বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশে দুই রকম অর্থ সংকট

  নাজমুল হুসাইন

২২ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যাংকগুলোয় অর্থ সংকট চলছে। দুই দেশে অর্থ সংকট দুই ধরনের। বাংলাদেশের এটিএম বুথ ভরা টাকা, নগদ টাকারও কোনো সংকট নেই। তবে ব্যাংকগুলোর ভল্টে টাকার সংকট আছে। এই সংকট সমাধানে আমানত সংগ্রহ বাড়ানোর জোর তৎপরতা চলছে। কিন্তু ভারতের ব্যাংকগুলোর ভল্টে পর্যাপ্ত অর্থ আছে। কিন্তু এটিএম বুথ বা ক্যাশে নগদ অর্থের তীব্র সংকট চলছে।

বাংলাদেশে ব্যাংকের টাকা নিয়ে হরিলুট ও আগ্রাসীভাবে ঋণ বিতরণের কারণে তারল্য সংকট হয়েছে। আর ভারতে বছর দেড়েক আগে ৫০০ ও ১০০০ হাজার রুপির নোট বাতিল করার কারণে নগদ অর্থ সংকট দেখা দিয়েছে।

এই সংকটের কারণে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো এখন ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ করতে পারছে না। আর ভারতের ব্যাংক বা এটিএম বুথ থেকে গ্রাহকরা চাহিদা অনুযায়ী নগদ অর্থ তুলতে পারছে না। তবে অনলাইনভিত্তিক লেনদেনে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

ভারতে নগদ অর্থ সংকটের জন্য সে দেশের অর্থনীতিবিদরা ‘নোটবন্দি’কে দায়ী করছেন। ২০১৬ সালে ভারত সরকার ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিল ঘোষণা করে। সেই সময় ব্যাপক হারে সংকট দেখা দেয়। সেই সংকট মোকাবিলায় বাজারে নতুন নোট ছাড়া হয়েছে। কিন্তু সেগুলো এখন পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী গ্রাহকের কাছে গিয়ে পৌঁছতে পারেনি। আর ব্যাংকিং সেবাও ভারতে সেভাবে বিস্তৃতি ঘটেনি। যে কারণে অনেক রাজ্যে এখনো নগদ অর্থের সংকট প্রকট।

ব্যাংকাররা বলছেন, ভারতে এখনো অনলাইন লেনদেনের চেয়ে নগদ অর্থের লেনদেনই বেশি। যে কারণে ভারতের অর্থনীতিতেও নগদ অর্থের চাপ বেশি। হঠাৎ করে ওইসব নোট বাতিল করায় সেগুলো বাক্সবন্দি হয়ে পড়েছে। আবার নতুন যেসব নোট বাজারে ছাড়া হয়েছে সেগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো হয়ে গ্রাহকদের কাছে যাচ্ছে। কিন্তু ভারতের অর্থনীতির একটি বড় অংশ নগদ অর্থনির্ভর বলে ব্যাংকের মাধ্যমে দ্রুত নতুন ছাড়া নোট গ্রাহকদের কাছে যাচ্ছে না।

মূলত ভারতীয় অর্থনীতিতে কালো টাকার প্রভাব কমাতেই সরকার নোট বাতিল করেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নোট বাতিলের কারণে জনগণের ভোগান্তি বেড়েছে এ কথা যেমন সত্যি, তেমনি ভারতের অর্থনীতিতে সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ আগের চেয়ে অনেক বেশি মজবুত হয়েছে। একই সঙ্গে কালো অর্থনীতির প্রভাব কমেছে।

এদিকে নোট বাতিলের প্রতিবাদে মোদি সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এখন অব্যাহত রয়েছে। তারা অর্থের সঞ্চালন ধীরগতিতে করার সমালোচনাও করছে। এদিকে ব্যাংকাররা বলেছেন, যারা ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে লেনদেন করেন তাদের বেশি সমস্যা হচ্ছে না। আজ অর্থ না পেলে কাল পেয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ব্যাংকের বাইরে যাদের লেনদেন বেশি তাদের সমস্যা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাচ্ছে সব ধরনের লেনদেনেই ব্যাংকের আওতায় চলে আসুক। এ কারণে তারা ব্যাংকিং লেনদেনের বাইরে গিয়ে খুব বেশি নগদ অর্থ বাজারে ছাড়ছে না। তবে নোট বাতিলের পর নতুন নোট ছাপার পর অনেক নোট বিনিময় করে বাজারে ছাড়া হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে টাকার সংকট দেখা দিয়েছে। লুটপাটের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে। সেগুলো আদায় হচ্ছে না। এ ছাড়া গত বছরের শেষদিক থেকে ব্যাংকগুলো আগ্রাসী ঋণ বিতরণ করেছে। কিন্তু ওই হারে আমানত বাড়েনি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাংকিং খাতে ঋণপ্রবাহ বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। এর বিপরীতে আমানত প্রবাহ বেড়েছে মাত্রা ১২ শতাংশ। এ ছাড়া ব্যাংকগুলো আমানতের পুরো অর্থ বিনিয়োগ করতে পারে না। আমানতের ৮৪ থেকে ৮৭ শতাংশ ঋণ দিতে পারে। বাকি অর্থ বিধিবদ্ধ আমানত হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখতে হয়। ফলে ব্যাংকগুলোয় টাকার সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে