হাতির শিল্পকর্ম ব্যবসায় লাগাম

  ইশরাতুল জাহান

২২ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৮, ০১:৩০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হাতির শিল্পকর্মের ব্যবসার লাগাম টেনে ধরা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী হাতির বিভিন্ন প্রজাতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাতির শিল্পকর্ম ব্যবসার বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজার চীন ঘোষণা করেছে, তারা এ বছর থেকে এ ব্যবসার লাগাম টেনে ধরবে। এখন থেকে হাতির শরীরের নানা উপকরণ দিয়ে শিল্পকর্ম তৈরির জন্য কোনো হাতি হত্যা করা যাবে না। হাতির স্বাভাবিক মৃত্যু হলে সে হাতির শরীর নানা উপকরণ দিয়ে শিল্পকর্ম তৈরি করা যাবে। সেগুলো দিয়ে ব্যবসাও করা যাবে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবাদীদের চাপে চীন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে থেকে ইউরোপে হাতি হত্যা বন্ধ করা হয়েছে। তবে আফ্রিকার দেশগুলোয় এখনো হাতি হত্যা করে এর শরীরের নানা উপকরণ দিয়ে শিল্পকর্ম তৈরি করা হচ্ছে। এগুলোর বড় বাজার এখন চীন ও ইউরোপ।

বিশ্বে হাতির দাঁতের শিল্পকর্ম বিখ্যাত একটি ঘর সাজানোর উপকরণ। হাতির দাঁত দিয়ে বিভিন্ন মূর্তি, অলঙ্কার, শোপিস, চাবির রিং, ঘড়ির চেইনসহ নানা ধরনের শিল্পকর্ম তৈরি করা হয়। বিশেষ করে বিত্তশালী শ্রেণি এগুলোর প্রধান ক্রেতা। চামড়া দিয়ে ম্যাট, চাদর, রুমালসহ নানা পণ্য তৈরি হচ্ছে। হাতির লেজ দিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের খেলনা। লেজের চুল দিয়ে তৈরি হচ্ছে ঘর সাজানোর নানা উপকরণ। হাতির শরীরের বিভিন্ন হাড় দিয়েও শোপিস ও শিল্পকর্ম তৈরি হচ্ছে।

এগুলোর বড় বাজার ও উৎপাদক হচ্ছে চীনে। এর পরই রয়েছে আফ্রিকার দেশগুলো। ভারতেও সীমিত আকারে এগুলো তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে মৃত হাতির শরীরের নানা অংশ ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে। তবে এগুলোর বড় ক্রেতা ইউরোপের দেশগুলোর ধনাঢ্য ব্যক্তি ও বিদেশি পর্যটকরা। বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলেও এসব শিল্পকর্ম আগে তৈরি হতো। এখন নেই। তবে জাতীয় জাদুঘরে হাতির দাঁতের তৈরি বেশ কিছু শিল্পকর্ম রয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের (ডব্লিউডব্লিউএফ) এক প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ইউরোপের বাজারে হাতির দাঁতের তৈরি পালকি ৩৫০ ডলার, চাবির রিং ৭০ থেকে ১০০ ডলার, কানের দুল ২৫০ থেকে ৩০০ ডলার, মালা ৫০০ থেকে ৭০০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। ইউরোপীয় আদলে তৈরি কুঁড়েঘর বিক্রি হচ্ছে হাজার ডলারে।

হাতির লেজের চুল থেকে তৈরি পরচুলা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ ডলারে। হাতির বিভিন্ন হাড় দিয়ে তৈরি নানা শিল্পকর্ম ৩০০ থেকে হাজার ডলারে বিক্রি হচ্ছে। হাতির হাড়ের বিভিন্ন অংশ টুকরো বা গুঁড়া করে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের শিল্পকর্ম। এগুলোও বেশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

ডব্লিউডব্লিউএফের মতে, হাতির শরীরের নানা অংশ দিয়ে শৌখিন শিল্পকর্ম তৈরি হয় বলে বিশ্বব্যাপী হাতির শরীরের বিভিন্ন অংশের চাহিদা ব্যাপক। এ কারণে হাতি হত্যা করে এর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রিও হচ্ছে বেশ। যে জন্য হাতির প্রজাতির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। হাতিসহ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য বিশ্বব্যাপী ৩৪টি সংস্থা কাজ করছে। তাদের অনুসন্ধানে হাতির দাঁতের তৈরি শিল্পকর্ম বেচাকেনার ১৪৩টি বাজার শনাক্ত করা হয়েছে। এসব বাজারের ওপরও সংস্থাটি নজর রাখছে। হাতির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের তৈরি শিল্পকর্ম এখানে এলে কোথা থেকে এলো, কোথায় তৈরি, হাতিটি কীভাবে মারা গেল এসব তথ্য উল্লেখ করতে হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে হাতির সংখ্যা, এর মধ্যে স্বাভাবিকভাবে মারা যাওয়া ও হত্যা করার তথ্য সংস্থাটি সংগ্রহ করার উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য হাতি আমদানি-রপ্তানি নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। তারা বলেছে, বাণিজ্যিক ব্যবহারের চিন্তা থেকেই হাতিকে হত্যা করা হচ্ছে। চীন ও ইউরোপের দেশগুলো এরই মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে হাতি আমদানি নিষিদ্ধ করেছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে