জেনে নিন শেয়ারের ক্যাটাগরি

  আবু আলী

২২ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শেয়ারবাজারে সব ধরনের শেয়ারে বিনিয়োগ ঝুঁকি এক রকম নয়। একেক ধরনের শেয়ারে ঝুঁকি একেক রকম। আবার সব শেয়ারের মুনাফাও এক রকম নয়। শেয়ারের ক্যাটাগরি অনুসারে ঝুঁকির মাত্রা ও মুনাফার হার নির্ভর করে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক মানদ-, মুনাফা প্রদানের হারের ওপর ভিত্তি করে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করেছে। এগুলো হচ্ছেÑ ‘এ’ ‘বি’ ‘এন’ ‘জি’ ও ‘জেড’ ক্যাটাগরি। প্রতিবছর মুনাফা ঘোষণার পর তাদের ক্যাটাগরি পরিবর্তন হতে পারে।

‘এন’ ক্যাটাগরির কোম্পানি : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর নতুন লেনদেন শুরু হওয়া কোম্পানিকে ‘এন’ ক্যাটাগরির শেয়ার বলে। নিয়মানুসারে পরবর্তী বছরে যথাসময়ে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়। লভ্যাংশের পরিমাণের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে কোম্পানিকে শেয়ার লেনদেন করার সুযোগ করে দেয় স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। কোম্পানিটি লভ্যাংশ ঘোষণা করলে লভ্যাংশের হার অনুযায়ী সেটিকে ‘এ’ অথবা ‘বি’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়। আর কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করা হলে কোম্পনিটির জায়গা হয় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে।

‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানি : কোনো কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দিলে ওই কোম্পানি ‘এ’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। কোম্পানিটি আগে থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে থেকে থাকলে লভ্যাংশের পরও সে ক্যাটাগরিতেই থেকে যায়। আর ‘বি’, ‘এন’ অথবা ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকলে সেখান থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর হয়।

‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানি : কোনো কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দিলে ওই কোম্পানি ‘বি’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। কোম্পানিটি আগে থেকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে থেকে থাকলে লভ্যাংশের পরও সে ক্যাটাগরিতেই থেকে যায়। আর ‘এ’, ‘এন’ অথবা ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকলে সেখান থেকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর হয়।

‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানি : কোনো কোম্পানি বছর শেষে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারকে লভ্যাংশ না দিতে পারে, তাহলে কোম্পানিটিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হয়। ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তি হয় টি প্লাস নাইন। অর্থাৎ ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার কিনলে ১০ দিন পর শেয়ার ক্রেডিট হয়। আবার বিক্রির ক্ষেত্রেও ১০ দিন সময় লাগে।

‘জি’ ক্যাটাগরি : পুঁজিবাজারে ‘জি’ নামে আরও একটি ক্যাটাগরি ছিল। গ্রিনফিল্ড কোম্পানি হিসেবে (উৎপাদন শুরু করেনি এমন কোম্পানি) আইপিওতে আসা কোম্পানিকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হতো। বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট মিলস ২০০৩ সালে গ্রিনফিল্ড কোম্পানি হিসেবে আইপিওতে আসে। এ কোম্পানিটিকে তখন ‘জি’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে এরপর আর কোনো গ্রিনফিল্ড কোম্পানি বাজারে আসেনি।

লেনদেনের সঙ্গে সম্পর্ক : ক্যাটাগরির সঙ্গে লেনদেন নিষ্পত্তির সময় সম্পর্কিত কিছু বিষয় জড়িত। বর্তমানে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘এন’ ক্যাটাগরির শেয়ার লেনদেন টি প্লাস টু পদ্ধতিতে নিষ্পন্ন হয়। অর্থাৎ শেয়ার কেনার তৃতীয় দিনে ক্রেতা তার শেয়ার পেয়ে যান। একইভাবে শেয়ার বিক্রির টাকা পেতেও তিন দিন সময় লাগে। ‘জেড’ ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে টাকা বা শেয়ার পেতে প্রয়োজন ১০ কর্মদিবস। কারণ এই ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন নিষ্পন্ন হয় টি প্লাস ৯ পদ্ধতিতে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে