বিলুপ্ত জিম্বাবুয়ের মুদ্রা

  মোস্তফা তাহান

২৬ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জিম্বাবুয়ের মুদ্রার নাম ছিল জিম্বাবুইয়ান ডলার। ১৯৮০ থেকে ২০০৯ সালের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এর প্রচলন ছিল। ১৯৮০ সালে যখন জিম্বাবুইয়ান ডলারের প্রচলন শুরু হয়, তখন ১ জিম্বাবুইয়ান ডলারের মান ছিল ১ দশমিক ৪৭ মার্কিন ডলারের সমান। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মুদ্রাস্ফীতির কবলে পড়ে জিম্বাবুয়ের অর্থনীতিতে ধস নামে। ফলে ধীরে ধীরে জিম্বাবুয়ের মুদ্রার মান কমতে থাকে। বর্তমানে ১ জিম্বাবুইয়ান ডলারের মান ০.০০২৮ মার্কিন ডলার। যে কারণে মুদ্রাটি এখন আর সচল নয়। ইতোমধ্যেই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০০৬, ২০০৮ ও ২০০৯ সালে জিম্বাবুইয়ান ডলারের পুনর্নাম দেওয়া হয় বা বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়। জিম্বাবুইয়ান ডলারের একশ ভাগের এক ভাগকে বলা হয় সেন্ট। এর কোনো ধাতব মুদ্রা নেই।

এর ব্যাংকনোটগুলো ছিলÑ ১, ৫, ১০, ২০, ৫০, ১০০ ও ৫০০ জিম্বাবুইয়ান ডলার। জিম্বাবুয়ে রিজার্ভ ব্যাংক ২০০৮ সালে সবচেয়ে উচ্চমানের মুদ্রা ছাপায়, যার মান ছিল ১০০ ট্রিলিয়ন ডলার। মূল্যস্ফীতির কারণে যখন মুদ্রার অবমূল্যায়ন হচ্ছিল, তখন তারা এই মুদ্রা বাজারে ছাড়ে। যাতে ক্রেতাদের কাছে পণ্যের চেয়ে মুদ্রা বহন করা ভারী না হয়।

ফলে ২০০৯ সালের শেষ দিক থেকেই জিম্বাবুয়ের নিজস্ব মুদ্রা নেই। পণ্য কিনতে জিম্বাবুয়ের নাগরিকরা তাই মার্কিন ডলার ও দক্ষিণ আফ্রিকার রান্ডের ওপর নির্ভরশীল ছিল। ২০০৯ সালে মার্কিন ডলারকে দেশের প্রধান লেনদেন মুদ্রা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। এ ছাড়া ২০১৪ সালে ইউয়ান, ইয়েন, রুপি ও অস্ট্রেলিয়ান ডলারকে বৈধ টেন্ডার মানি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। জাতীয় মুদ্রা পরিত্যাগ করার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বহু মুদ্রাভিত্তিক মুদ্রানীতি গ্রহণ করে দেশটি। তবে সরকার আশা করছে, দেশটি অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীলতা এলেই তারা নিজেদের মুদ্রায় ফিরে যাবে। এর আগে যাওয়া সম্ভব নয়। কেননা বর্তমানে চড়া মূল্যস্ফীতির কারণে এই মুদ্রার প্রতি মানুষের আস্থা নেই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে