বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান

‘সব খাতেই গ্রিন কারখানা তৈরি করতে হবে’

  অনলাইন ডেস্ক

১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রপ্তানি বাণিজ্যের প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশ এখন পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি নির্মাণের দিকে ঝুঁকছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি) সনদপ্রাপ্ত ৬৭টি গ্রিন বা সবুজবান্ধব কারখানা রয়েছে বাংলাদেশে। এ ছাড়া আরও প্রায় ২৮০টি কারখানা ইউএসজিবিসিতে নিবন্ধিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বিভিন্ন খাতে আরও অনেক কারখানা পরিবেশবান্ধব হিসেবে রূপান্তরের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দেশের গ্রিন কারখানার নির্মাণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রুমানা রাখি

আমাদের সময় : বাংলাদেশ কোন প্রেক্ষাপটে গ্রিন ফ্যাক্টরি তৈরির দিকে ঝুঁকছে?

সিদ্দিকুর রহমান : রানা প্লাজাধসের পর ক্রেতাদের স্থানীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে অ্যাকর্ড অ্যালায়েন্স গঠনের পর তারা পোশাক কারখানার পরিবেশ নিয়ে তদারকি শুরু করে। এতে অনেক কারখানা কালো তালিকায় পড়ে। ফলে দেশের পোশাক রপ্তানি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ে। বিদেশে দুর্নামের মুখে পড়ে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের অন্যতম একটি পথ ছিল গ্রিন কারখানা নির্মাণ করা। একই সঙ্গে চালু কারখানাগুলোকে গ্রিন কারখানায় রূপান্তর করা। এর অংশ হিসেবেই দেশে গ্রিন ফ্যাক্টরির যাত্রা শুরু।

আমাদের সময় : ক্রেতাদের শর্তগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন পথে রয়েছে বাংলাদেশ?

সিদ্দিকুর রহমান : ক্রেতাদের প্রায় সব শর্তই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কারখানার পরিবেশ, শ্রমিকদের স্বার্থ এসবই হয়েছে। কিছু বাকি আছে সেগুলো নিয়ে আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করছি। এর মধ্যে শ্রমিকদের স্বার্থে প্রতিটি কারখানায় কমিটি গঠন নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। ক্রেতাদের অন্যতম একটি শর্ত ছিল ট্রেড ইউনিয়ন। এটি একটি সমঝোতার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে।

আমাদের সময় : ক্রেতাদের শর্ত বাস্তবায়নের পর কি তারা পোশাকের দাম বাড়াতে সম্মত হয়েছে?

সিদ্দিকুর রহমান : এটি নিয়ে আমরা এখন দরকষাকষি করছি। ক্রেতাদের শর্তে কারখানা আধুনিকায়ন, সবুজ কারখানা নির্মাণের ফলে পোশাকশিল্প মালিকদের বাড়তি বিনিয়োগ করতে হয়েছে। ঋণের অঙ্ক বেড়েছে। কিন্তু ক্রেতারা পোশাকের দাম বাড়াচ্ছে না। উল্টো সরকার থেকে নানাভাবে আমরা যেসব সহায়তা পাচ্ছি সেগুলোরও ভাগ চাচ্ছে ক্রেতারা।

আমাদের সময় : সবুজ কারখানা থেকে কী সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ?

সিদ্দিকুর রহমান : সবুজ কারখানা নির্মাণের ফলে বিশ্বে বাংলাদেশের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশ নিয়ে যে নেতিবাচক সমালোচনা হতো, এখন এর পাশাপাশি ইতিবাচক আলোচনাও হচ্ছে। ফলে বিশ্বের বড় বড় ক্রেতার পাশাপাশি ভোক্তারাও বাংলাদেশের পোশাকের দিকে ঝুঁকছে। এতে আমাদের রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

আমাদের সময় : উদ্যোক্তাদের গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনে উৎসাহিত করতে আপনারা কী উদ্যোগ নিচ্ছেন?

সিদ্দিকুর রহমান : বর্তমানে গ্রিন কারখানার জন্য করপোরেট ট্যাক্স অন্য কারখানার তুলনায় কম। এটিকে আরও কমিয়ে ১০ শতাংশ করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে সরকারের কাছে। পাশাপাশি গ্রিন ফ্যাক্টরি করতে কম সুদে ঋণ দেওয়ার জন্যও দাবি করা হয়েছে। মালিকরা আরও বেশি আগ্রহী হতো যদি গ্রিন কারখানা স্থাপনের জন্য ঋণের সুদের হার কমানো হতো। কারণ একটি গ্রিন কারখান গড়তে অন্যান্য কারখানার তুলনায় অনেক বেশি বিনিয়োগ করতে হয়। যে কারণে খরচ বেশি পড়ে।

আমাদের সময় : সব খাতেই কি গ্রিন কারখানা স্থাপনের প্রয়োজন?

সিদ্দিকুর রহমান : বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব ধারণাটি এখন বেশ জনপ্রিয়। আবহাওয়া, জলবায়ু ও পরিবেশের সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায়ও (এসডিজি) এ বিষয়ে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে সবুজ কারখানায় জোর আরও বাড়বে। তাই পরিবেশবান্ধব কারখানার সঙ্গে কারখানা সংস্কারের চলমান গতি অব্যাহত রাখা এবং অবকাঠামোগত অন্যান্য সুবিধাও তৈরি করালে দেশের পোশাক খাত আরও বেশি রপ্তানি আয় নিয়ে আসতে পারবে। পাশাপাশি সব খাতেই গ্রিন ফ্যাক্টরি নির্মাণ করতে হবে। তা না হলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে