতি অন্য বছরের তুলনায় একটু ঢিমেঢালা। প্রস্তুতি যেমনি হোক, লটে থাকা গত বছরের মাল এবং এ বছরের নতুন মালে দোকান শীতের কাপড়ে টইটম্বুর। ফলে তারা আর নতুন পোশাক নিচ্ছেন না। আগেরগুলোই বিক্রি করছেন। বঙ্গবাজারের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রেক্সিন, লেদার ও চায়না জ্যাকেটের চাহিদা বেশি। প্যান্ট হিসেবে শীতের ট্রাউজার বেশি চলছে। এ ছাড়া আছে গ্যাবার্ডিন জ্যাকেট, মাফলার, চাদর, হুডি টি-শার্ট, জিন্সের শার্ট, চাদর, শাল, কম্বলসহ বাহারি সব পোশাক।

বাজারে আসা জ্যাকেটগুলো সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। শিশুদের সোয়েটার বিক্রি হচ্ছে ২০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত। চেইন লাগানো হুডি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৭০০ টাকায় এবং হুডি টি-শার্ট ২০০-৪৫০ টাকায়। টুপি ৩০ থেকে শুরু করে ১৫০ টাকা। দেশি ও চাইনিজ চাদর বিক্রি হচ্ছে ১৫০-৫০০ টাকায় এবং কাশ্মিরী শাল বা ইন্ডিয়ান চাদর ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। শিশুদের কম্বল ১০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত। বড়দের কম্বল ২০০ থেকে ৮ হাজার টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

শীতের ট্রাউজার বিক্রি হচ্ছে ১২০-২৫০ টাকায়। মাফলার ৪০-১৫০ টাকা পর্যন্ত। পোশাক ব্যবসায়ীরা এবার আশাবাদী। তারা বলছেন, বাংলাদেশে এবার অনেক রোহিঙ্গা প্রবেশে করেছে, যার ফলে এবার শীতে পোশাকের চাহিদা অনেক বাড়বে। তাদের ত্রাণের জন্য অতিরিক্ত শীতের পোশাক লাগবে এমনটাই জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

প্রতিবছর আশানুরূপ বিক্রি না হওয়ায় হতাশায় ব্যবসায়ীরা। বঙ্গবাজারের নিচতলায় এমপি ফ্যাশনের ব্যবসায়ী মো. মনির হোসেন ‘আমাদের সময়’কে জানান, গতবার যে মাল তুলেছিলাম তার তিন ভাগের দুই ভাগই গোডাউনে পড়েছিল। গত কয়েক বছর শীত কম থাকায় শীতের কাপড় কম বিক্রি হয়েছে। বঙ্গবাজারের ইয়াসিন সজিব গার্মেন্টসের বিক্রেতা মাসুদ খান বলেন, যেভাবে শীত পড়া শুরু করেছিল ভেবেছিলাম এবার বিক্রি অনেক বেশি হবে। আবার শীত একটু কম পড়ায় আবার ক্রেতাদের আগমন কমে গেছে। তবে আশা করি, এবার ভালো বিক্রি হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে