x

সদ্যপ্রাপ্ত

  •  বিপিএল এর পঞ্চম আসরের শিরোপা জিতল রংপুর রাইডার্স। মাশরাফির হাতে চতুর্থ ট্রফি

ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশ জিম্বাবুয়ে

  মোস্তফা তাহান

২৬ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অনিয়ম-দুর্নীতি ও সাদা-কালোদের দ্বন্দ্বে ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে জিম্বাবুয়ে। প্রায় ১৮ বছর ধরে দেশটির অর্থনীতি নানা সংকটের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। দাতা সংস্থাগুলো দেশটিকে এখন কোনো ঋণ দিতে চাচ্ছে না। কোনো নিয়ম না মেনে সরকার নিজস্ব চাহিদা মেটাতে ইচ্ছামতো মুদ্রা ছাপিয়ে দেশটিকে ঋণভারে জর্জরিত করে ফেলেছে। ফলে এখন নিজেদের মুদ্রা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। নিজ দেশে চলছে ডলার, পাউন্ড ও ইউরোর মতো ভিনদেশি মুদ্রা। গত ১৮ বছরের বেশিরভাগ সময়ে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ছিল নেতিবাচক। মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে সর্বোচ্চ ১৫৭ শতাংশে উঠেছে। এর ফলে প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে শূন্যের নিচে। মুদ্রার মান ক্ষয় হয়ে অর্থশূন্য হয়ে গেছে। জীবনযাত্রার মান পড়ে গেছে।

১৯৮০ সালে দেশটি স্বাধীন হয়। দেশটির মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী মুক্তিযোদ্ধা রবার্ট মুগাবে ৩৭ বছর ধরে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায়ই তার কিছু অজনপ্রিয় সিদ্ধান্তের কারণে এই প্রথম দেশটি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এলো।

প্রেসিডেন্ট মুগাবে সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন এমারসন নানগাগওয়া। তিনি ছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয় এবং মুগাবের উত্তরসূরি মনে করা হতো। মুগাবে গত সপ্তাহে তাকে বরখাস্ত করেন। সেই থেকেই দেশটিতে রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হতে থাকে। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয় সেনাবাহিনী। যে কারণে তারা মুগাবেকে আটক করে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতে, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশ জিম্বাবুয়ে। প্রায় ২০ বছর ধরে ৯০০ কোটি ডলার ঋণের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে দেশটি। ২০০৮ ও ২০০৯ সালে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক এত বেশি পরিমাণে নোট ছাপিয়ে ফেলে যে, জিম্বাবুয়ের ডলারের দাম অতিরিক্ত হারে কমে যায়। ফলে তীব্র মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। ২০১০ সালে এর প্রভাবে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়ায় ১৫৭ শতাংশে। তখন মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায় ব্যাপকভাবে। মুদ্রা হয় পরিত্যক্ত কাগজ। এগুলো তখন রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে দেশটি নিজস্ব মুদ্রা জিম্বাবুয়ে ডলার বাতিল করে দেয়। বিকল্প হিসেবে চালু করে বন্ড নোট নামে নতুন মুদ্রা, যা কিছুদিন চলার পর সেগুলোও অচল হয়ে পড়ে।

কয়েক বছর ধরে নগদ অর্থের ঘাটতির কারণে ধীরে ধীরে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশটির অর্থনীতি। এ ছাড়া কৃষিজমি দখলের অনুমোদন দেওয়ার পর উৎপাদন কমতে থাকে ব্যাপকভাবে, যা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দেয়।

একই সঙ্গে জিম্বাবুয়ের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা বছরের পর বছর ধরে চলা দুর্নীতি। শ্বেতাঙ্গদের কাছ থেকে যেসব কৃষিজমি অধিগ্রহণ করা হয়, সেগুলো পরবর্তী সময়ে চলে যায় সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হাতে। রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতা দেখিয়ে এগুলো বাগিয়ে নেওয়া হয়। এমন ব্যক্তির কাছে জমিগুলো চলে যায়, যারা কৃষির বিষয়ে তেমন কিছুই জানেন না; যা দুর্বল করে উৎপাদনব্যবস্থাকে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে জাতীয় উৎপাদনে।

আইএমএফের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০০ সালেই দেশটির জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার নেতিবাচক অবস্থায় পৌঁছে যায়। ওই বছরে প্রবৃদ্ধির হার নেতিবাচক ছিল ১ দশমিক ১ শতাংশ। ২০০৫ সালে তা কমে ১৬ শতাংশে নেমে যায়। ২০১০ সালে তা আরও কমে ১৬ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে যায়। ২০১১ থেকে তাদের প্রবৃদ্ধির হার বাড়তে থাকে। সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় ২০১২ সালে। এরপর আবার কমতে থাকে। গত বছর হয়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। চলতি বছরে ২ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বাস্তবে এটি সম্ভব হবে না বলে আইএমএফ মনে করে।

এদিকে ২০১০ সালে মূল্যস্ফীতির হার সর্বোচ্চ ১৫৭ শতাংশে ওঠার পর থেকে আবার কমতে শুরু করেছে। এখন এই হার ৩-৪ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। মুদ্রা সরবরাহ কমিয়ে এই হার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। যে কারণে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে